ওমর ফারুক
মোহাম্মদ কেফায়েত উল্লাহ, মাটিরাঙ্গা (খাগড়াছড়ি) থেকে :
রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার সাজেক থানার বাঘাইহাট বাজারে আঞ্চলিক দু’টি দলের গোলাগুলিতে এক পরিবহন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। আজ দুপুরের দিকে দীঘিনালা – সাজেক সড়কের বাঘাইহাট বাজারে এ ঘটনা ঘটে ৷
স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাচনকে ঘিরে উপজেলার বাঘাইহাট এলাকায় আঞ্চলিক দু’টি সংগঠনের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। তারই ধারাবাহিকতায় আজ দুপুরের দিকে ঘন্টাব্যাপী গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এ সময় প্রায় ৬ শতাধিক রাউন্ড গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে বলে একটি বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে ।
গোলাগুলির ঘটনায় নিহত শ্রমিক মোঃ নাঈম খাগড়াছড়ি জেলার বৃহত্তম পরিবহন সার্ভিস শান্তি এক্সপ্রেসের সুপারভাইজার বলে জানা গেছে। সে খাগড়াছড়ি জেলার লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার পশ্চিম দূর্গাছড়ি এলাকার মোঃ নজরুল ইসলামের ছেলে।
রাঙ্গামাটি পুলিশ সুপার মীর আবু তৌহিদ জানান, দুপুরের দিকে গোলাগুলির ঘটনায় ১ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছ । পরে সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় তাকে দীঘিনালা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর পুরো বাঘাইহাট বাজারে নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।
ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট -ইউপিডিএফ এক বিবৃতিতে এ ঘটনার জন্য তাদের ভাষায় ঠ্যাঙাড়ে সন্ত্রাসীদের দায়ী করেছে। সন্ত্রাসীদের গুলিতে শান্তি পরিবহণের একজন স্টাফ নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে হত্যকারীদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয, আজ বাঘাইহাট বাজার থেকে ব্যবসায়ীরা মালামাল কিনে উজো বাজার ও মাচালং বাজারে নিতে চাইলে ঠ্যাঙাড়ে বাহিনীর সদস্যরা তাতে বাধা দেয়। এ সময় ব্যবসায়ী ও এলাকার সাধারণ জনগণ বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠে এবং তার প্রতিবাদে পর্যটন সড়কে ও বাঘাইহাট বাজারে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।
কিন্তু ঠ্যাঙাড়েরা এক পর্যাযে বিনা উস্কানিতে জনতাকে লক্ষ্য করে গুলি চালালে শান্তি পরিবহনের এক স্টাফ ঘটনাস্থলেই নিহত হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হয। আহতদের মধ্যে দুলেই চাকমা ও চিক্কো চাকমা নামে দু’জনের নাম পাওয়া গেছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।

