ওমর ফারুক
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
নরসিংদী সদর উপজেলা মাধবদীর প্রাণ কেন্দ্র নতুন বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন হোটেল রয়েল আবাসিক, হোটেল গাজী আবাসিক এবং হোটেল নিউ ঝিনুক আবাসিক সহ আরো কয়েকটি আবাসিক হোটেল রয়েছে। এ হোটেলগুলো শুধুমাত্র হোটেল ভাড়া দিয়েই আয় করা সীমাবদ্ধ নয়,বরং তারা হোটেলের আড়ালে বহু অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত আছে বলে জানা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি আমাদের অডিও রেকর্ডের মাধ্যমে জানান, মাধবদীর বাসস্ট্যান্ড রয়েল হোটেল আবাসিকের সামনে দিয়ে সে গত ১১-ই জুন মঙ্গলবার যাচ্ছিলো,এরই মধ্যে হোটেলের সামনে আসলে একজন জিজ্ঞেস করলো, হোটেলে যাবে কিনা,খুবই নিরাপদ হোটেল, তরুণ যুবক ছেলে রুবেলকে বিভিন্ন প্রণোদোনা দেখিয়ে হোটেলে ঢুকিয়ে ব্লাকমেইল করে তার কাছে থাকা প্রায় ১০ হাজারের মতো টাকা সব রেখে রুবেলকে ছেড়ে দেয়।
ঘটনাটি শুনে আমাদের টিম যাচাই করতে, অভিযানে নামে,একপর্যায়ে পরিচয় গোঁপন ও গোঁপন ক্যামেরা চালু রেখে অভিযান টিম মাধবদীর রয়েল হোটেলের ৩য় তলায় যায় এবং গিয়ে দেখা যায় ৩টি মেয়ে বসে আছে এবং আরো ১ জন এক রুম থেকে কাস্টমার বিদায় করে আসছে।
সরেজমিনে তাদের অপকর্মের প্রমাণ মিলে, তারা অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত। একই সঙ্গে রুবেলের কথাও মিলে যায়,আমাদের গোপন ক্যামেরা চালু, জিজ্ঞেস করা হয় কার কোথায় বাড়ি? কতদিন যাবৎ এ পেশায় আছে? কতদিন যাবৎ মাধবদীতে এ অসামাজিক কার্যকলাপ চলছে?
প্রশ্নের জবাব পেয়ে না পেয়ে সাংবাদিক পরিচয় বুঝার আগেই ২য় তলায় ম্যানেজারের কাছে আসা হয় এবং সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে মালিক কে জিজ্ঞেস করা হয় ,এ অসামাজিক কার্যকলাপ করতে তাদেরকে কারা কারা সহযোগীতা করছে?
ম্যানেজার হেসে দিয়ে বলে এমন কয়েকশত সাংবাদিক আমাদের কাছে আসে যায় কিছু অর্থ দিলেই চলে যায় মাধবদী নরসিংদী ঢাকাসহ আশেপাশের বহু জায়গার সাংবাদিককে আমরা অর্থ দেই!
জিজ্ঞেস করলাম সাংবাদিক অর্থ দিয়ে নিউজ বন্ধ করান কিন্তু আপনাদের কাছাকাছি থানা তাদেরকে কি করেন?জবাবে বলে থানাকেও দেই? জিজ্ঞেস করলে আর কোথায় দেন?.. জবাবে রাজনৈতিক ব্যক্তি থেকে মোটামুটি সবাইকে দিয়েই আমরা চালাই!
এদিকে ম্যানেজার মাসুদকে তার মালিকের সাক্ষাৎকার প্রয়োজন বলে মোবাইল নাম্বার চাইলে সে আমাদের একটি নাম্বার দেয়। ফোন দিলে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সে কথা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে,এবং হোটেলে যারা আছে তাদের সঙ্গে কথা বলতে বলে,এদিকে ম্যানেজার মাসুদ জানায় মালিক ২ দিন পর আসবে, তখন এসে সাক্ষাৎকার নিতে পারবেন।আমরা চলে আসি।
এ বিষয়ে সচেতন মহলের একজন বীরমুক্তিযোদ্ধা আইয়ুব আলী জানান, এ অসামাজিক কার্যকলাপের ফলে সমাজে তরুণ যুবকরা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, মাধবদী থেকে এ অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধ করতে প্রশাসনের সহযোগীতা চাই।
বিষয়টি সম্পর্কে মাধবদীর একটি সামাজিক সংগঠনের নের্তৃত্বস্থানীয় ব্যক্তি জানান,এ অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধ করতে প্রশাসন যদি কোনো ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে আমরা একটা আন্দোলনে নামব, আন্দোলন করে এগুলো উচ্ছেদ করে দেব,সমাজকে সুন্দর সুশৃঙ্খল রাখতে এগুলো বন্ধ করতেই হবে।
নব-নির্বাচিত নরসিংদী সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে গত ২০-ই ফেব্রুয়ারী এক বিবৃতিতে জানান,আবাসিক হোটেল ব্যবসার নামে মাধবদী বাসস্ট্যান্ডের এইসব পতিতালয় গুলো শীঘ্রই জনগণকে সাথে নিয়ে উৎখাত করা হবে — ইনশাআল্লাহ মাধবদীকে পাপ ও অভিশাপ মুক্ত করতে মাধবদী এলাকার সর্বস্তরের জনগনের অংশগ্রহণ ও সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি।
মাধবদী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান নজরুল ইসলাম আমাদের জানান, বাংলাদেশের অনেকগুলো সামাজিক সমস্যার মধ্যে অন্যতম একটি সমস্যা হলো পতিতাবৃত্তি।
মানব সমাজের সবচেয়ে ঘৃণ্য, বর্বর,অমানবিক, জঘন্য ও প্রাচীন বৃত্তি হলো পতিতাবৃত্তি। পতিতাবৃত্তির পক্ষে ধর্মীয় আদর্শ,সামাজিক মূল্যবোধ ও রাষ্ট্রীয় কোন সমর্থন নেই বরং ধর্ম ও সামাজিক মূল্যবোধ তীব্রভাবে এর বিরোধিতা করে থাকে।
তারপরও পৃথিবীতে প্রাচীনতম এই পাপ ব্যবসার অস্তিত্ব অনেক দেশ ও সমাজে বিদ্যমান।
বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মতে, কোন দেশই পতিতাবৃত্তিকে পেশা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে পারেনা। পতিতাবৃত্তি যেমন একটি সামাজিক সমস্যা তেমনি অন্যান্য সমস্যারও জন্ম দেয়।
আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় পতিতাবৃত্তি মারাত্মক ভাবে প্রভাব বিস্তার করে আসছে।
আমাদের আবেগ, ভালোবাসা এবং প্রাণের ছোট্ট একটি শহর মাধবদী শহর। মাধবদী শহরটি আকারে আয়তনে ছোট হলেও এই শহরে বসবাস এক বিরাট আকারের জনসংখ্যার।
মাধবদী শহরটির ভৌগোলিক অবস্থান, সামাজিক ঐতিহ্য শিল্পে বাণিজ্যে এই শহরের গুরুত্ব অন্য যেকোন বড় শহরের তুলনায় কোন অংশে কম নয়।
সেদিক বিবেচনায় আমাদের প্রাণের শহরের উন্নয়ন, শৃঙ্খলা, সৌন্দর্য ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
অতি সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে মাধবদী শহরের প্রাণকেন্দ্র মাধবদী বাসস্ট্যান্ডে কিছু আবাসিক হোটেল গড়ে তোলা হয়েছে। একটি বড় বাণিজ্যিক শহরে মানুষের অসুবিধার কথা বিবেচনা করে আবাসিক হোটেল থাকতেই পারে।
কিন্তু এই হোটেল ব্যবসার নামে কোন অনৈতিক কাজ কোন ভাবেই সমর্থন যোগ্য নয়।
মাধবদীর আবাসিক হোটেল গুলোতে যদি কোন অনৈতিক কাজ চালু থেকে থাকে তাহলে আমি মনে করি সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা,সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এখনই এই সমস্যাটিকে নির্মূল করা উচিত। তা নাহলে আমাদের আগামী প্রজন্মকে এর চরম মূল্য দিতে হবে।

