সম্পাদক
বিজয় কর রতন, মিঠামইন (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে এক মাদ্রাসার সুপারের বিরুদ্ধে একই প্রতিষ্ঠানের এক নারী শিক্ষককে কুপ্রস্তাব ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মাদ্রাসার শিক্ষার্থী-অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। গত বৃহস্পতিবার (২৮ অক্টোবর) ওই শিক্ষিকা মিঠামইন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট লিখিত অভিযোগসহ মিঠামইন থানাও অভিযোগ করেছেন। অভিযুক্ত মো. আমিনুল হক মিঠামইন উপজেলার গোপদীঘি ইউপির শ্যামপুর দারুল উলুম দাখিল মাদ্রাসা সুপার পদে কর্মরত এবং একই মাদ্রাসার শিক্ষক ওই নারী।
ওই নারী জানান, মাদ্রাসায় যোগদানের পর থেকে সুপার আমিনুল হকের লালসার শিকার আমি। বিভিন্ন সময় আমাকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন তিনি। কিন্তু আমি তার সব কুপ্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় তিনি আমার প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছেন। এমনকি আমাকে কুপ্রস্তাবে রাজি করতে না পারায় আমার স্বামীকে তালাক দিয়ে সুপারকে বিয়ে করতেও নানামুখী চাপ দিয়েছেন তিনি। আমাকে কোনোভাবেই তার উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে না পেরে আমার স্বামীকে জামায়াত-শিবিরের ট্যাগ লাগিয়ে হয়রানিরও অনবরত হুমকি দিয়ে আসছিলেন।
ওই নারী আরও জানান, গত জুলাই মাসের ৭ তারিখে আমাকে একা পেয়ে অফিস কক্ষে শ্লীলতাহানি করে। এ সময় তার চিৎকারে অন্য সহকর্মীরা তড়িৎ চলে আসলে তিনি দ্রæত সরে পড়েন। এসব বিষয়ে কারও কাছে মুখ খুললেই চাকরি চলে যাবে বলে হুমকি ধামকি দিয়ে আসছিলেন ওই সুপার। সর্বশেষ নিরূপায় হয়ে নিজের মান-সম্মানের নিরাপত্তার জন্য নারীলিপ্সু সুপার আমিনুল হকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ থানায় ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিল করেছেন। এ সমস্ত ঘটনা তৎকালীন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আছিয়া আলমের কাছে অভিযোগ শেষে সুপারের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নিতে গিয়ে তিনি আমার ওপর আরও ক্ষিপ্ত হয়ে বিভিন্নভাবে হয়রানিসহ হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন। এ ঘটনার আমি সঠিক বিচার চাই।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সুপার আমিনুল হকের সঙ্গে ফোনে কথা হলে তিনি এ প্রতিনিধিকে বলেন, ‘এগুলো সবই আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা অপবাদ। আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করতেই করা হয়েছে। এখন তারাই আমার সঙ্গে আপোষ করার চেষ্টা করছে, গ্রামবাসী নয়। মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিউল আলম বলেন, ‘অভিযোগ পেয়ে তদন্তেরজন্য দেওয়া হয়েছে। তদন্তসাপেক্ষ খুব দ্রæত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
মিঠামইন উপজেলা নির্বাহী অফিসার খান মো. আব্দুল্লা আল মামুন বলেন, ‘এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

