সম্পাদক
বিজয় কর রতন, মিঠামইন (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জে দিনভর তল্লাশি চালিয়েও শহরের নরসুন্দা নদীতে ছাত্রলীগ নেতা মুখলেছ উদ্দিন ভূঁইয়ার (২৫) লাশ পায়নি ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। এ ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন মিজানের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
তবে পৌরসভা কার্যালয়ের পেছনে নরসুন্দা নদীর ফুট ওভারব্রিজের নিচে আড়াই ঘণ্টা তল্লাশি চালিয়েও মুখলেছের মরদেহ পাওয়া যায়নি। জেলার মিঠামইন উপজেলার কেওরজোড় ইউনিয়নের ফুলপুর গ্রামের কৃষক মকবুল হোসেনের ছেলে মুখলেছ। তিনি কিশোরগঞ্জের গুরু দয়াল সরকারি কলেজ থেকে সম্প্রতি বাংলা বিভাগে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। তিনি নিজ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহভাপতি পদে ছিলেন। এ তথ্য জানিয়ে তাঁর বড় ভাই মিজানুর রহমান বলেন, মুখলেছ শহরের হারুয়া বৌবাজার এলাকার ভাড়া বাসায় থাকতেন। জেলা আদালতের আইনজীবীর সহকারী হিসেবে কাজ শিখছিলেন। ২৯ মার্চ কাছাকাছি এলাকার পাগলা মসজিদে তারাবির নামাজ পড়ে ফেরার পথে নিখোঁজ হন। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও ভাইকে না পেয়ে মিজানুর সদর থানায় ৩১ মার্চ সাধারণ ডায়েরি (নং ১৬৯৮) করেন।
মিজানুরের ভাষ্য, তারা নিজ দায়িত্বে এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছেন। মুখলেছ যে বাসায় থাকতেন, এর কাছাকাছি একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ফুটেজে দেখা গেছে, ২৯ মার্চ রাত ৯টা ৪৪ মিনিটে মুখলেছ হেঁটে বাসায় ফিরছেন। কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখে পেছন থেকে হেঁটে আসছে একই গ্রামের যুবক মিজান। অথচ মিজান হারুয়া এলাকায় থাকে না। মিজানুর বলেন, কিছুদিন আগে ওই যুবকের (মিজান) গোষ্ঠীর সঙ্গে মুখলেছ গোষ্ঠীর মারামারি হয়। এ ঘটনায় মুখলেছদের করা মামলায় সিসি ফুটেজে দেখা যাওয়া মিজানকেও আসামি করা হয়।
এ জন্য তাঁর ধারণা, মিজানই মুখলেছের অপহরণে জড়িত। তবে সম্প্রতি মিজান, তার বাবা সেফুল মিয়া, মিজানের ভাই মারজান ও রায়হানকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। আর পুত্রশোকে মুখলেছের বাবা মকবুল হোসেন স্ট্রোক করেন। মুখলেছের আরেক বড় ভাই আশরাফ আলী বলেন, তাঁকে নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী শনিবার সকালে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে অভিযান চালায়। সেখানে আত্মীয়ের বাড়ি থেকে মিজানকে গ্রেপ্তার করা হয়। মিজানের দেওয়া তথ্যেই নরসুন্দা নদীতে মুখলেছের মরদেহের সন্ধান করা হয়েছিল। কিন্তু পাওয়া যায়নি।
কিশোরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার আবুজর গিফারি বলেন, প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে ডুবুরিরা তল্লাশি করেন। চিহ্নিত জায়গায় যেহেতু লাশ পাওয়া যায়নি, ফলে এখানে অভিযান পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল শেখ বলেন, গ্রেপ্তার মিজান অপহরণ ও খুনের কথা স্বীকার করেছে। তার তথ্যেই নরসুন্দায় তল্লাশি করা হয়। তবে লাশ পাওয়া যায়নি। সে সঠিক স্বীকারোক্তি দিয়েছে কিনা– তা যাচাইয়ের জন্য আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। প্রয়োজনে আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে নেওয়া হবে তাকে।

