ওমর ফারুক

এইচ এম হাছনাইন, তজুমদ্দিন,ভোলা প্রতিনিধি:


আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোলার তজুমদ্দিনে প্রতিদ্বন্দী প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা জমে উঠলেও ভোটদানে আগ্রহ কম থাকায় কেন্দ্রে সাধারণ ভোটারদের উপস্থিত নিয়ে সংশয় রয়েছে।

এদিকে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারনায় উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের সর্বত্রই সরগরম হয়ে উঠেছে। ঘূর্ণিঝড় রেমালের কারণে তৃতীয় ধাপের ২৯ মে বুধবার তজুমদ্দিন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ স্থাগিত করেন নির্বাচন কমিশন।

স্থগিত হওয়া নির্বাচন আগামী ৯ জুন ভোট গ্রহণ করার ঘোষণা দেন কমিশন। ভোট গ্রহণের তারিখ ঘোষণা দেয়ার পর প্রার্থীরা পুনরায় প্রচার-প্রচারণা শুরু করেন। নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীরা দিচ্ছেন বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি।

পাশাপাশি বিরামহীন প্রচারের মাধ্যমে গান-বাজনা ও হরেক রকম শ্লোগানে মাইকিং করে ভোটারদের মন জয় করার প্রাণপন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন প্রার্থীরা। এবারের নির্বাচনী প্রচারে ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আনা জারী গানের শিল্পীরা। দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত তাদের গানে গানে প্রচারে মুখোর হয়ে উঠে উপজেলার আনাচে-কানাচে।

প্রচার-প্রচারণায় নির্বাচনের পুরো আমেজ সৃষ্টি হলেও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে সুষ্ঠু ভোট নিয়ে সংশয় থাকায় ভোটদানে আগ্রহ কম। যে কারণে ভোটের দিন সাধারণ ভোটারদের কেন্দ্রে উপস্থিত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়িয়েছে।

আর নির্বাচনের দিন বিপুল ভোটার উপস্থিত করতে না পারলে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলো ভোট বর্জন করার কর্মসূচি স্বার্থক হবে। অন্যদিকে ভোটের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাবে।


তবে নির্বাচনে আ’লীগ ছাড়া অন্যান্য দল অংশ না নেয়া আ’লীগ নেতা কর্মীদের মধ্যে আগ্রহ রয়েছে প্রচুর। এখন সাধারণ জনগণ আশংকায় আছেন তারা নিজেরাই না জানি কোনো ঝামেলা বাধাই।

ধান কাটার ভরা মৌসুম হওয়ায় গ্রামের সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ভোটদানে আগ্রহ কম। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটের পাশাপাশি কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত করতে নানা কৌশল নিয়ে আগাচ্ছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা। উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় এবারের নির্বাচনে মোট ১১জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন।

এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৪ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩জন প্রার্থী অংশ নিয়েছেন।


জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী রেজাউল করিম নিরব (কাপ-পিরিজ) বলেন, প্রচার-প্রচারণা করতে গিয়ে সাধারণ ভোটারদের প্রচুর সাড়া পেয়েছি। নির্বাচনে তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হতে পারলে জনগণের বরাদ্দের টাকা নিজের পকেটস্থ না করে উপজেলার উন্নয়নে ব্যয় করবেন বলে জানান।

তিনি আরো বলেন, আমি ইতিমধ্যে মসজিদ-মাদ্রাসায় দান করেছি, গণকবরস্থান করছি, কন্যা দায়গ্রস্থদের সহযোগীতাসহ অসংখ্য সামাজিক কাজ করছি। আগামী ৯ জুন জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করলে আমি ধর্মীয়, সামাজিক ও এলাকার উন্নয়নমূলক কাজ করার মাধ্যমে অসমাপ্ত কাজগুলো সমাপ্ত করার চেষ্টা করবো।

তবে তিনি ভোটের দিন কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে বলেন, আমাদের পাশ্ববর্তী উপজেলা বোরহানউদ্দিনে মাত্র ২৫% ভোটার উপস্থিত হয়েছে আমাদের উপজেলাতেও কেমন উপস্থিত হয় তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। ভোটার উপস্থিত করতে আমরা বিভিন্নভাবে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছি।


নির্বাচনে মোট ভোট কেন্দ্র ৩৬টি। মোট ভোটার ১ লক্ষ ৩ হাজার ৩৮৮জন। পুরুষ ভোটার ৫৩ হাজার ৭৪০, নারী ভোটার ৪৯ হাজার ৬৪৮জন। আগামী ৯জুন ভোটের মাধ্যমে উপজেলাবাসি তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোটদানের মাধ্যমে নির্বাচিত করবেন উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব প্রদান করবেন।