সম্পাদক
মো. সেলিম মিয়া ,ফুলবাড়ীয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:
পুত্রবধূর সঙ্গে পরকীয়ার জেরে নির্মম ভাবে হত্যার শিকার হয়েছেন ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার রাধাকানাই ইউনিয়নের পলাশতলী নিজপাড়া গ্রামের আঃ রহমানের (গেন্দার) ছেলে আসাদুল ইসলাম (৪৫) । পুত্রবধূর সঙ্গে পরকীয়ার সম্পর্কে লিপ্ত শ্বশুর আসাদুল ইসলামের পরকীয়ায় বাধা দেয় আসাদুল ইসলামের স্ত্রী নাজমা আক্তার। পরকীয়া বাধা দেয়ায় স্ত্রী নাজমাকে এক বছর আগে ডির্ভোস দেন স্বামী আসাদুল ইসলাম ।
নিহত আসাদুলের তিন ছেলে, মামুন হোসেন (৩০), সুজন মিয়া (২৬) শামীম মিয়া (২০) কে নিয়ে ঢাকা থাকেন নাজমা আক্তার। আসাদুলের ছেলে মামুন হোসেন তার স্ত্রীর সঙ্গে বাবার এই অবৈধ সম্পর্কের কথা জানতে পেরে তার স্ত্রী কে বাবা বাড়িতে রেখে আসার সিদ্ধান্ত নেন । পরে মামুন তার স্ত্রী সুন্দরীকে ডিভোর্স দেয় । কিন্তু বাবা এ সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ।
ডির্ভোস হওয়ার পর মামুনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন মামুনের স্ত্রী সুন্দরী বেগম ও মামুনের পিতা আসাদুল ইসলাম। নিহত আসাদুলের মা বলেন, আমার ছেলে আসাদুল ঢাকা গাড়ি চালায় গত সোমবার বাড়িতে আইলে, আসাদুলের সুমুন্দির বউ লাইলী আক্তার আসাদুল স্ত্রী নাজমা ও তার তিন ছেলেকে খবর দিয়ে আনে। গত মঙ্গলবার রাত ৮ টায় সময় আসাদুল মিলের বাজার থেকে বাড়ি আসার সময় রাস্তায় আসাদুলের স্ত্রী ও তিন ছেলে রাস্তায় গতিরোধ করে দেশীয় অস্ত্র, লাঠি দিয়ে শরীরে বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। নিহতের মা বলেন আমার ছেলেকে পূর্বপরিকল্পনা করে মারধর করা হয় ।
নিহত চাচাতো বোন সাজেদা ও স্থানীয়রা বলেন, সন্ধ্যায় ৮টায় সময় চিৎকারের শব্দ শুনে দৌড়িয়ে গিয়ে দেখে তার স্ত্রী ও তিন ছেলে মামুন, সুজন ও শামীম লোহার রড়, লাঠি, দা দিয়ে আসাদুলকে ধান ক্ষেতে ফেলে এলোপাথারি মারধোর করতে দেখে। আমাদের ডাক চিৎকারে বাড়ি আশাপাশে লোকজন এসে আসাদুলকে ঘটনা স্থল থেকে উদ্বার করেন ফুলবাড়ীয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক অবস্থায় অবনতি দেখে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে রের্ফাড করেন।ডাক্তারের পরামর্শে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নেওয়ার পথে দাপুনিয়া নামক স্থানে আসাদুল মৃত্যুবরণ করেন।
এ ঘটনায় ফুলবাড়ীয়া থানা অফিসার ইনর্চাজ মোহাম্মদ রুকনজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় শুনতে পেয়েছি, কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

