ওমর ফারুক
স্টাফ রিপোর্টার, নরসিংদী:
নরসিংদী পলাশ এমদাদুল উলুম মাদরাসার মুহতামিম মুফতী যুবাইর আহমদ ভৈরবী কর্তৃক একজন ছাত্রকে তার অসহনীয় আচরণে প্রহার করা নিয়ে এই মাদরাসারই শায়খুল হাদীস মুফতী আব্দুর রহিম কাসেমী কতিপয় শিক্ষক-ছাত্র ও স্বার্থান্বেষী মহলকে ব্যবহার করে এলাকা ও জনমনে ধ্রুমজাল সৃষ্টি করেন।
এই বিষয়টা সমাধানের জন্য গত ৩ অক্টোবর পলাশ এমদাদুল উলুম মাদরাসার লাকাবাসী জরুরী মিটিং করেন। মিটিংয়ে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ উপস্থিত সকল মুসুল্লীদের সর্বসম্মতিক্রমে নিম্মোক্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, মাদরাসার মুহতামিম মুফতী যুবাইর আহমদ ভৈরবী নিজেকে ইসলাহ (শুদ্ধকরণ) করার জন্য তাবলীগে একচিল্লা (চল্লিশ দিন) সময় দিতে হবে।
অপরদিকে মুফতী আব্দুর রহিম কাসেমী উদ্ভব পরিস্থিতিতে সমাধানে সহযোগিতা না করে বরং এই সুযোগ ব্যবহার করে পরিবেশ নষ্ট করা এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে কমিটি ও এলাকাবাসীকে বাদ দিয়ে নিজে নিজেই বিভিন্ন মিথ্যার আশ্রয় সহ নানা রকমের ষড়যন্ত্র করে মাদরাসার কর্তা সেজে নিজের স্বার্থ হাসিল করতে চাওয়ার অপরাধে ইসলাহ (শুদ্ধকরণ) করার জন্য তাবলীগে তিন চিল্লা (৪ মাস তথা ১২০ দিন) সময় লাগাতে হবে। যদি এই সিদ্ধান্ত না মানেন তাহলে মাদরাসা থেকে অব্যাহতি পাবেন। আর ৪ মাস সময় লাগালে পরবর্তিতে কমিটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।
মাদরাসার ভিতরে ছাত্রদেরকে নিয়ে বিভিন্ন রাজনীতি এবং আন্দোলন করার জন্য হুমকি ধমকি দিয়ে পরিবেশকে নষ্ট, ঘোলাটে করার অপরাধে মাওলানা মাসুদুর রহমান ফারুকীকে স্হায়ীভাবে মাদরাসা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
মাদরাসার মুতাওয়াল্লী বলেন ‘আমরা এলাকাবাসী চাই মাদরাসা যেন সুন্দর ভাবে আগের মত পরিচালিত হয় এবং এলাকার দলবল নির্বিশেষে সকলেই চান আর কোনো সময় যেন মাদরাসা নিয়ে কোনো ধরণের ষড়যন্ত্র না হয়। যদি কেউ ষড়যন্ত্র করে তাহলে এলাকাবাসী তাকে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্হা আইনীভাবে করবেন।
উল্লেখ্য, ছাত্রের বিষয়টি নিজ থেকে গভর্নিং বডিকে না জানিয়ে উদ্ভব পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় গভর্নিং বডি তার সাথে যোগাযোগ করে তাকে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে এবং ভৈরবীর বিচার করবে বলে তাকে আশ্বাস দেয়ার পর ও তাদের সিদ্ধান্তকে অবজ্ঞা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করে মাদ্রাসা ও আলেম সমাজের মানহানি করায় গভর্নিং বডি ও উপস্থিত সবার সিন্ধান্তে তাকে মাদ্রাসা থেকে বহিস্কার করে এবং পরবর্তীতে কোন ধরণের উদ্ভব পরিস্থিতি তৈরি করে ধ্রুমজাল ধ্রুমজাল সৃষ্টির চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে নিশ্চিত করা হয়।

