ওমর ফারুক
চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি:
দুইজনের সংসার বিউটি বেগমের। থাকেন ছোট একটি ঘরে। দুটি বাতি ও একটি ফ্রিজ ব্যবহার করেন তিনি। বিগত মাস গুলোর মত স্বাভাবিক নিয়মে বিদ্যুৎ বিল আসার কথা সামান্যই।
তবে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসের বিলের কাগজ হাতে পেয়ে চক্ষু চড়কগাছ তাঁর। বিল এসেছে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা। ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার দক্ষিণ আইচা থানা এলাকার বাসিন্দা বিউটি বেগম অনেক কষ্টে জীবিকা নির্বাহ করে দিন কাটান তিনি ।
থাকার একটি ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে তাতে একটি মাত্র লাইট (বাল্ব) জ্বালান ও একটি ফ্রিজ ব্যবহার করেন।
বিধবা বিউটি বেগম এর চারটি মেয়ে নিয়ে ছোট্ট এই সংসারটি চালায়। তার এক মেয়ে ঘরে থাকেন তিন মেয়ে বিবাহ দিয়েছেন বেশিরভাগ সময় তিনি জামাই বাড়িতে থাকেন।
যেখানে তার বিগত সময়ে বিদ্যুৎ বিল আসতো ১৫০ থেকে ২০০ টাকা। এবং তার ২০২০ সাল থেকে-২১-২২- ২৩ সাল পর্যন্ত গরে বিদ্যুতের রিডিং আসতো সর্বোচ্চ ৫৫ ইউনিট। হঠাৎ করে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে ২ মাসের বিদ্যুৎ বিল এসেছে ৫ হাজার ২৭৫ টাকা।
যার হিসাব নং ১৭৪০ ও বই নং ৫২১। ওই নারীর বাড়ি ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার দক্ষিণ আইচা থানাধীন নজরুল নগর ইউনিয়নের মৃত সিরাজের স্ত্রী। ছোট মেয়েকে নিয়ে বাড়িতে মাঝেমধ্যে বসবাস করেন তিনি । বেশিরভাগ সময় তিনি মেয়ের জামাই বাড়িতে থাকেন।
হঠাৎ করে বিদ্যুতের এমন অস্বাভাবিক বিলে দিশেহারা তিনি। বিলের কাগজ নিয়ে এ বাড়ি ও বাড়ি করে অস্থিরতায় দিন কাটছে তার। দুই দিন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির দক্ষিণ আইচা সাব জোনাল অফিসে গেলেও কোনও সমাধান মেলেনি তার।
তিনি এর সমাধান দাবি করে ঝামেলামুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষের কাছে । বিউটি বেগম জানান, বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়ার পর থেকে শীত মৌসুমে ঘরে দুটিমাত্র লাইট আর একটি ফ্রিজ ব্যবহার করে আসছি। এর বাইরে কোনও বিদ্যুৎ ব্যবহার করি না।
বিগত সময়ে প্রতি মাসে বিদ্যুৎ বিল আসতো ১৫০ থেকে ২০০ টাকা। তথ্যসূত্রে জানা যায়,জানুয়ারি মাসে মিটারটি অটো পাল্স ও সাদা হয়ে যাওয়ার কারনে ২৪/০২/২০২৪ ইং তারিখে মিটারটি পরিবর্তন করে নেন বিদ্যুৎ অফিস কর্তৃপক্ষ।
এরপর বিদ্যুৎ অফিস তাকে ফেব্রুয়ারি মাসের বিদ্যুৎ বিল ২৩২৪ টাকা ও মার্চ মাসের বিদ্যুৎ বিলসহ তাকে দেওয়া হয়েছে ৫ হাজার ২৭৫ টাকা। প্রতিবেশীদের কাছে এত বিল আসার কথা শুনে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার উপক্রম। তিনি আরো বলেন,মাসের মধ্যে ২০ দিন থাকি মেয়েদের বাড়িতে মেয়েদের আয়ে কোনোরকম সংসার চালায়।
একটা লাইট আর একটি ফ্রিজ চলে এত বিল হয় কেমন করে। বিগত দিনগুলোতে আমার বিদ্যুৎ বিল এসেছে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা। হঠাৎ করে মিটার সমস্যা হওয়ার পর থেকে ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে ৫ হাজার ২৭৫ টাকা বিলের কাগজ হাতে আসার পর চিন্তায় চিন্তায় সমাধান পাওয়ার জন্য সকলের লাছে যাই।
কাগজ নিয়া দুইদিন অফিস গেছি। কোনও কথায় শোনে না অফিস কর্তৃপক্ষ। ৫২৭৫ টাকা পরিশোধ করতে বলছে তারা । আমি গরিব ও বিধবা মহিলা কোন ইনকাম নেই, এত টাকা কেমনে পরিশোধ করি। তোমরা এটার সমাধান করি দ্যাও।’
এ বিষয়ে দক্ষিণ আইচা সাব জোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার আবু সাঈদ আল মোস্তাক বলেন,মিটারের রিডিং অনুযায়ী বিদ্যুৎ বিল হয়েছে।

