মোঃ আশিকুর রহমান
আজমিরীগঞ্জে রাতের আঁধারে ও কাক ডাকা ভোরে সরকারী জায়গা অর্থাৎ কুশিয়ারার কালনী নদীর তীরবর্তী এলাকা থেকে মাটি কেটে নগদ টাকায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে এলাকার একাধিক অসাধুচক্রের বিরুদ্ধে।
এতে করে একদিকে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। অপরদিকে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছে জড়িত অসাধুচক্রের সদস্যরা। এ ছাড়া লক্ষ লক্ষ টাকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।
জানা যায়, আজমিরীগঞ্জ পৌরসভাধীন নৌ-টার্মিনালের অদূরে কুশিয়ারার কালনী নদীর তীরের সরকারের মালিকাধীন জায়গা থেকে রাতের আঁধারে ও কাক ডাকা ভোরে লোকচক্ষুর আড়ালে মাটি কেটে নগদ টাকায় বিভিন্ন লোকেদের নিকট বিক্রি করছে এলাকার কয়েকটি অসাধুচক্র।
আবার সুযোগ বুঝে মাঝেমধ্যে দিনের বেলায়ও মাটি কেটে ট্রলিভর্তি করে এলাকার নানা জায়গায় বিক্রি করছে। নিয়মানুযায়ী সরকারি জায়গা থেকে মাটি কেটে বিক্রি করার কোন বিধান নেই।
তবে সরকারি জায়গা থেকে মাটি কাটতে সংশ্লিষ্ট ভূমি প্রশাসনের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। অনুমতি পাওয়ার পর উপ সহকারী ভূমি কর্মকর্তা জায়গা মাপ-ঝোঁক করে দেবে। পর প্রতি ফুট মাটির বিপরীতে রয়েলিটি পরিশোধ করতে হয়।
এসব নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে এলাকার একাধিক অসাধুচক্র বেশ কিছুদিন পূর্বে চরবাজারের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের পিছনে রাতের আঁধারে ও কাক ডাকা ভোরে উল্লেখিত সরকারি জায়গা থেকে ট্রলিভর্তি করে বসতভিটা নির্মাণ করতে দেখা গেছে।
বর্তমানে ওই জায়গা সহ আরও কয়েকটি স্থানে মাটি বিক্রির খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া সকালবেলা পৌরসভাধীন বাজার সংলগ্ন বিজয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন স্থানে মাটিিভর্তি ট্রলি দিয়ে স্তূপ করে রাখছে মাটি। পর ওই স্থান থেকে বিভিন্ন লোকেদের নিকট বিক্রি করতে দেখা যাচ্ছে।
পর শ্রমিক দিয়ে মাটি নিয়ে যাচ্ছে স্ব স্ব গন্হব্যে। প্রতিটি ট্রলিভর্তি মাটি বিক্রি করা হচ্ছে ৫০০ টাকায়। নদীর তীরের ফসলিজমি থেকে মাটি কাটায় জমির উর্বরতা সহ পরিবেশের স্বাভাবিক ভারসাম্য বিনষ্ট হচ্ছে।
এ ছাড়া সরকারের মালিকাধীন জায়গা থেকে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছে অসাধুচক্রের লোকজন। অপরদিকে লক্ষ লক্ষ টাকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।

