
আসছে ততোই ক্রেতা-বিক্রেতারা তৎপর হয়ে বিভিন্ন হাটে পশু ক্রয়বিক্রয়ের চেষ্টা করছেন।
গরুর সাইজ ও দামে পছন্দ হলে, ক্রয় করে ফিরছেন বাড়িতে। অপরদিকে কাঙ্খিত দামের অপেক্ষা করছেন এঅঞ্চলের খামারি ও ব্যবসায়ীরা।
রৌমারী প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় স্থায়ী ২ টি পশুর হাট রয়েছে। এর মধ্যে সব থেকে বড় পশুর হাট দেশের উত্তর অঞ্চল কুড়িগ্রামের সীমান্ত ঘেষা রৌমারী সদর হাট। সপ্তাহে পশুর হাট বসে শুক্রবার এবং সোমবারসহ দুদিন।
সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হাজার হাজার পশু ও ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাক-ডাকে সরগরম হয়ে উঠে রৌমারীর পশুর হাট। বেলা বাড়ার সাথে সাথে বৃদ্ধি পেতে থাকে পশু ও ক্রেতা-বিক্রেতার সংখ্যা।
বিভিন্ন জেলা উপজেলা থেকে আসা খামারি হামির উদ্দীন, মুছা মিয়া, জমের উদ্দীন বলেন, ৬ টি গরু নিয়ে আসছিলাম। ২টি বিক্রি করেছি দামেও ভাল পেয়েছেন বলে জানান তিনি। জামালপুর জেলার বকশিগঞ্জ উপজেলা থেকে রৌমারী হাটে গরু কিনতে এসে বলেন, গরুর দাম এবার অনেক বেশি। দেখতেছি, কিন্তু দামে হচ্ছে না।
দামে হলেই কিনব। তিনি আরও বলেন খাবার ও অন্যান্য আনুসঙ্গিক পণ্যের দাম বাড়ায় গরুর দামও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দাবি করছেন ব্যবসায়ীরা। যে ভুষি কিনেছি ৩৫ টাকায় সেই ভুষি এখন ৬০ টাকা।
ভুট্টার গুড়ি, খৈল, পালিশ সবকিছুরই দাম বেশি। যার ফলে গরুর দামও অনেক বেশি। দাম বেশি থাকায় গৃহস্থরা গরু ক্রয়ের ক্ষেত্রে অনেক হিসাব নিকাশ করছেন। শুধু হাট নয় খামারিরা নিজ বাড়িতে বসেও কোরবানির পশু বিক্রি করছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করেও অনেকেই গরু-ছাগল বিক্রি করছেন। তারপরও সরকারের হাট উন্নয়নে কাজ করছেন না কেন সেটি আমার এবং ক্রেতা বিক্রেতাদের প্রশ্ন, উত্তর দেবেন কে।
অপরদিকে বিশেষ সুত্রে জানা গেছে ১৪৩০ বাংলা সনের হাটবাজারা ইজারা চুক্তি দলিলে রৌমারী হাটে রৌমারী মৌজায় ৬ একর ৯০ শতাংশ জমি ইজারাদারের অনুকুলে চুক্তিতে দলিল প্রদান হয়েছিল।
কিন্তু অদ্যাবধি তফশিল ভুক্ত ৬ একর-৯০ শতক জমি ইজারাদারকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। যায়গার অভাবে ক্রেতা বিক্রেতাদের ব্যবসা বানিজ্যে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। হাটের সুষ্ঠ পরিবেশনে বিঘœন ঘটছে বলেও জানা গেছে।
প্রায় সাত একর জমির উপর পশুর হাটটি থাকার কথা, কিন্তু সাত একরতো দূরের কথা দের একরের উপর দাড়িয়ে আছে সাড়ে তিন কোটি টাকার হাট। বাকি প্রায় সাড়ে পাচ একর ভূমি এখন কার দেয়ালের ভেতরে লুকিয়ে আছে জানতে চায় প্রবীনরা।
এদিকে বর্তমান হাট ইজারাদার সাফায়াত বীন জাকির সৌরভ অভিযোগ করে বলেন রৌমারী এই হাটটিতে দূরদূরান্ত থেকে খামারিরা গরু মহিষ ক্রয় বিক্রয়ের জন্য এসে দাঁড়ানোর যায়গা পাচ্ছেন না ফলে হাটের ক্রেতা বিক্রতারা হাটে আসতে অনিহা প্রকাশ করছেন।
তিনি আরও বলেন এভাবে হাট চলতে থাকলে একসময় এ হাটের রাজস্ব হারাবেন সরকার। হাটের জমি বিভিন্নভাবে জবরদখলে নিয়ে স্থাপনা করে রাখলেও নজরে নিচ্ছেন না প্রশাসন, ফলে উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের কাছে হাটের যায়গা উদ্ধারের জন্য জোর দাবী জানাচ্ছি।
এবিষয় হাট ইজারাদার সৌরভ অভিযোগ করে বলেন রৌমারী পশুর হাটে যায়গা যেটি থাকার কথা সেটি বিভিন্নভাবে দখলে নিয়েছেন দখলদাররা ফলে পশু ক্রয় বিক্রয়ে ব্যঘাত ঘটছে।
হাট ইজারাদার আরও বলেন হাটের যায়গা ছিলো প্রায় ৭ একর জমিতে, সেখানে পশুর হাট অবস্থান করছে মাত্র দের একর ভূমিতে। বাকি সাড়ে পাচ একর সরকারি পশুর হাটের যায়গা কোথায়।
আমি প্রশাসনে দৃষ্টি এ্যাকশন করছি পশুর হাটের ৭ একর ভূমি উদ্ধারের জোর দাবী জানাচ্ছি। রৌমারী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা.হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, কোরবানি উপলক্ষে উপজেলায় ২টি হাট রয়েছে। প্রতিটি হাটে আমাদের ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল টিম রয়েছে।
এছাড়া কোন অসাধু ব্যবসায়ী যাতে হরমন বা অন্য কোন খারাপ রাসয়নিক দিয়ে গরু বিক্রয় করতে না পারে সেজন্য প্রাণিসম্পদ বিভাগের নজরদারি রয়েছে বলে জানান তিনি।
সম্পাদক- আবদুর রহমান
Web:https://bangladeshamar.com/ Email: doinikbangladeshamar@gmail.com
Address: F-8, KA-90,JHK WINDCEL, KURIL KAZI BARI,VATARA,DHAKA-1229.
Copyright © 2026 বাংলাদেশ আমার. All rights reserved.