
মোঃ আশিকুর রহমান, আজমিরীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
তথ্যপ্রযুক্তির যুগে পিছিয়ে পড়ে রয়েছে আজমিরীগঞ্জের ডাক বিভাগের কর্যক্রম।নতুন প্রজন্মরা চেনে না পোস্টকার্ড। স্বাধীন বাংলাদেশে ডাকের সেবা চালু হয় ১৯৭১ সালের ২০ ডিসেম্বর। দশক দুয়েক আগেও এগুলো সচল ছিল। প্রিয়জনদের কাছে হাতের লেখা চিঠি বন্ধ হওয়ার পর থেকেই কমেছে বিভাগটির গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা।
লালবর্ণের ডাকবাক্সগুলো প্রায় হারিয়ে গেছে। কাঁধে খাকি রঙের বস্তা নিয়ে গ্রামীণ পথে ডাক হরকরার ছুটে চলার দৃশ্য এখন আর চোখে পড়ে না। পিয়নদের চিঠিপত্র, মনিঅর্ডার নিয়ে বাড়ি বাড়ি যেতে দেখা যায় না। ডাকঘরে খাম, পোস্টকার্ড, ডাকটিকিট বিক্রি কমে গেছে। বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তির যুগে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অগ্রগতি ও উন্নয়নের প্রতিযোগিতায় অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে ডাক বিভাগ। ।
চিঠি, পার্সেল, মানি অর্ডার, ডাকঘর সঞ্চয়, বেতার, টিভির লাইসেন্স, মোটরগাড়ির লাইসেন্স ফি যেগুলো ডাকঘরের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল, সেগুলোর বেশিরভাগই বলতে গেলে প্রায় হাতছাড়া হয়েছে বিভাগটির। এখন ব্যক্তিগত চিঠি লেখা হয় মোবাইলের শর্ট মেসেজ সার্ভিসে (এসএমএস বা টেক্সট), হোয়াটস অ্যাপ ও মেসেঞ্জারে, ইলেকট্রনিক মেইলে। পার্সেলের কাজ বেশি হয় বেসরকারি সংস্থাগুলোর কুরিয়ার ও পার্সেল সার্ভিসে। মানি অর্ডারের কাজ বেশি হয় মোবাইল ব্যাংকিংয়ে। ডাকঘরে এক সময় সঞ্চয়ের পাসবই ছিল। এখন সঞ্চয় চলে গেছে ব্যাংকে।
আজমিরীগঞ্জে উপজেলার ডাক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী উপজেলার আওতাধীন ৬টি টি পোস্ট অফিস রয়েছে এর মধ্যে ৪টি তে ই সেন্টার রয়েছে। সব গুলিতে কার্যক্রম চলে, আগের মত ব্যাক্তিগত চিঠি আদান প্রধান হয় না, এখন অফিসিয়াল চিঠিপত্র আদান প্রদান হয় এবখ অললাইনের কার্যক্রম গুলি চলে তবে জলসুখা ইউনিয়নের পোস্ট অফিস অসচল অবস্থায় রয়েছে প্রায় বাড়িতে রেখে কার্যক্রম চলে। এবং অন্যান্য অফিসের গুলোর তুলোনায় ডাক বিভাগ পিচিয়ে রয়েছে।
সচেতন মহলের লোকজনের সঙ্গে আলোচনা করলে তারা জানান আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির উৎকর্ষের যুগে টিকে থাকতে হলে ডাক বিভাগকেও আমূল পরিবর্তন করতে হবে।যেমন ই-মেইল, কুরিয়ার সার্ভিসসহ বেসরকারি পর্যায়ে পরিচালিত সেবাগুলোর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে কীভাবে অনেক পুরনো প্রতিষ্ঠানকে পুনরুজ্জীবিত করা যায়, সেই পথ ও উপায় খুঁজে বের করতে হবে। সঠিক ও যুগোপযোগী পরিকল্পনা, ডিজিটাল সামগ্রীর ব্যবহার, প্রশিক্ষিত জনবল নিয়োগ, নিজস্ব মোবাইল ব্যাংকিং সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছানো, প্রত্যন্ত অঞ্চলের অফিসগুলোর সংস্কার, বিদ্যুৎহীন এলাকায় সৌরবিদ্যুতের ব্যবস্থা, দ্রুত চিঠির আদান-প্রদানের ব্যবস্থা করাসহ যুগপোযোগী উদ্যোগ গ্রহণ আবশ্যক।
এই বিষয় নিয়ে আজমিরীগঞ্জ উপজেলার পোস্ট মাষ্টার বাদল কৃষ্ণ ব্যানার্জিরব সঙ্গে ফোনে আলাপ করলে তিনি বলেন আজমিরীগঞ্জ উপজেলার ডাক বিভাগের আওতাধীন ৬টি টি পোস্ট অফিস রয়েছে এর মধ্যে ৪টি তে ই-সেন্টার রয়েছে। সব গুলিতে কার্যক্রম চলে, আগের মত ব্যাক্তিগত চিঠি আদান প্রধান হয় না, এখন অফিসিয়াল চিঠিপত্র আদান প্রদান হয় এবং এখন অললাইনের কার্যক্রম গুলি চলে তবে অন্যান্য অফিসের গুলোর তুলোনায় ডাক বিভাগ পিছিয়ে রয়েছে।
সম্পাদক- আবদুর রহমান
Web:https://bangladeshamar.com/ Email: doinikbangladeshamar@gmail.com
Address: F-8, KA-90,JHK WINDCEL, KURIL KAZI BARI,VATARA,DHAKA-1229.
Copyright © 2026 বাংলাদেশ আমার. All rights reserved.