
নিউজ ডেস্ক:
বন্যা পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারি-বেসরকারি, উন্নয়ন ও সহযোগী সব সংস্থাকে সমন্বয় করে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন।
শনিবার সকালে (৫ অক্টোবর) নিউ ইস্কাটনের বিয়াম মিলনায়তনে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা ও পুনর্বাসনে টেকসই কৌশল: প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা ও সমন্বিত উদ্যোগ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা একথা বলেন।
ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহর সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণকেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপকূলীয় অধ্যয়ন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের চেয়ারম্যান ড. হাফিজ আশরাফুল হক (শাহবাজ), বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপকড. মো. শরিফুল ইসলামসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
বৈঠকের শুরুতে ২০২৪ এর বন্যায় আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের ত্রাণ কার্যক্রমের ওপর একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ। সেই সাথে তিনি গোলটেবিল বৈঠকের উদ্দেশ্য তুলে ধরে বলেন, ‘এই বৈঠকের উদ্দেশ্য হলো, বন্যায় আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের করণীয় সম্পর্কে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ গ্রহণ।’
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপকূলীয় অধ্যয়ন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের চেয়ারম্যান ড. হাফিজ আশরাফুল হক (শাহবাজ) বলেন, আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে দুর্যোগের পূর্বে দুর্গত অঞ্চলে ব্যাপকহারে সতর্কতামূলক ভয়েস মেসেজ পাঠাতে পারে। পাশাপাশি দুর্যোগের পর বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে ব্যাপকহারে সোলার প্যানেল বিতরণের পরামর্শ দেন তিনি।
ড. মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, অঞ্চল ভেদে মানুষের বাড়ি-ঘর নানা রকম। তাই পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে দুর্গতদের প্রয়োজন অনুযায়ী গৃহ নির্মাণ করে দেয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান বন্যার প্রস্তুতির ক্ষেত্রে স্থানীয় পর্যায়ে মসজিদের মাইক ব্যবহার করে জনসাধারণকে সচেতন করার পরামর্শ দেন। মো. রেজাউল রাকিব বলেন, সবাই যেন পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘরবাড়ি ও স্থাপনা তৈরি করে, সেই আওয়াজ তুলতে হবে। পাশাপাশি মসজিদের ইমাম, শিক্ষক ও সচেতন নাগরিকদের মাধ্যমে দখলকৃত খাল পুনরুদ্ধারে ভূমিকা রাখতে হবে।
জাওয়াদ ইবনে ফরিদ তার আলোচনায় বন্যাপ্রবণ এলাকার কৃষকদের জন্য বিশেষ অ্যাপ তৈরির পরামর্শ দেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনকে।
ড. আবু রেজা মো. তৌফিকুল ইসলাম বলেন, আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন বিশেষ কর্মী বাহিনী গড়ে তুলে তাদেরকে প্রশিক্ষণ দিতে পারে। বন্যার পূর্বাভাস ঠিকমতো পৌঁছাতে পারলে সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি আট গুণ কমানো সম্ভব। তিনি বলেন, নদীর পানির কারণে বন্যা হয় না। মানুষের ভুলের কারণে বন্যা হয়। এ জন্য মানুষকে সচেতন করতে হবে। সেই সাথে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনকে স্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র তৈরির পরামর্শ দেন তিনি।
ড. মুহাম্মদ মাসুদ বলেন, বন্যা প্রবণতা কমাতে হাওড় অঞ্চলে একেক বছর একেক হাওড়কে বন্যার পানির জন্য নির্ধারণ করা যায়। আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন স্থানীয় লোকজনের সহায়তা নিয়ে ছোট ছোট বাধ তৈরি করতে পারে।
সম্পাদক- আবদুর রহমান
Web:https://bangladeshamar.com/ Email: doinikbangladeshamar@gmail.com
Address: F-8, KA-90,JHK WINDCEL, KURIL KAZI BARI,VATARA,DHAKA-1229.
Copyright © 2026 বাংলাদেশ আমার. All rights reserved.