সম্পাদক

বিজয় কর রতন, মিঠামইন (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: 

কিশোরগঞ্জের চিনি চোরাচালানে সম্পৃক্ততা তদন্তে ছাত্রলীগের কমিটি চিনি চোরাচালান নিয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগে উদ্ভূত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ। এই তদন্ত কমিটিতে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় কমিটির দুই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. হোসাইন আহমেদ সোহান ও কাজল দাসকে।

আগামী ১০ দিনের মধ্যে সরেজমিনে তদন্ত সাপেক্ষে ছাত্রলীগের দপ্তর সেলে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। বুধবার (২৬ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের অফিসিয়াল পেজে দপ্তর সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম পান্ত স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানা গেছে। ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম পান্ত বিজ্ঞপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ছাত্রলীগের সাবেক একাধিক নেতা জানান, সম্প্রতি ভারত থেকে চোরাচালানের মাধ্যমে চিনি এনে দেশে বিক্রি চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন মোল্লা সুমন ও তার স্বজন নাজমুল হীরার বিরুদ্ধে। হীরা নিজেও ছাত্রলীগের কমিটিতে ছিলেন। সুমন-হীরা একা নন, তাদের অনুসারীরাও এই কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছেন।

এ বিষয়ে হোয়াটসঅ্যাপে কথোপকথনের স্ক্রিনশট ফাঁস হয়েছে। সম্প্রতি চোরাচালানের চিনিসহ একটি ট্রাক আটক করে পুলিশ। ট্রাকটি সুমন ও হীরার ঘনিষ্ঠ একজন আনেন বলে খবর চাউর হয়। অথচ মামলার আসামি করা হয় ছাত্রলীগের অন্য এক নেতাকে। ওই নেতার দাবি, চোরাই চিনিবোঝাই ট্রাক ধরিয়ে দিতে তিনি সহযোগিতা করেছেন। দেশে প্রতি কেজি চিনির দাম ১৪০ টাকা হলেও ভারতে দাম ৫০ রুপির মতো। ফলে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে অনেকে চিনি নিয়ে এসে অবৈধভাবে দেশে বিক্রি করেন। এ ছাড়া জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন মোল্লা সুমনের বিরুদ্ধে অটোস্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি, নারী কেলেঙ্কারিতে জড়িতসহ বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে।

সভাপতির পদ ব্যবহার করে সুমন মোল্লা একরামপুর রেললাইন সংলগ্ন গাজী মার্কেটের দুটি বড় দোকানঘর দখল করে সেখানে ব্যক্তিগত অফিস খুলে বসেন। তদন্ত কমিটি গঠনের সংবাদ পেয়ে মার্কেটের মালিক গাজী আবদুল হক বলেন, জোর করে তার মার্কেটের দোকান দখল করে নিয়েছেন সুমন। এ পর্যন্ত এক টাকাও তাকে ভাড়া দেননি। তদন্ত কমিটি আমার কাছে এলে আমি বিচারপ্রার্থী হব।