ওমর ফারুক

মোঃ তারেক মিয়া, শাল্লা(সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতা:-

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার হবিবপুর ইউনিয়নের শাসখাই, মৌরাপুর, আগুয়াই, বিলপুর গ্রামসহ শাসখাই বাজারে বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। 

২৬ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সিনিয়র সচিব পরিকল্পনা  ও উন্নয়ন বিভাগ, বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রনালয়।চেয়ারম্যান বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড,জেনারেল ম্যানেজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সুনামগঞ্জ,নির্বাহি প্রকৌশলী বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সুনামগঞ্জ, এজিএম সাব- জোনাল অফিস শাল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে এ নোটিশ পাঠান তিনি।

নোটিশে শাল্লা উপজেলার হবিবপুর ইউনিয়নের ৪ টি ( শাসখাই, মৌরাপুর, আগুয়াই, বিলপুর)গ্রামে সাধারণ মানুষের জীবন মান উন্নয়নে পল্লী বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদানে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রাহনের জন্য নোটিশ গ্রহিতাসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে বিনিত অনুরোধ করা হয়েছে।অন্যতায় আইন প্রতিষ্ঠার লক্ষে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হয়ে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে। 

জানাযায়,সরকারের প্রায় ৩২কোটি টাকার সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প পাঁচ বছরের আগেই মুখ থুবড়ে পড়েছে। দুই বছর হয় ওই প্রকল্প একেবারে বন্ধ হয়ে আছে। বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় বিপাকে পড়েছে শাল্লার হবিবপুর ইউনিয়নের কয়েক শতাধিক পরিবারের  হাজারো মানুষ।

তিন বছরের বেশি সময় ধরে এসব গ্রামের মানুষ বিদ্যুতহীন অন্ধকারাচ্ছন্ন জীবনযাপন করছেন। সাম্প্রতিক কালের গরমে এই গ্রামগুলোর মানুষের হাঁসফাঁস অবস্থা। কষ্ট দূর করতে নানা জায়গায় ধরনা দিয়েও লাভ হচ্ছে না তাদের।অতছ পল্লী বিদ্যুতের ঘোষণা অনুযায়ী শতভাগ বিদ্যুৎয়াতি উপজেলা শাল্লা।প্রকল্পের তথ্যনুযায়ী ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে প্রায় ৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দেশের বৃহত্তম সৌর সোলার বিদ্যুৎ স্টেশনটি পাঁচ বছরেই অঘোষিত পরিত্যক্ত।

২০২২ সালের বন্যায় এই প্রকল্পের বিদ্যুৎ সরবরাহের খুঁটিসহ অনেক কিছুই ভেসে গেছে,যন্ত্রাংশ হয়েছে বিনষ্ট। এরপর ওই প্রকল্প আর মানুষের কোন কাজে লাগেনি। এই অবস্থায় শাল্লার ৪ গ্রামের মানুষ প্রচণ্ড খরতাপে পুড়ছে। কিন্তু তাদের এই কষ্টের বিষয়টি আমলে নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ।

গ্রাহকদের অনেকে সৌর সোলার ছেড়ে পল্লী বিদ্যুতে সংযোগ পাওয়ার জন্য যোগাযোগ করেন। কিন্তু পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষও তাদের ফিরিয়ে দেয়। পল্লী বিদ্যুৎ জানিয়ে দেয়, যেহেতু প্রকল্পটি পিডিবি’র তারাই এই গ্রাহকদের সমস্যার সমাধান দিতে হবে। এরপর ২০২০ সালের আট অক্টোবর চারশ গ্রামবাসীর স্বাক্ষরসহ এলাকাবাসী জেলা প্রশাসকের নিকট আবেদন করে জানায়, তারা পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ নিতে চায়। এই প্রকল্প থেকে মুক্তি দেওয়া হোক তাদের। তাতেও কোন কাজ হয় নি।

এরপর থেকে নানা জায়গায় ধরণা দিয়েও কোন ফল পান নি ভাটি এলাকার সুবিধাবঞ্চিত কয়েক হাজার মানুষ।

২০২২ সালের প্রলংকরী বন্যার সময় ডুবে যায় এই প্রকল্পের অনেক স্থাপনা। সরবরাহ লাইনের শতাধিক খুঁটি ভেঙে যায়, ভেসে যায়। বন্যার পর আর বিদ্যুৎ দেখেন নি ওই এলাকার মানুষ। অতচ এই অবস্থায় ৪ টি গ্রাম রেখেই ২০২২ শেষের দিকে শতভাগ বিদ্যুতায়িত ঘোষণা দেওয়া হয় শাল্লাকে।