কেফায়েত উল্লাহ
বিএনপির নেতাকর্মীরা এমন কাজ করবেন না যেটা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা করেছে বলে দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহবান জানালেন খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সহ-কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক ওয়াদুদ ভূঁইয়া। আজ দুপুর ২.০০ ঘটিকার দিকে জেলার বৃহত্তম ব্যবসা কেন্দ্র মাটিরাঙ্গা বাজারের হাসপাতাল মোড়ে উপজেলা ও পৌর বিএনপির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সম্প্রীতি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দানকালে এ সতর্ক বার্তা উচ্চারণ করেন তিনি।
মাটিরাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি বাহাদুর খান’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্প্রীতি সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সহ-কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির প্রধান উপদেষ্টা জাকিয়া জিনাত (বিথী)।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওয়াদুদ ভূঁইয়া বলেন, হাসিনা এবং তার দলের বড় বড় নেতাদের মধ্যে দেশপ্রেম বলতে কিছুই ছিলোনা। যদি দেশপ্রেম থাকতো তাহলে লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মী রেখে হাসিনা কিভাবে ভারতে পালিয়ে যায় ? ছাত্রজনতা হাসিনার পদত্যাগ চেয়েছে কিন্তু সে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে।
নেতাকর্মীদের কথা একবারও ভাবেনি। সে তো পদত্যাগ করে বলতে পারতো, আমাকে জেল খানায় পাঠিয়ে দিন। কিন্তু না, সে তা বলেনি। সে তার ষোলো বছরের অপকর্মের কথা জানে। সে জন্যে, সে চুরি করে ভারতে পালিয়েছে। সুতরাং, বিএনপির কেউ হাসিনা ও তার নেতাকর্মীদের মতো কাজ করবেন না।
ওয়াদুদ ভূঁইয়া বলেন, ওয়ান ইলেভেনের সরকার বেগম জিয়াকে যখন বিদেশে চলে যেতে বলেছিল তখন তিনি বলেছিলেন, দেশ ছেড়ে আমি কোথাও যাবো না। বিদেশে আমার কোনো ঠিকানা নেই। মরতে যদি হয় আমি দেশেই মরবো। এই দেশই আমার একমাত্র ঠিকানা।
সমাবেশে দলের জেলা কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি প্রবীন চন্দ্র চাকমা, সহ-সভাপতি আবু ইউসুফ চৌধুরী, নাসির আহাম্মদ চৌধুরী, জেলা সেক্রেটারি এম এন আবছার, জয়েণ্ট সেক্রেটারি এডভোকেট আবদুল মালেক মিণ্টু, মোশাররফ হোসেন, অনিমেষ চাকমা রিংকু, সাংগঠনিক সম্পাদক আ. রব রাজা প্রমুখ বিশেষ অতিথি হিসেবে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন।
বিশেষ অতিথি বক্তব্যে বক্তারা বলেন, খুনী হাসিনা এবং তার দল ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ গুম-খুনসহ নিজেদের অপকর্মের জন্য দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। খুনী হাসিনার দোসররা এখন সহাবস্থানের কথা বলছে। বক্তারা প্রশ্ন করেন, গত ষোলো বছর ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগারদের এই অনুভূতি কোথায় ছিলো ?
বক্তারা আরও বলেন, গণ বিপ্লবের জোয়ারে উৎখাত হওয়া কোন ফ্যাসিস্টের ফিরে আসার রেকর্ড পৃথিবীর ইতিহাসে নেই। খুনী হাসিনা দলবলে আবারও দেশের শাসন ক্ষমতায় ফিরে আসার উস্কানি দিচ্ছে।
পালিয়ে যাওয়া হাসিনার উস্কানিতে পা না দেয়ার জন্য আওয়ামী লীগের সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের প্রতি আহবান জানান তারা। বাংলার মাটিতে শেখ হাসিনার কবরও হবেনা, ভারতের মাটিতেই তাকে কবর দিতে হবে বলে সতর্ক করে দেন সমাবেশের বক্তারা।
সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, আওয়ামী লীগের ইতিহাস হত্যার ইতিহাস। আওয়ামী লীগের হত্যা ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য সবাইকে গ্রামে-গঞ্জে ছড়িয়ে পড়তে হবে।
এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন জেলা মহিলা দলের সেক্রেটারি শাহেনা আকতার, জেলা যুবদলের সভাপতি মাহবুবুল আলম সবুজ, ছাত্রদলের জেলা সেক্রেটারি জাহিদুল আলম, মাটিরাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি শাহজালাল কাজল, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া প্রমুখ।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম’র সঞ্চালনায় পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহীম পাটোয়ারী, সাংগঠনিক সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন, উপজেলা যুবদলের সভাপতি জয়নাল সরকার, যুবদল নেতা ওমর ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি সজল পাটোয়ারীসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের জেলা ও উপজেলা নেতৃবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে তবলছড়ি, তাইন্দং, বড়নাল, গুমতি, বেলছড়িসহ পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা রঙবেরঙের ফেস্টুন ও ব্যানার নিয়ে খণ্ড খণ্ড মিছিলসহ যোগদান করে।

