
নরসিংদীর মাধবদী মহাবিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, ভারপ্রাপ্ত দিয়ে চলবে শিক্ষা কার্যক্রম।
মাহমুদুল হাসান মাহফুজ,নরসিংদী প্রতিনিধি:
বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ এনে অধ্যক্ষ সহ দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের পদত্যাগের দাবিতে নরসিংদীর মাধবদী মহাবিদ্যালয় উত্তাল হয়ে উঠেছে।
মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উত্তপ্ত ছিল কলেজ প্রাঙ্গণ। এসময় শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষ দীলিপ কুমার সহ দুর্নীতিবাজ শিক্ষকদের পদত্যাগের দাবী করেন। অধ্যক্ষ অনুউপস্থিত থাকায় ভারপ্রাপ্ত দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালুর নির্দেশ কলেজ কর্তৃপক্ষেরর।
আন্দোলন রত শিক্ষার্থীরা জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এ কলেজে শিক্ষকদের নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম সহ বৈষম্য হয়েছে। এছাড়া শিক্ষার মান দিনদিন থুবড়ে পড়লেও ব্যবস্থা নেইনি সংশ্লিষ্টজনরা। আমরা এসব ছাটাই করে শিক্ষার মানোন্নয়ন করার দাবী জানাই।
নাম প্রকাশে অনিশ্চুক শিক্ষকরা জানান, ২০১৬ সালে মাধবদী মহাবিদ্যালয়ে এক তদন্ত প্রতিবেদনে প্রকাশ পায় নিয়োগে অনিয়ম হয়েছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের দাপটে কেউ মুখ খোলেনি। এই অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগ পেয়েছেন নয়জন শিক্ষক।
এদের কলেজ জাতীয় করণের পর তিনটি ধাপে অনার্সে শিক্ষক নিয়োগ হয়, এই নিয়োগে এনামুল হক, জহিরুল ইসলাম, কামরুল হক, ফাহমিদা খানম, আব্দুল মজিদ চৌধুরী, মাসুমা আক্তার, শিরিন আক্তার, নজরুল ইসলাম, সফিকুল ইসলাম শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। তাদের নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় ২০১৬ সালে একটি তদন্ত কমিটি করে কলেজ কর্তৃপক্ষ।
ওই তদন্ত কমিটিতে অধ্যক্ষ দীলিপ কুমার চক্রবর্তী সদস্য সচিব ছিলেন। কিন্তু তদন্তে ব্যাপক অনিয়ম তুলে ধারা হলেই ব্যবস্থা নেইনি কলেজ কর্তৃপক্ষ।
পরে তদন্তে বিষয়টি ধরা পড়লেও তাদের চাকুরি স্থায়ী করে কলেজ কর্তৃপক্ষ। আবার যোগ্যতা না থাকলেও তাদের কয়েকজন হয়ে গেছেন বিভাগীয় প্রধান। অনিয়ম করা ৯জন শিক্ষদের মাঝে দুজনের নিয়োগ পরীক্ষায় পাশ নম্বরও ছিল না।
নীতিমালাকে পাশ কাটিয়ে নিয়োগ পাওয়া এই শিক্ষকরাই পড়াচ্ছেন মাধবদী কলেজের শিক্ষার্থীদের। তাদের দাপটে অন্য শিক্ষকরা বেকায়দায়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেয়া ছাত্র-জনতারা দাবি জানিয়েছ বৈষম্যহিন শিক্ষা ব্যবস্থা করা সহ ও দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেন দুর্নীতি মুক্ত করা হয়।
নরসিংদীর বাবুরহাট ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে মাধবদী মহাবিদ্যালয়টি। ২০০৬ সাল থেকে এই কলেজে চারটি বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) কোর্স চালু হয়েছে।
এই চার বিষয়ের শিক্ষক নিয়োগ এবং পরবর্তীতে নিয়মনীতি না মেনে চাকুরী স্থায়ীকরণ, পদোন্নতি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। মাধবদীর ওই কলেজে বর্তমানে উচ্চ মাধ্যমিক এবং স্নাতক পর্যায়ে দুই হাজারের বেশি শিক্ষার্থী পড়ালেখা করছে।
জানা যায়, দেশের উচ্চ শিক্ষা এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৯২ সালে যাত্রা শুরু করে। পরবর্তীতে বিভিন্ন সরকারি কলেজের পাশাপাশি বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উচ্চ শিক্ষা বিস্তারে অনার্স ও মাস্টার্স অধিভুক্তি দেয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।
এরই ধারাবাহিকতায় নরসিংদীতে মাধবদী মহাবিদ্যালয় কলেজটিতে ২০০৬ অনার্স অধিভুক্তি হওয়ার সুপারিশ হয়। তৎকালীন মনগড়া তালিকা দিয়ে পর্যায়ক্রমে শিক্ষকদের চাকরি স্থায়ী করেন কলেজ কর্তৃপক্ষ।
এদিকে তোপের মূখে বর্তমান অধ্যক্ষ দীলিপ কুমার চক্রবর্তী কলেজে উপস্থিত না হওয়ায় কলেজের সিনিয়র শিক্ষক অধ্যাপক মো. কামাল হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব্য দিয়ে অধ্যক্ষের চেয়ার বসিয়ে দেয়া হয়।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শিক্ষা ও আইসিটি অঞ্জন দাশ বলেন, কয়েক দিন ধরে অধ্যক্ষ দীলিপ কুমার চক্রবর্তী কলেজে অনুপস্থিত রয়েছে। এজন্য সিনিয়র শিক্ষক অধ্যাপক কামাল হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব্য দিয়ে কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম আপতত চালু করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এছাড়া কলেজের সকল অনিয়ম ও বৈষম্যের বিরুদ্ধের আইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।
সম্পাদক- আবদুর রহমান
০১৩০৩১১২৬৭৬
Web:https://bangladeshamar.com/ Email: doinikbangladeshamar@gmail.com
Address: F-8, KA-90,JHK WINDCEL, KURIL KAZI BARI,VATARA,DHAKA-1229.
Copyright © 2026 বাংলাদেশ আমার. All rights reserved.