মাহমুদুল হাসান
নরসিংদী প্রতিনিধি

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আপনার বিরুদ্ধে, আপনার দলের বিরুদ্ধে, সর্বোপরি এ দেশের বিরুদ্ধে কিন্তু ষড়যন্ত্র থেমে নেই। দুষ্টু লোকদের দুষ্টামি কিন্তু থেমে নেই।

কারন এই দেশের অর্থ সম্পদ, এই দেশের প্রাকৃতিক সম্পদের দিকে অনেকেই লোলুপ দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছে। এই দেশে যদি একটি বিশৃঙ্খলা লাগিয়ে রাখা যায়। তাহলে দেশের ভেতরেই হোক আর বাইরেই হোক। এই দেশে যদি একটি দুর্বল জনসমর্থনহীন সরকার , যারা জনগনকে রিপ্রেজেন্ট করে না, এরকম সরকারকে যদি ক্ষমতায় রাখা যায়। তাহলে এই দেশ থেকে অনেকেই অনেক কিছু লুটে পুটে নিয়ে যেতে পারবে।

কিন্তু এই দেশে যদি জনগনের সমর্থিত, যারা এই দেশের জনগনের কথা বলবে, জনগনের কথা চিন্তা করবে। যারা দেশের কথা বলবে, দেশের কথা চিন্তুা করবে, এরকম কেউ যদি দেশ পরিচালনার দায়িত্বে থাকে তখন দেশের স্বার্থ, জনগনের স্বার্থ, নিরাপদ থাকবে। যারা শকুনের দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে আছে এই দেশের অর্থ সম্পদ প্রাকৃতিক সম্পদের দিকে তখন তারা দশবার চিন্তা করবে।

কাজেই প্রিয় সহকর্মীবৃন্দ, ষড়যন্ত্র যেহেতু থেমে নেই, আপনারা গণতন্ত্রের জন্য যুদ্ধ করেছেন, সংগ্রাম করেছেন, হত্যার শিকার  হয়েছেন, জেল জুলুমের শিকার হয়েছেন, গায়েবী মামলার শিকার হয়েছেন, দিনের পর দিন পালিয়ে থাকতে হয়েছে, জঙ্গলে থাকতে হয়েছে, ধান খেতে আপনাদের থাকতে হয়েছে, অত্যাচার নির্যাতনের কারনে। আপনারা সেই পরিক্ষা দিয়ে পার হয়ে এসেছেন। সামনে পরিক্ষা কিন্তু শেষ হয়ে যায়নি। সামনে পরিক্ষা আরো আছে। এটি এমন একটি যুদ্ধ, এটি জনগনের পক্ষের যুদ্ধ, এটি গণতন্ত্রের পক্ষের যুদ্ধ, এটি স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের পক্ষের যুদ্ধ, এই যুদ্ধে যদি জয়ী থাকতে হয়, অনবরত আমাদের সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে।

তারেক রহমান আরো বলেন, ৫ তারিখের আগে পর্যন্ত আমাদের সংগ্রাম ছিল স্বৈরাচারের পতন, স্বৈরাচারকে সরিয়ে দেওয়া, সরকার থেকে ফেলে দেওয়া। আলহামদুল্লিাহ, আল্লাহর রহমতে বাংলাদেশের মানুষের সমর্থনে, বাংলাদেশের মানুষের দলমত নির্বিশেষে, শ্রেণী পেশা নির্বিশেষে, সকল মানুষের অংশগ্রহনের মাধ্যমে আমরা সক্ষম হয়েছি বিদায় করে দিতে, পালিয়ে যেতে বাধ্য করেছে দেশের মানুষ এই স্বৈরাচারী সরকারকে।

এখন সংগ্রাম দেশের স্বাধীনতা রক্ষার সংগ্রাম, এখন সংগ্রাম সার্বভৌমত্ব রক্ষার সংগ্রাম। একই সাথে দেশ গড়ার সংগ্রাম শুরু হয়ে গেছে। এই দেশের মানুষের রাজনৈতিক অধিকার রাজনৈতিকভাবে এই দেশের মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া, একই সাথে এই দেশের মানুষের অর্থনৈতিক ভিত্তিকে শক্ত করার যে সংগ্রাম, সেই সংগ্রাম শুরু হয়ে গেছে। এবং এই সংগ্রামকে নেতৃত্ব দিতে পারবে একমাত্র আপনারা অর্থাৎ বিএনপি নেতৃত্ব দিতে পারবে।

কারন এই দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র বলতে যা বুঝায় সংসদীয় গণতন্ত্র বলতে যা বুঝায়, নারীদের অধিকার বলতে যা বুঝায়, মানুষের অধিকার বলতে যা বুঝায়, এক বাক্যে অতীত ঘাটলে দেখা যায়, বিএনপি সবসময়ই সেটিকে নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। কাজেই মানুষ ও দেশ আপনাদের দিকে তাকিয়ে আছে। আপনারা আজকে এখানে আসলেন আর চলে গেলেন, আর ভুলে গেলেন, আপনি শেষ হয়ে গেলেন। দয়া করে এই কাজটি করবেন না। আপনার কাঁধে অনেক দায়িত্ব, কর্তৃব্য। আপনি জাতীয়তাবাদী দলের একজন নেতা, একজন কর্মী। আপনি সেই দলের কর্মী, যেই দলের নেতা এইদেশের স্বাধীনতার ডাক দিয়ে শুধু ঘরে বসে থাকেনি। যুদ্ধ করেছেন। তার কর্মী আপনি, যিনি দায়িত্ব পাওয়ার পর কোদাল হাতে নিয়ে খাল খনন করার মাধ্যমে এই দেশের উন্নয়নকে সামনে দিকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন দেশের উৎপাদনকে বৃদ্ধি করার জন্য। আপনি সেই দলের কর্মী, যেই নেত্রী শত বাধা বিপত্তি, শত নির্যাতন সহ্য করে জেল জুলুমের অত্যাচারের মুখেও যে আপস করেনি। সেই আপসহীন নেত্রীর কর্মী আপনি। কাজেই আপনাকে সেভাবে নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে। নিজেকে এমন কোন কাজ করা থেকে বিরত থাকতে হবে যেখানে আপনি নিজেকে হালকা করে ফেলবেন, নিজেকে ছোট করে ফেলবেন, মূল্যহীন করে ফেলবেন। আপনি একজন মূল্যবান মানুষ, কারন আপনি বিএনপির নেতা।

আজকে আমরা ৩১দফা নিয়ে আলোচনা করেছি, জেনেছি, বুঝেছি, এটি আমাদেরকে মানুষের কাছে নিতে যেতে হবে, মানুষকে বুঝাতে হবে। একই সাথে আমাদেরকে প্রস্তুত হতে হবে , নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে। এই ৩১ দফা বাস্তবায়নের জন্য। অভিভাবক হিসেবে আপনার দায়িত্ব আপনা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি নিরাপদ রাজনৈতিকভাবে অর্থনৈতিকভাবে একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে আপনাদেরকে। আমাদের সকলকে গড়ে তুলতে হবে। আসুন আমরা নিজেদেরকে প্রস্তুত করি। এই প্রস্তুতি কিন্তু খুব সহজ ব্যাপার নয়, এই প্রস্তুতি অত্যন্ত কঠিন কাজ।

আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, বিএনপির প্রত্যেটি নেতা কর্মী এই দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত। এটি আমার বিশ্বাস। এখন সময় প্রমানের। প্রমান আপনাদেরকে করতে হবে। দলের নেতা হিসেবে দলের কাছেই আপনাকে প্রমাণ করতে হবে এবং  জনগনের কাছে প্রমাণ করতে হবে। আসুন আমরা প্রস্তুত হই দেশ গঠনের জন্য, ভবিষ্যতের সেই বাংলাদেশটি গড়ে তোলার জন্য। যেই বাংলাদেশটি গড়তে গিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যা করা হয়েছে। যেই বাংলাদেশটিকে মানুষের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে গিয়ে দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসতে হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়েছে। তাকে হত্যা পর্যন্ত করার প্রচেষ্টা করা হয়েছে। আমরা এতো কিছুতেও দমিনি। আসুন আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকলে, আমরা নিজেদেরকে সংযত রাখতে সক্ষম হলে অবশ্যই আমরা শহীদ জিয়া, খালেদা জিয়া সার্বোপরি বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে সক্ষম হব।

বিএনপির রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা রূপরেখা নিয়ে নরসিংদী, মানিকগদঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জ জেলার নেতাকর্মীদের নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী কর্মশালায় ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তারেক রহমান। নরসিংদীর সদর উপজেলার মাধবদী এলাকার হেরিটেজ রিসোর্ট মিলনায়তনে আয়োজিত কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও নরসিংদী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক খায়রুল কবির খোকন।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার খোকনের সঞ্চালনায় সভাপতিত্বে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্মমহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
প্রধান আলোচক ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য ড. মাহাদী আমিন।

আরো বক্তব্য দেন, ঢাকা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য শাম্মী আক্তার, নেওয়াজ আলী আরলী, রাশেদ ইকবাল খান ও নরসিংদী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মনজুর এলাহী। এছাড়া কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আকরামুল হাসান মিন্টু, ইকবাল হোসেন শ্যামল, সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন মাষ্টার প্রমুখ।