ওমর ফারুক

বিজয় কর রতন, মিঠামইন (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ-

আওয়ামী লীগের ক্ষমতার ওপর ভর করে বিগত সময়ে কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার সিংপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলীর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণে ছিল এলাকার নদী, জলমহাল ও অবৈধ ড্রেজারে বালু উত্তোলনের ব্যবসা।

গত ৫ই আগস্ট পটপরিবর্তনের পর সেই ব্যবসায় অর্ধেক ভাগ পাচ্ছেন উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সিংপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র আহ্বায়ক হারুন অর রশিদ। মোহাম্মদ আলী ও হারুন অর রশিদ এই দু’জনে মিলে ফিফটি-ফিফটি শেয়ারে এখন গিলে খাচ্ছেন এলাকার নদী, জলমহাল ও বালু।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সিংপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মইজ উদ্দিন হত্যা মামলার আসামি ছিলেন মোহাম্মদ আলী। কিন্তু সরকারি দল হওয়ায় ক্ষমতার প্রভাবে সেই মামলা থেকে অব্যাহতি পান তিনি।

আওয়ামী লীগের এমন একজন নেতার সঙ্গে বিএনপি আহ্বায়কের ভাগ-বাটোয়ারা করে নদী, জলমহাল ও অবৈধ ড্রেজারে বালু ব্যবসার বিষয়টি এখন সবার মুখে মুখে। এ ছাড়া স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের সহযোগিতা ও আশ্রয় এবং বিএনপি নেতা মইজ উদ্দিন হত্যা মামলার অন্য আসামিদের রক্ষা করার অভিযোগও রয়েছে হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে।

দলের দায়িত্বশীল পদে থেকে হারুন অর রশিদের এসব অপতৎপরতার কারণে তার ওপর ক্ষুব্ধ বিএনপি’র স্থানীয় নেতাকর্মীরা। তারা হারুন অর রশিদের বহিষ্কার দাবি করে উপজেলা বিএনপিকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে স্থায়ী সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার আল্টিমেটাম দিয়েছেন।

রবিবার বিকালে সিংপুর বাজারে ইউনিয়ন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের ব্যানারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন থেকে এ দাবি ও আল্টিমেটাম জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন সিংপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসিরুজ্জামান আসলাম, সাবেক আহ্বায়ক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. মুক্তার উদ্দিন, সাবেক সভাপতি ফরিদ উদ্দিন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মুকসুদুর রহমান শান্তি, ইসহাক মেম্বার, সাকির উদ্দিন, মাওলানা রফিকুল ইসলাম মিয়া, কাওসার মিয়া ও কাইয়ুম মিয়া, সিনিয়র সদস্য তোফায়েল আহমেদ, ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক খায়রুজ্জামান সুমন প্রমুখ।

বিএনপি নেতারা বলেন, দলের শৃঙ্খলা এবং কেন্দ্রীয় বিএনপি’র নির্দেশনা অমান্য করে সিংপুর ইউনিয়ন বিএনপি আহ্বায়ক হারুন অর রশিদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলীকে সঙ্গে নিয়ে নদী ও বিভিন্ন জলমহাল দখল, অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনসহ নানা অপকর্মে লিপ্ত রয়েছেন। তাকে বহিষ্কার না করা হলে দলে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিবে।

ইউনিয়ন বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসিরুজ্জামান আসলাম বলেন, স্বৈরাচার হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে ইউনিয়ন বিএনপি’র অনেক নেতার নামে মামলা হয়েছে। সবাইকে জেল খাটতে হয়েছে। অথচ আহ্বায়ক হারুন অর রশিদ আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে চলায় তার নামে কোনো মামলা হয়নি।

তিনি কোনো আন্দোলন-সংগ্রামেও ছিলেন না। অথচ ৫ই আগস্টের পর তিনি সগৌরবে এলাকায় ফিরে দখলবাজি শুরু করেছেন। সুদিন আসছে দেখে দলের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন। আমরা উপজেলা ও জেলা কমিটিকে বিষয়টি অবহিত করলেও ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।

ইউনিয়ন বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মুকসুদুর রহমান শান্তি বলেন, আহ্বায়ক হারুন ৫ই আগস্ট স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতিকে নিয়ে বিভিন্ন হাটবাজার, ঘাট ও বালুমহাল দখলে নিয়েছেন।

তার বিতর্কিত কর্মকান্ডে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। এ বিষয়ে সিংপুর ইউনিয়ন বিএনপি আহ্বায়ক হারুন অর রশিদ তার বিরুদ্ধে করা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমাকে দল থেকে সরানোর জন্য তারা ষড়যন্ত্র করছে।

আমি আন্দোলন সংগ্রামে ছিলাম বরং যারা সংবাদ সম্মেলন করেছে তারা আন্দোলনে ছিল না।