
আহসানুল হক নয়ন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ক্ষমতার অপব্যবহার ও ফৌজদারি অপরাধ সংগঠিত করায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিজয়নগর থানার তদন্ত কর্মকর্তা, ফাঁড়ির ইনচার্জ ও এস আই এর বিরুদ্ধে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান।

আইজিপি বরাবর অভিযোগকারী হলেন, বিজয়নগর উপজেলার ৮নং বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন ভূইয়া। তিনি ইউনিয়নের ছতরপুর গ্রামের মোঃ আব্দুল হক ভূইয়ার ছেলে।
তিনি স্বারাষ্ট্র মন্ত্রী ও স্থানীয় এমপি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী বরাবারও লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। আইজিপি বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়ার রিসিভ কপিটি এই প্রতিবেদকের কাছে জমা আছেন।

অভিযুক্ত তিন পুলিশ কর্মকর্তা হলেন, বিজয়নগর থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) হাসান জামিল খান, এস আই পিযূষ কান্দি দে, উপজেলার চম্পকনগর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এস আই মো: রবিউল ইসলাম।
লিখিত অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন ভূইয়া বলেন, আমার বিরুদ্ধে অতীতে এন.আই. এক্টের অধীনে (সি.আর, মামলা ছিল। যেটাতে বিজ্ঞ আদালতে হাজির হইয়া জামিন লাভ করি এবং বিজ্ঞ আদালত হইতে পরােয়ানা রিকল পেপার সংগ্রহ করি।

উক্ত পরােয়ানা রিকলের পেপার বিজয়নগর থানার নিকট জমা প্রদান করি এবং থানার অফিসার-ইনচার্জ মােঃ আসাদুল ইসলাম বিষয়টি সম্পর্কে ভালভাবেই আবগত আছেন। আমার বিরুদ্ধে অন্য কোন মামলা-মােকদমায় কোন গ্রেফতারী পরায়ানা নাই।
কিন্তু অত্যান্ত দুঃখ এবং পরিতাপের বিষয় এই যে, অফিসার-ইনচার্জ (তদন্ত) হাসান জামিল খান, (২) বিজয়নগর থানাধীন চম্পকনগর পুলিশ ক্যাম্পের দায়িত্বে এস.আই মােঃ রবিউল ইসলাম এবং (৩) বিজয়নগর থানায় কর্মরত এস.আই পীযুষ কান্তি দে।
গত ২৭.০৫.২০২৪ ইং তারিখ সােমবার দুপুর ১২টায় আমার বাড়ীতে আসিয়া আমার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরােয়ানা আছে বলিয়া মৌখিকভাবে আমাকে জানাই। কিন্তু। কোন গ্রেফতারী পরােয়ানা দেখাইতে পারে নাই।
তথাপি আমাকে জোড়পূর্বক অন্যায় ও অবৈধ উপায়ে আটক করিয়া থানায় নিয়া যাইতে চাহিলে আমি বিজ্ঞ ১ম যুগ্মু জেলা ও দায়রা জজ আদালত কর্তৃক ইস্যুকৃত পরোয়ানা রিকল দেখাইলে বিজয়নগর থানার অফিসার-ইনচার্জ (তদন্ত) হাসান জামিল খান আমার পরিহিত শার্টের কলারে ধরিয়া অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করিতে থাকেন, নাকে-মুখে চর-থাপ্পর মারেন।
শেষ ধাপের উপজেলা নির্বাচনে অঢেল টাকার মালিক নাছিমা মূকাই আলীর পক্ষে কাজ না করে কেন আল জাবেদের নির্বাচন করায় থানায় নিয়া আল-জাবেরে "আনারস" প্রতীকের নির্বাচনী কাজ করিবার স্বাদ মিটাইয়া দিবে বলা মাত্রই চম্পকনগর পুলিশ ফাঁড়ির এস.আই. মােঃ রবিউল ইসলাম তাহার হাতে থাকা পিস্তলের বাট দিয়া আমার কপালে স্বজোরে উপর্যুপুরি আঘাত করিলে তাক্ষনাৎ আমার কপাল ফাঁটিয়া ফিনকি দিয়া রক্ত বাহির হইতে থাকে।
তখন থানার এস.আই. পীযুষ কান্তি দে তাহার হাতে থাকা লাঠি দিয়া আমার শরীরের বিভিন্ন স্থানে স্বজোরে বাইরাইয়া নিলাফুলা জখম করে, আমাকে আহত করে এবং আমাকে প্রাণে মারিয়া ফেলিবার জন্য উদ্দ্যত হয়।
তখন সাথে থাকা অজ্ঞাত নামা অন্যান্য পুলিশ সদস্যগণ আমার বসত ঘরে থাকা আসবারপত্র ভাংচুর করে এবং ওয়ারড্রপের তালা ভাংগিয়া পঁচিশ লক্ষ টাকা চুরি করিয়া নিয়া যায়।
আমার বৃদ্ধ বাবা এবং পরিবারের অন্যান্য লোকজন ও আশেপাশের প্রতিবেশীগণ আমার জীবন বাচাতে আগাইয়া আসিলে উক্ত পুলিশ সদস্যগণ আমার বৃদ্ধ বাবা মােঃ আব্দুল হক ভূইয়াকে গ্রেফতার করিয়া থানায় নিয়া যাই এবং আমাকে মােঃ আল-জাবেরের "আনারস" প্রতীকের নির্বাচনের সকল প্রকার কার্যক্রম প্রচারনার কাজ হইতে বিরত থাকিবার জন্য শাসাইয়া যায় নতুবা এস.আই. মােঃ রবিউল ইসলাম এই বলিয়া হুমকী প্রদান করেন যে, ভবিষ্যৎ পরিণতি আরো ভয়াবহ হইবে।
পুলিশ চলিয়া গেলে আমার আত্মীয় ও প্রতিবেশী শফিকুল ইসলাম (মামুন) সহ অন্যান্য আত্মীয়-স্বজন আমাকে আহত অবস্থায় স্থানীয় বিজয়নগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়া চিকিৎসা করাই। আমি উপরে উল্লেখিত পুলিশ সদস্যগণ কর্তৃক ক্ষমতার অপব্যবহারের বিয়ষয়ে থানার ওসি আসাদুল ইসলামকে জানাইলে তিনি নীরব ভূমিকা পালন করেন।
জেলার পুলিশ সুপারের (হােয়াটসঅ্যাপ) -এ আমার রক্তাক্ত ছবি এবং ডাক্তারী প্রমাণপত্র পাঠাইলেও তিনি উল্লেখিত দায়ী ও অপরাধী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কোন প্রকার আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নাই।
এইখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, চম্পকনগর পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত এস.আই মােঃ
রবিউল ইসলাম উক্ত ঘটনার পর হইতে অগ্নিমূর্তী ধারণ করিয়া আমি, আমার পরিবারভুক্ত আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব এবং আমার রাজনৈতিক অনুসারীগণকে নানারকম ফৌজদারী মামলায় আসামী শ্রেণীভূক্ত করিয়া নির্যাতনের ভয়ভীতি ও হুমকী প্রদান করিতেছে।
তাহার দ্বারা আমি এবং আমার সহিত সংশ্লিষ্ট নিরাপরাধ ব্যক্তিবর্গ যেকোন সময় মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযােগে ফৌজদারী মামলায় আসামী হিসেবে সীমাহীন নির্যাতনের আশংকা করিতেছি। আমি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং পরপর দুইবার বিপুল ভােটে নির্বাচিত স্থানীয় বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান।
আমি একজন সংক্ষুদ্ধ ব্যক্তি হিসেবে কোন প্রকার প্রতিকার না পাইয়া একান্ত নিরূপায় হইয়া আপনার নিকট ন্যায় বিচারের আশায় অত্র দরখান্ত দাখিল করিলাম।
এমতাবস্থায়, আপনার নিকট আকুল আবেদন এই যে, ক্ষমতার অপব্যবহার ও জঘন্য ফৌজদারী অপরাধ সংঘঠিত করায় তিন পুলিশ'সহ সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে যথােপযুক্ত ও প্রযোজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করিতে চেয়ারম্যান অনুরোধ করেন।
সম্পাদক- আবদুর রহমান
Web:https://bangladeshamar.com/ Email: doinikbangladeshamar@gmail.com
Address: F-8, KA-90,JHK WINDCEL, KURIL KAZI BARI,VATARA,DHAKA-1229.
Copyright © 2026 বাংলাদেশ আমার. All rights reserved.