ওমর ফারুক

মোঃশাওন ( মাধবদী-নরসিংদী প্রতিনিধি)

সারাজীবনের সঞ্চিত অর্থ দিয়ে শহরের কোলাহল থেকে কিছুটা দূরে ঘনবসতিশূণ্য প্রাকৃতিক বেষ্টিত সুন্দরতম পরিবেশে,নরসিংদী টু মদন গঞ্জের পুরাতন রেললাইনের পাশে কোটি টাকা ব্যয়ে নিজের শখের বাড়িটি নির্মান করে বসবাস শুরু করেন মোঃমনিরুজ্জামান রিপন।

মানুষের কোলাহল ছেড়ে এসে বসবাস শুরু করতে পারলেও,মানুষের ব্যবহৃত বর্জ্যেই এখন তার জনজীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছে।

জানা যায়,নরসিংদী পৌর শহরের সকল বাসিন্দাদের বর্জ্য এখন তার বাড়ির আঙিনায় ফেলা হয়। উন্মুক্ত স্থানে কোনোরকম ব্যবস্থাপনা ছাড়াই এভাবে রাস্তার পাশে পৌরসভার ময়লা ফেলায় রিপন ও তার পরিবারের সবাই যেমন অতিষ্ঠ তেমনই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করা সকল মানুষই অতিষ্ঠ, ময়লার ভাগাড়ের কারনে রাস্তা ফাঁটল ধরে ভেঙে যাওয়া,বৃষ্টি আসলে রাস্তায় ময়লা আটকে গিয়ে যানজট সৃষ্টি করা সহ বিভিন্ন অসুবিধার কারন হয়ে দাঁড়িয়েছে নরসিংদী পৌরসভার এ ময়লা।

রিপন জানান,তার পৈতৃক নিবাস নরসিংদীর বানিয়াচল,তিনি ১৯৯০ সালে ৬৬ শতাংশ জমি কিনে ২০০০ সালে এ বাড়িটির কাজ ধরেন,যখন কাজ ধরেছেন তখন কোনোরকম ময়লা ফেলা হতো না এ স্থানে।ব্যবসায় হতে জমানো সঞ্চিত অর্থ দিয়ে ধীরে ধীরে এ বাড়িটি নির্মান কাজ শেষ করেন ২০১৭ সালের দিকে।আশেপাশে আরো কোনো বাড়িও নেই,কোলাহল ছেড়ে একা থাকার শখ পূরন হলেও,যখন থেকেই এ বাড়িতে বসবাস শুরু করেন তখন থেকেই পৌর শহরের সকল ময়লা ফেলা হয়।

একদিকে ময়লার দুর্গন্ধ,অন্যদিকে মশা মাছির অতিষ্ঠ, রিপন সহ তার পরিবারের সবাইকেই কিছুদিন পর পর অসুস্থ হতে হয়।বৃষ্টি হলে এ ময়লা তার পুকুরে আসলে, পুকুরের সব মাছ মরে যায়,এর আগে প্রায় ১ থেকে দেড় লক্ষ টাকার মাছ নষ্ট হয়েছে তার।

বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন কিনা, এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি জানান,বিষয়টি নরসিংদী পৌর মেয়রকে কয়েকবার জানানো হয়েছে, কিন্তু তিনি কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না।

এ অসুবিধার কথাটি পৌর মেয়র আমজাদ হোসেন বাচ্চুকে আমরা জানালে,তিনি আমাদের মুঠোফোনে বলেন,আমাদের টেন্ডার হয়ে যাচ্ছে, খুব শিঘ্রিই আধুনিক বর্জ্যেখানা নির্মান হবে এখানে,ফলে আর এ অসুবিধাটা থাকবে না।

রিপন আমাদের আরো জানান,তার পরিবারে ছেলে সন্তান না থাকায়,দুই মেয়ের নামে এ বাড়ি লিখে দিয়েছেন তিনি, এখন মেয়েরা চায় এ বাড়ি বিক্রি করে দিয়ে চলে যেতে।কিন্তু কাস্টমার পাওয়া যাচ্ছে না।