
মোঃ আব্দুল খালেক, রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের রৌমারী ও কর্ত্তিমারী কোরবানির হাট বাজারে প্রশাসনের মদদে ইজারাদার কর্তৃক সরকারের নিয়মনীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে ক্রেতা বিক্রেতাদের কাছ থেকে সরকারের নিধার্রিত টোলের চাইতে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিপাকে ক্রেতা বিক্রেতারা। সহকারি জেলা প্রশাসকের টোল আদায়ে অনিয়ম দুর্নীতি বিরুদ্ধে ইজাদার সমন্বয়ে আলোচনা সভা হলেও তথইবচ। হাট গুলোর মধ্যে রৌমারী প্রসিদ্ধ হাট-বাজার ও কর্ত্তিমারী হাট-বাজার। এসব হাটে সরকার নিধার্রিত টোলের কোন তালিকা ঝুলানো হয়নি। প্রতিহাটে নিজেদের খেয়াল খুশিমত গরু, মহিষ ও ছাগল ভেড়ার বেচা কেনায় ক্রেতা বিক্রেতার উভয়ের নিকট থেকে অতিরিক্ত টোল আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। টোল আদায়ের রশিদে কোন মূল্য লেখা হয় না। অতিরিক্ত টোল আদায় করে ইজারাদার লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
জেলা প্রশাসনের অনুমোদিত টোল হার অনুযায়ী প্রতি গরু মহিষের শুধুমাত্র ক্রেতার কাছ থেকে ৩৫০ টাকা নেওয়ার নিয়ম থাকলেও এখানে ক্রেতার কাছে নেয়া হচ্ছে ৫০০ টাকা ও বিক্রেতার কাছে নেয়া হচ্ছে ৫০০ টাকা এবং ছাগল ভেড়া প্রতি শুধুমাত্র ক্রেতার কাছ থেকে ১০০ টাকা নেয়ার নিয়ম থাকলেও ক্রেতার কাছ থেকে ২০০ টাকা বিক্রেতার কাছ থেকে ২০০ টাকা নেয়া হচ্ছে। এতে বিপুল পরিমান অর্থ ইজারাদারের পকেটে গেলেও ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে ক্রেতা বিক্রেতারা। অতিরিক্ত টোল ও ক্রেতা বিক্রেতার নিকট থেকে টোল আদায়ে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হলে ও জেলা প্রশাসক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের সংবাদটি দেখে ও মোবাইলের মাধ্যমে অভিযোগ পাওয়ার পর গত ১১ জুন মঙ্গলবার সহকারি জেলা প্রশাসক সার্বিক বরমান হোসেনের উপস্থিতিতে ইজারাদারদের সমন্বয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় এমপির প্রতিনিধি ও আওয়ামী লীগ নেতা শাহ্ নেওয়াজ তুহিদ বলেন, গত ১১ জুন উপজেলা হলরুমে সহকারি জেলা প্রশাসক বরমান হোসেনের উপস্থিতিতে রৌমারী উপজেলার হাট ইজাদার সমন্বয়ে এক আলোচনা সভায় অতিরিক্ত টাকায় প্রতিযোগীতা মূলক হাট নিয়ে এ অনিয়ম দুর্নীতি, নেয়া হচ্ছে ক্রেতা বিক্রেতার উভয়ের নিকট অতিরিক্ত টোল। যাহা গরু প্রতি ক্রেতার কাছে ৫০০ টাকা বিক্রেতার কাছে ৫০০ টাকা, ছাগল ক্রেতার কাছে ২০০ টাকা বিক্রেতার কাছে ২০০ টাকা। অন্যদিকে ধান, পাট, সরিষা, গলি হাটি সাব ইজারা দেয়া হয়েছে। যাহা সম্পন্ন নিয়ম বহির্ভুত। হাটে কোন পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা নাই, নাই ড্রেনেজ ব্যবস্থা। এসব অনিয়ম তুলে ধরে কথা বললে তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অতিরিক্ত টোল আদায়ের বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিলেও রহস্যজনক কারনে তথইবচ। অপরদিকে হাট বাজারের অন্যান্য সমস্যা গুলির ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত পুর্বক প্রতিবেদন দেয়ারও নির্দেশনা দেন।
হাটে আসা ক্রেতা বিক্রেতা গন অভিযোগ করে বলেন, আমরা দুরদুরান্ত থেকে এসে রৌমারী, কর্ত্তিমারি হাটে গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া বেচা কেনা করি। হাট-দুটিতে অতিরিক্ত টোল আদায়ের তদন্ত পুবর্ক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা প্রয়োজন। তা না হলে এমন চলতেই থাকলে ক্রেতা বিক্রেতাগণ ক্ষতিগ্রস্থ হবে। তারা আরোও বলেন, শুনেছি অতিরিক্ত টোল বন্ধের জন্য গত কয়েকদিন আগে একটি আলোচনা সভা হয়েছে। হাটে পুলিশসহ উপজেলা প্রশাসনকে হাটে ঘুরতেও দেখা গেছে। কই আজ হাটে তো আগের মতোই টোল নেয়া হচ্ছে। প্রশাসনতো কোন নিশেধ করেনি অতিরিক্ত টোল আদায়ের। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাহিদ হাসান খান বলেন, অতিরিক্ত টোল আদায়ের কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
সম্পাদক- আবদুর রহমান
০১৩০৩১১২৬৭৬
Web:https://bangladeshamar.com/ Email: doinikbangladeshamar@gmail.com
Address: F-8, KA-90,JHK WINDCEL, KURIL KAZI BARI,VATARA,DHAKA-1229.
Copyright © 2026 বাংলাদেশ আমার. All rights reserved.