
ভারতের ত্রিপুরার আগরতলায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনে নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে জোরপূর্বক প্রবেশ করে ভারতীয় উগ্রবাদী হিন্দু সন্ত্রাসীদের হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ভোলায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে যুব সমাজ।
সোমবার (২ ডিসেম্বর) রাতে ভোলা প্রেসক্লাব থেকে মিছিলটি শুরু করে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে প্রতিবাদ সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। এসময় বিক্ষোভকারীরা ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা, ভারতীয় আগ্রাসন, রুখে দাও, ভারতের চামচারা, হুঁশিয়ার সাবধান ইত্যাদি স্লোগান দেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে ভারত বাংলাদেশে তার আধিপত্যবাদ বিস্তারের চেষ্টা করে যাচ্ছে। পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনার শাসনামলে ভারত তার আধিপত্যবাদের শেকড় অনেক গভীরে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়। কিন্তু গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতা ভারতীয় আধিপত্যবাদ উপড়ে ফেলেছে।
আমরা অতীতে সীমান্তে ফেলানী হত্যা, স্বর্ণা দাসকে হত্যা করার ঘটনা দেখেছি। ভারতবিরোধী কথা বলায় আবরার ফাহাদকে ছাত্রলীগ নৃশংসভাবে খুন করেছিল। ইসকনের সন্ত্রাসীরা আমাদের একজন সরকারি আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে প্রকাশ্যে খুন করেছে।
আর ভারতীয় মিডিয়া সেদিন থেকে যেভাবে মিথ্যাচার করছে তা মেনে নেওয়া যায় না। তারা শহীদ সাইফুল ইসলাম আলিফকে চিন্ময় এর আইনজীবী হিসেবে প্রচার করেছে। কতবড় জঘন্য এই গদি মিডিয়া। একবার ভাবুন।
বক্তারা আরো বলেন, বাংলাদেশ ধর্মীয়ভাবে শান্তিপূর্ণ দেশ। এদেশে সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে বসবাস করে। যে দেশে সংখ্যালঘুদের বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হয় তারা দেয় আমাদের শান্তির বার্তা।
পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, আমারা বাংলাদেশি, আমরা সবাই মিলেমিশে বসবাস করি। ভারতের দাদাগিরি অর্থাৎ ভারতীয়দের আধিপত্য আর বাংলাদেশে চলবে না। ভারতীয় কোনো ষড়যন্ত্র বাংলার মাটিতে ঠাই পাবে না।
তারা আরো বলেন, পশ্চিম বঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হাঙ্গামা বাধানোর জন্য ভারতীয় ও বাংলাদেশি হিন্দুদের উস্কানি দিচ্ছেন। তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
তিনি হয়তোবা ভুলে গেছেন, সেই পশ্চিম বঙ্গ একসময় বাংলাদেশের ছিল, অর্থাৎ, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ছিল। আমরা মমতার এমন বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। আর ভারতের শুভেন্দু অধিকারীও ইদানীং বিভিন্ন গাঁজাখুরি বক্তব্য দিচ্ছেন।
তাকেও সাবধান করে দিচ্ছি। আর তা নাহলে বাংলাদেশের মানুষ একবার জেগে উঠলে ১৯৭১ ও ২০২৪ সালে যেভাবে অস্ত্র ও ট্রেনিং ছাড়া বাংলাদেশ মুক্ত ও স্বৈরাচার মুক্ত করেছি,ঠিক সেভাবেই আমরা ভারতীয় আধিপত্য মুক্ত হব। আর হতে পারে তা ভারত দখল করে।
উল্লেখ্য যে, সোমবার ভারতের উত্তর–পূর্বাঞ্চলীয় ত্রিপুরা রাজ্যের উত্তর আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশন প্রাঙ্গণে হামলা হয়েছে। হিন্দু সংঘর্ষ সমিতি নামের একটি সংগঠনের সমর্থকেরা এ হামলা চালান বলে প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে।
সম্পাদক- আবদুর রহমান
০১৩০৩১১২৬৭৬
Web:https://bangladeshamar.com/ Email: doinikbangladeshamar@gmail.com
Address: F-8, KA-90,JHK WINDCEL, KURIL KAZI BARI,VATARA,DHAKA-1229.
Copyright © 2026 বাংলাদেশ আমার. All rights reserved.