ওমর ফারুক
বারহাট্রা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধিঃ
নেত্রকোনা বারহাট্টা উপজেলায় ১২ জুন বুধবার ত্রাণের চাল চুরির অভিযোগ উঠেছে আসমা ইউনিয়নের ৪ ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের মহিলা মেম্বার রিপনা আক্তারের বিরুদ্ধে। ছাপাখানা থেকে প্রায় ৫০০ নকল স্লিপ ছাপিয়ে এই চাল চুরির কাজটি করেছে।
১৩ জুন বৃহস্পতিবার রিপনা আক্তারের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন আমি আর হাসনাহেনা মেম্বার মঙ্গলবার বারহাট্টা সমাজকল্যাণ অফিসে যাই। ঐ সময় আসমা ইউনিয়নের সাবেক এক মেম্বারের সাথে আমার সাক্ষাৎ হয়। তিনি আমার বিতরণকৃত স্লিপটি দেখতে চায়।
দেখার পরক্ষণে আবার আমার স্লিপটি আমাকে ফেরত দিয়ে দেয়। এই ব্যপারে আমি কিছুই জানি না। সাবেক মেম্বার আবুল মনসুর বলেন গত মঙ্গলবার রিপনা মেম্বারের সাথে আমার দেখা হয়েছিল। সে একটি স্লিপ দিয়ে বলেছিল এটা কি স্ক্যান করা যাবে। আমি বললাম এটা আমার জানা নেই।
আসমা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব শুধাংশু কুমার রায় জানান মোট বরাদ্দ স্লিপের সংখ্যা ৩০৫২ টি। চাল বিতরণ করার পর স্লিপ জমা হয়েছে ৩৪৭২ টি।
৪৪০ টি স্লিপের প্রায় ৪৪০০ কেজি চাল কোথায় থেকে দিলেন জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন ২ নাম্বার স্লিপগুলো আমরা আটকে রেখেছি।
আসমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম খান চন্দু বলেন অবৈধ স্লিপের ঘটনাটি সত্য। তবে আমরা এখনও কাউকে শনাক্ত করতে পারিনি। আমি পরিষদের কয়েকজনকে দায়িত্ব দিয়েছি, জড়িতদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
রিপনা মেম্বারকি তাহলে নির্দোষ এমন প্রশ্ন করলে আরেক ইউপি সদস্য নাজমুল হুদা (ময়না) বলেন, আমরাতো থাকে নির্দোষ বলছি না।পরবর্তীতে তদন্ত করে জানানো হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায় বালতি দিয়ে চাল দেয়ার সময় ১০ কেজি থেকে ২ থেকে ৩ কেজি চাওল রেখে দেয়। তাই অনেকেই একটি স্লিপ ১৫০ টাকায় বিক্রি করে দিচ্ছে। শ্রীরামপুর গ্রামের ছালেমা আক্তার বলেন সারাদিন ইউনিয়ন পরিষদে অবস্থান করেও চাল পাইনি।
মাগরিবের আজানের আগেই ঘরের ভিতর চাল রেখে বলে চাল শেষ হয়ে গেছে। আর মেম্বার নির পোলাপানে একটু পরপরই গাড়ি ভরে চাওল নিয়ে যায়।
চাল ব্যবসায়ী মোঃ ক্বারী মিয়া বলেন আমি ১২০০ কেজি চাওলের স্লিপ কিনেছি। প্রতি স্লিপ ১৬০ টাকা করে দাম দিয়েছি। আরেক ব্যবসায়ী আঃ মান্নান বলেন আমি ১৪ টি স্লিপের চাওল তুলে মেপে দেখেছি ১৪০ কেজির মধ্যে ১০৪ কেজি হয়েছে।

