
০৪ নভেম্বর ২৪ থেকে নদীতে ইলিশ মাছ শিকারে নামছে ভোলা জেলার প্রায় ৩ লক্ষাধিক জেলে। দীর্ঘ ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার পর ০৩ নভেম্বর ২৪ রোববার রাত ১১.৫৯ মিনিটের পর থেকেই শুরু হবে মাছ ধরা। তবে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও জেলেরা আশায় বুক বেধে নামবে নদীতে। মা ইলিশের প্রজনন রক্ষায় ভোলা জেলার মেঘনার অভয়াশ্রম এলাকায় নিষেধাজ্ঞা শেষে ইলিশসহ সব ধরণের মাছ আহরণ শুরু হবে। জেলা ও উপজেলা টাস্কফোর্সের অভিযানে ১২ অক্টোবর রাত থেকে ২২ দিন নদীতে ইলিশ আহরণ বন্ধ রেখেছে।
জেলা মৎস্য বিভাগ জানায় , ভোলা জেলার মেঘনার প্রখয় ১৫০ কি.মি. অভয়াশ্রম এলাকায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ ৩ নভেম্বর রাত ১১.৫৯ মিনিটের পর। সেজন্য নদীতে মাছ আহরণের জন্য জেলেরা প্রস্তুতি নিচ্ছে। ভোলা জেলার ইলিশা, বোরহানউদ্দিন উপজেলা, দৌলতখান উপজেলা, তজুমদ্দিন উপজেলা, লালমোহন উপজেলা, চরফ্যাশন উপজেলা, মনপুরা উপজেলার জেলেরা মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞায় ছিলেন। তবে মা ইলিশ রক্ষায় সরকার যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে তা জেলেরা সফলভাবে বাস্তাবায়ন করেছে। জেলা টাস্কফোর্সের দাবী এবছর মা ইলিশ রক্ষায় সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত ছিল।
জেলা মৎস্য অফিস জানায়, অভিযানকালে অসাধু জেলেদের আটক করে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ও ১ লাখ ৮৯ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এবার জেলা টাস্কফোর্স ৫০৩ টি অভিযান , ৬৫টি মোবাইল কোর্ট, ২১২টি মামলা ও ১৮২ জনকে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে। আর ১৫ লক্ষ ১৮৫ মিটার কারেন্টাল জব্দ করে পোড়ানো হয়েছে এবং ২৪৩১ মে.টন ইলিশ আটক করে গরিব- দুস্থ ও এতিমদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।
ভোলা জেলার মেঘনা উপকূল এলাকায় অধিকাংশ মানুষ মৎস্য আহরণ ও কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। জেলেরা অধিকাংশই গুল্টিজাল ব্যবহার করে ইলিশ সহ অন্যান্য মাছ আহরণ করে। কিন্তু এক শ্রেণীর অসাধু জেলে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মা ইলিশ নিধন করায় তাদের আটক করে মামলা ও বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করা হয়েছে। ২২দিন বেকার থাকার পর নৌকা ও জাল মেরামত করে জেলেরা মাছ ধরার প্রস্তুতি নিয়েছে।
বিভিন্ন সূত্রে আরো জানা যায়, এই ২২ দিনের ইলিশ মাছ নিধন নিষেধাজ্ঞার ভিতরে জেলে ভিজিএফ চাল অনেক জেলে পাননি এবং কেউ পেলেও সরকার নির্ধারিত যত কেজি চাল পাওয়ার কথা তারা তা পাননি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তজুমদ্দিন উপজেলার একাধিক জেলে জানায়, সরকার পরিবর্তন হওয়ার পর আমাদের কার্ড জেলে কার্ড থাকা সত্ত্বেও আমাদেরকে চাল দেওয়া হয়নি এবং আমাদের কার্ড দিয়ে বিএনপির লোকজন তাদের লোকদের দিয়েছে।
তজুমদ্দিন উপজেলার আরেকজন জানান, আমাকে চাল দেওয়া হলেও আমি পরিষদ থেকে বের হতেই না হতে বিএনপির একজন সাবেক ইউপি সদস্য আমার থেকে চাল কেড়ে নিয়ে যান।
সম্পাদক- আবদুর রহমান
Web:https://bangladeshamar.com/ Email: doinikbangladeshamar@gmail.com
Address: F-8, KA-90,JHK WINDCEL, KURIL KAZI BARI,VATARA,DHAKA-1229.
Copyright © 2026 বাংলাদেশ আমার. All rights reserved.