ওমর ফারুক

মোস্তাফিজার রহমান জাহাঙ্গীর, ফুলবাড়ি
(কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ

শুক্রবার ১৯ এপ্রিল সকাল সাড়ে নয়টায় বিশ্বের চলমান গ্লোবাল ক্লাইমেট স্ট্রাইকে যোগ দিয়েছে দেশের তরুণ জলবায়ু কর্মীরা।

জলবায়ু সুরক্ষা ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে জীবাশ্ম জ্বালানিতে অর্থায়ন বন্ধ, নবায়নযোগ্য শক্তির সম্প্রসারণ ও টেকসই কৃষিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানায় তরুণ জলবায়ু আন্দোলনকারীরা।

আজ শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) ফুলবাড়ী জিরো পয়েন্টে একশনএইড বাংলাদেশ ও উদয়াঙ্কুর সেবা সংস্থা এর যুব প্ল্যাটফর্ম এক্টিভিস্টা কুড়িগ্রামের সহযোগিতায় আয়োজিত সমাবেশ থেকে দেশ ও বৈশ্বিক বেসরকারি বিনিয়োগ সংস্থা, ব্যাংক এবং বেসরকারি সেক্টরের কাছে এই আহ্বান জানানো হয়।

এই গ্লোবাল ক্লাইমেট স্ট্রাইক থেকে টেকসই ভবিষ্যত নিশ্চিত করতে জলবায়ুর জন্য ক্ষতিকর ও ব্যয়বহুল জীবাশ্ম জ্বালানিতে অর্থায়ন বন্ধ করতে বিশ্ব নেতাদের কাছে দাবি জানানো হয়।

সমাবেশে আন্দোলনকারীরা জানান, উন্নত দেশগুলো জীবাশ্ম জ্বালানিতে অর্থায়নের মাধ্যমে জলবায়ু সংকট সৃষ্টি করছে। তারা নব্য ঔপনিবেশিক শোষণ, যুদ্ধ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের মাধ্যমে এই পৃথিবীকে ধ্বংস করছে। পুঁজিবাদী মানসিকতা নিয়ে সর্বোচ্চ গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনকারীরা জীবাশ্ম জ্বালানিতে অর্থায়নের মাধ্যমে পৃথিবীকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

যেখানে মানুষের চেয়ে মুনাফাই মুখ্য। এটি পৃথিবীতে বাস্তুতন্ত্র এবং জলবায়ুকে মারাত্মকভাবে ধ্বংস করছে। ফলে বিরূপ প্রভাব পড়ছে দক্ষিণের দেশগুলোর তরুণ, কৃষক, নারী এবং প্রান্তিক সম্প্রদায়গুলোতে।

এটি অনুন্নত দেশগুলোর সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায়ের কাছে তাদের পরিবেশগত ঋণ বহুগুণ বাড়িয়ে তুলছে। এই অবস্থায় জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে টেকসই প্রকল্প এবং নবায়নযোগ্য শক্তির ক্ষেত্রে বিনিয়োগের আহ্বান এসেছে গ্লোবাল ক্লাইমেট স্ট্রাইকে।

জলবায়ু সংকট নিরসন, এই বিষয়ে ন্যায়বিচার দাবি ও জনগণকে সচেতন করতে একশনএইড বাংলাদেশ, উদয়াঙ্কুর সেবা সংস্থা, ও এক্টিভিস্টা কুড়িগ্রামসহ ১২টি সংগঠনের চল্লিশ জন তরুণ জলবায়ু কর্মী এই স্ট্রাইকে অংশ নেন।

এই প্রাণবন্ত ও শান্তিপূর্ণ ধর্মঘটের মধ্য দিয়ে তরুণ জলবায়ু কর্মীরা স্লোগান, প্ল্যাকার্ড, চিত্রকর্ম এবং পোস্টার প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে জলবায়ু সুবিচারের দাবি জানান।

এসময় এখনই জীবাশ্ম জ্বালানিতে বিনিয়োগ বন্ধ করতে হবে এই মর্মে ‘ফিক্স দ্য ফাইন্যান্স’, ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করো’, ‘ক্ষতিকারক কৃষি চর্চায় বিনিয়োগ বন্ধ করো’, ‘ক্লাইমেট জাস্টিস নাউ’ এবং ‘জলবায়ু সহনশীল টেকসই কৃষি চর্চায় বিনিয়োগ করুন’সহ ইত্যাদি লেখা ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে অবস্থান নেন স্ট্রাইকে যোগ দেওয়া জলবায়ু আন্দোলনকারীরা।

তরুণ জলবায়ু কর্মী বলেন, ‘আজ আমরা জীবাশ্ম জ্বালানিতে অর্থায়ন বন্ধ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও টেকসই কৃষি চর্চায় বিনিয়োগ বৃদ্ধির দাবিতে লড়াই করছি। বিত্তবানদের মুনাফা ক্ষুধার মানসিকতা আমাদের ব্যথিত করছে। লোভী এই স্বার্থের জন্য আমাদের ভবিষ্যত সংকটে ফেলতে পারি না।

তাই আমরা টেকসই ও নিরাপদ পৃথিবীর দাবিতে একত্র হয়েছি। আমরা জীবাশ্ম জ্বালানিতে অর্থায়নকে অবসান করা এবং নবায়নযোগ্য শক্তি ও জলবায়ু সহনশীল টেকসই কৃষি চর্চায় বিনিয়োগ বাড়ানোয় প্রাধান্য দেয়ার দাবিতে আওয়াজ তুলছি।

এখন কথা বলার সময় নয়, শুধু কর্মের সময়। আমরা এমন এক ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখি যেখানে কোন লোভ এই পৃথিবী ও তার মানুষদের মঙ্গলকে ছাড়িয়ে যেতে পারে না।’ এসময় জলবায়ু সুবিচার নিশ্চিতে উত্তরের দেশগুলোর কাছে দায়বদ্ধতা নিয়ে টেকসই সবুজ বিশ্ব রূপান্তরে প্রযুক্তি ও রিসোর্স বিনিময় করার আহ্বান জানাই।

আলোচনা সভায় যেহেতু বাংলাদেশ বিশ্বের জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর অন্যতম। সেহেতু আমরা জীবাশ্ম জ্বালানিতে অর্থায়ন বন্ধ ও টেকসই সবুজায়ন প্রকল্পে বিনিয়োগ বৃদ্ধির দাবি জানানো হয়। একইসাথে আমরা ফিলিস্তিনে যুদ্ধবিরতির আহ্বান এবং চলমান নৃশংস যুদ্ধ বন্ধের দাবি জানাই।

মানবাধিকার শ্রদ্ধাশীল হিসেবে ফিলিস্তিনে অমানবিক যুদ্ধে অসংখ্য শিশু, নারী ও বৃদ্ধের মৃত্যুতে গভীর সহানুভূতি ও শোক প্রকাশ করছি। একই সাথে আজ আওয়াজ তুলছি যুদ্ধ নয় শান্তি চাই।

এতে বক্তব্য রাখেন, সুইট খান ইনসপিরেটর ফুলবাড়ী, আব্দুর রহিম সদস্য অ্যাক্টিভিস্তা কুড়িগ্রাম।