সম্পাদক
নিউজ ডেস্ক:
কোটা সংস্কার আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে হামলা চালায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পেটুয়া বাহিনী ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। সেই হামলায় সারা দেশে কয়েক শত শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ নিহত হন। আহত হয় কয়েক হাজার।
শিক্ষার্থীদের এই কোটা সংস্কার আন্দোলনের তোপের মুখে পড়ে গত ৫ আগস্ট দেশ থেকে পালিয়ে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে ১৭ সদস্যের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময়ে ক্ষমতাসীন আওয়ালী লীগ সরকারের পক্ষ নিয়ে ছাত্রদের বিরুদ্ধে অবস্থান করার কারণে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে এখন পদত্যাগে বাধ্য হচ্ছেন বিভিন্ন বিশ্ববিদল্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও কোষাধক্ষ্যরা।
সোমবার খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মিহির রঞ্জন হালদার ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সোবহান মিয়া পদত্যাগ করেছেন।
কুয়েটের জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা বিভাগ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সকালে উপ-উপাচার্য ও দুপুরে উপাচার্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ না দেওয়া পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য হিসেবে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মুহাম্মদ মাছুদ উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করবেন।
চট্টগাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করা দুই উপ-উপাচার্য দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন। এদের মধ্যে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক বেণু কুমার দে বছরখানেক আগেই শিক্ষকতা থেকে অবসর নেওয়ায় এ পদ থেকে পদত্যাগের বিষয়টি চিঠিতে উল্লেখ করেছেন। আর প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক মো. সেকান্দার চৌধুরী দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে নিজ বিভাগে শিক্ষকতায় ফিরে যেতে চেয়েছেন।
গতকাল রোববার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আবু তাহের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন। তিনিও নিজ বিভাগে শিক্ষকতায় ফিরে যাওয়ার কথা চিঠিতে উল্লেখ করেছেন। এছাড়া সব হলের প্রাধ্যক্ষ, প্রক্টরিয়াল বডি এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসের প্রশাসক পদত্যাগ করেছেন।
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যানও পদত্যাগ করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্তত ১২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা পদত্যাগ করেছেন। একই সঙ্গে প্রক্টর, প্রাধ্যক্ষসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্বে থাকা শিক্ষকরাও পদত্যাগ করেছেন।

