ওমর ফারুক
শাহরিয়ার শাকিল, বড়লেখা প্রতিনিধিঃ
মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখার বিভিন্ন হাট বাজারগুলোতে গ্রীষ্মের মৌসুমি ফল বাজারে সাড়ি বেঁধে নিয়ে আসছে চাষীরা। বৈশাখের মাঝামাঝি সময় থেকে জৈষ্ঠ্যমাসের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত এ ফলগুলো বাজারে পাওয়া যায়। পাহাড়ি অধ্যুষিত উপজেলা থাকায় এখানে কাঠাল, লিচু, লেবু , আনারস ও আম মৌসুমের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পাওয়া যায়।
বাজার জুড়ে ফল আর ফল। সকাল থেকে ফলের হাট ক্রেতা বিক্রেতার হাক ডাকে সরগরম। ফলন ভালো হওয়ায় খুশি বাগান মালিকরা। আর ফরমালিন মুক্ত দেশীয় প্রজাতির নানা জাতের ফল পেয়ে ক্রেতারাও আনন্দিত।
এখন উপজেলার ছোট বড় প্রতিটি বাজার জুড়ে জমজমাট ফলের হাট। বাজার জুড়ে এমন রসালো বাহারি ফলে জিবে জল আনা স্বাদের ফল দৃষ্টি কাড়ে সবার।
দোকানিদের নানা জাতের ফলের পসরাই জানান দিচ্ছে এখন চলছে মধু মাস। বড়লেখার হাট-বাজারগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতাদের হৈ-হুল্লুড়ে সরগরম এসব ফলের হাট।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানালেন এখন প্রতিদিনই এসব বাজারে বসছে অস্থায়ী মৌসুমি ফসলের হাঁট। সকাল হতেই চাষিরা নিজ বাগান থেকে পাকা ও আধ পাকা নানা জাতের ফল সংগ্রহ করে গাড়ি বোজাই করে বিক্রির জন্য নিয়ে আসেন স্থানীয় বাজারগুলোতে।
স্থানীয় বাসিন্দাসহ দেশের নানা প্রান্ত থেকে ওখানে ক্রেতারা আসেন কম দামে রাসায়নিক দ্রব্যাদি মিশ্রণ ছাড়াই সু-স্বাদু মৌসুমি ফল কিনতে।
এ উপজেলার ছোট বড় সব হাটবাজারগুলোতে কমবেশি মৌসুমি ফল উঠলেও সবচেয়ে বেশি মৌসুমি ফল বিক্রি হয় বড়লেখা উপজেলা সদরে হাজিগন্জ বাজারে। সপ্তাহে তিন দিন শুক্রবার, রবিবার ও মঙ্গলবার বাজার বার হিসাবে পরিচিত।
সড়কের প্রায় ১ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে রাস্তার দু’পাশেই জমে উঠে মৌসুমি ফলের হাট। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে এই কেনা বেচা। বাজার জুড়ে পসরা সাজানো থাকে আম, কাঁঠাল, আনারস, লিচু, কালো জাম, লটকন, কলা, নারিকেল, কাঁচা তাল, আখ, বেল, লেবু, আমড়া, জাম্বুরা, লুকলুকি,বেলেম্বুসহ কত কি মৌসুমি ফল।
বড়লেখা হাজিগন্জ বাজারের স্থানীয় মৌসুমি ফল বিক্রেতারা জানালেন এবছর আকার ভেদে কাঁচাকাঁঠাল প্রতিপিছ ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা। আনারস প্রতি হালি আকার ভেদে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা।
লিচু আটি ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা। জাম প্রতি কেজি ১২০ থেকে ১৫০ টাকা। স্থানীয় আম হালি ৫০/ ৬০ টাকা। কলা প্রতিছড়া মাঝারি ২১০ থেকে ৩০০ টাকা। নারিকেল জোড়া ৭০ থেকে ১৩০ টাকা। লটকন প্রতি কেজি ৭০ থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

