ওমর ফারুক
শ্রী অনয় চন্দ্র দাশ
আমি জীবনে প্রথম যেই প্রাইমারি স্কুল এ পরতাম সেখানে আজকে যে কোন একটা কারনে গেছিলাম.. যেখান থেকে আমার পথ চলা শুরু যেখান থেকে আমার মধ্যে শিক্ষার আলো ঢুকা শুরু.. সেখানে এতো দিন পর গিয়ে নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারিনি নিজের অজান্তেই চোখের কোনে পানি চলে আসতেছিলো..
আমি সেখানকার সবার লাস্ট ব্যাচের স্টুডেন্ট ছিলাম আমরা মোটেই ছিলাম ৩ জন আমি সাথে ২ টা মেয়ে ছিলো আর আমাদের স্কুলটা এক সময় নাম করা স্কুল ছিলো কিন্তু কোন একটা কারনে স্কুলটা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়.. যখন স্কুলটা বন্ধ হয়ে যায় তখন আমি ক্লাস ২ এ পরতাম ৩ জনেই আর অন্য ক্লাস এ কোন স্টুডেন্ট ছিলোনা ৩ জন ছিলাম ৩ জনেই ক্লাস ২ এ প্লে থেকে ক্লাস ২ হয়তো অনেক দিনেরি মায়া জমে গেছিলো..
আমি আজকে যাওয়ার পর সাথে ৩ জন ছিলো বন্ধু দাদা.. তাদের কে বললাম আমি এখানে পরেছি স্কুল এ জানালা দরজা গুলো নষ্ট হয়ে গেছে. আমি অদেরকে ঘুরে ঘুরে দেখালাম যেখানে বসতাম সেখানে দেখালাম আমি তাদেরকে দেখাচ্ছি আর আমার মন ভেঙ্গে ভেঙ্গে যাচ্ছে.. আসার সময় ভাবলাম আমার মেডাম টাকে একটু দেখে যাই. মেডামের বাড়ি স্কুল থেকে ৫ মিনিট দুরেই তার পর মেডামের বাড়িতেও গেলাম মেডামকে দেখলাম অনেক বয়স্ক হয়ে গেছে দেখে চিন্তে পারেনাই আমি বললাম মেডাম কেমন আছেন..
মেডাম ভালো বললো সাথে চিন্তে না পারাই আমি পরিচয় দিলাম মেডাম আপনার স্কুলের লাস্টের ব্যাচের ৩ জনকে মনে আছে আপনার মেডাম তখন বললো হ্যাঁ মনে আছে মেডাম ২ জনের নাম বলতে পারলেও আমার নামটাই বলতে পারলোনা আমি মেডান কে নিজের পরিচয় বললাম মেডাম আমাকে বললো আরে তুমি তো অনেক বড় হয়ে গেছো আমি বললাম জ্বি ম্যাম..
অনেকক্ষন থেকেই কথা বললাম মেডাম কেও দেখলাম অনেক ইমোশনাল হয়ে গেছে স্কুলের কথা মনে করতেই.. স্কুলটা বন্ধ হওয়ার পর মেডাম তার পর থেকে আর কোন চাকরি করেনি আর আমার মেডামের রিটায়ার্ড হয়ে গেছিলো আমরা থাকা অবস্থাতেই কিন্তু মায়ার টানে আমাদেরকে এক্সট্রা ভাবে ৩ জনকে বেতুন ছারাই পরাইছিলো.. আর কইদিন আগে আমাদের মেডামের হাসবেন্ড মারা যায় ইশ্বর যেনো সর্বদা তার সহায় থাকেন.. যত বড় হচ্ছি তত জীবনটা থেকে আনন্দ হেরে যাচ্ছে..
আর সেই স্কুল আর মেডাম আর স্কুলের খেলাধুলো এগুলা যদি বলি সারাদিন এ শেষ হবেনা আমরা যাই যেখানেই আছি সর্বদা সব সময় যেনো ভালো থাকি এখন তো বড় হয়ে গেছি চাইলেও আর ছোট বেলা ফিরে পাবোনা এটাই প্রকৃতির নিয়ম.. আই লাভ ইউ অতীত

