সম্পাদক

নিউজ ডেস্ক:

কোরবানি ঈদের আগ থেকেই কোটি টাকার বংশীয় গরু এবং ১৫ লাখ টাকার ছাগলকাণ্ডে আলোচনার শীর্ষে ‘সাদিক অ্যাগ্রো’। গণমাধ্যম কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, সর্বমহলেই বক্তব্য দিয়ে আলোচিত এবং সমালোচিত হয়ে আসছিলেন অ্যাগ্রোর মালিক ইমরান। কিন্তু যখন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন থেকে রামচন্দ্রপুর খাল উচ্ছেদ করা হচ্ছে, ভাঙা হচ্ছে খাল দখল করে গড়ে তোলা গরুর শেড তখন কোথাও নেই সেই ইমরান। 

উচ্ছেদ অভিযান প্রাঙ্গণে ইমরানের উপস্থিতি না পেয়ে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে বলেন: আমি এই জমির মালিক না, একজন ভাড়াটিয়া। তাই উচ্ছেদ অভিযানে আমার কিছু যায় আসে না। আমি অন্য জায়গায় চলে যাব।

তিনি আরও বলেন: সিটি করপোরেশন যে জায়গাটা খাল বলে দাবি করছে, সেটির মালিক আমি না। এই জায়গার মালিক এই স্থাপনার দ্বিতীয় তলায় থাকেন। তিনি তার জায়গায় স্থাপনা করেছেন, আমি নিচতলা ভাড়া নিয়েছি। মালিক নিজেই দ্বিতীয় তলায় থাকেন। খাল ভরাটসহ যা কিছু বলা হচ্ছে, সবই মালিকের করা। আমার কিছুই না।

ইমরান বলেন, আমি তার জায়গা ভাড়া নিয়েছি নিচতলায়। দ্বিতীয় তলায় যেহেতু তিনি থাকেন এবং সিটি করপোরশন যদি মনে করে যে এটা ভেঙে দেবে, তো ভেঙে দিতে পারে।

ইমরান আরও বলেন: আমি যে ভাড়া নিয়েছি, এটার ডিডের কাগজপত্র আমার কাছে আছে। তাই আমি এটার মালিক, বললেই হবে না। আমি খালসহ ভাড়া নেইনি। উনি স্থাপনা বানিয়েছে, সেই নিচতলায় আমি ভাড়া নিয়েছি।

এদিকে উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া উত্তর সিটির অঞ্চল-৫ এর নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোতাকাব্বীর আহমেদ বলেছেন: আজকের অভিযানে দেখেছেন রামচন্দ্রপুর খালের তীর দখল করে স্থাপনা করা হয়েছে। সেই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়, সবাইকে আইন মেনে ব্যবসা করতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান নয়। আমাদের অভিযান অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে।

তিনি আরও বলেন: সাদেক অ্যাগ্রোর মালিককে ঈদের আগেও আমিরা নোটিশ দিয়েছি। অবৈধ স্থাপনা থাকলে সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। আমরা ঈদের আগে উচ্ছেদ অভিযান করিনি কারণ এর ফলে বাজারে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হতো। আমরা এমনটা চাইনি বলে উচ্ছেদে যাইনি। সেই নোটিশের কোনো ব্যবস্থা নেননি।

বৃহস্পতিবার সকালের দিকে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। অভিযানে ফার্মের কিছু অংশ যা রামচন্দ্রপুর খালের উপরে ছিল তা অভিযানে ভেঙে ফেলেছে কর্তৃপক্ষ। অভিযানের খবর পেয়ে আগে থেকেই কিছু গরু-ছাগল সরিয়ে নেয়া হয়েছে অ্যাগ্রো থেকে।