নিউজ ডেস্ক

নরসিংদীর পলাশ উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়ন এর অন্যতম একটি গ্রাম খাস হাওলা। এখানে যুগ যুগ ধরে চলে আসছে সামাজিক সম্প্রীতি ও সহমর্মিতা। একে অপরের সুখে-অসুখে এগিয়ে আসতো তারা। ধর্মীয় কাজে পরিপূরক ছিল তারা।
গ্রামে পূর্বে জামে মসজিদ না থাকায় পূর্বে হতেই ওয়াকফকৃত মক্তবেই নামাজ আদায় করতো। মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদের মসজিদের দাবীটা ত্বরান্বিত হয়।

সমাজের চাহিদাকে সামনে রেখে খাসহাওলা গ্রামের মানুষ সম্মিলিতভাবে ৮.২৫ পয়েন্ট জায়গা মো. শরিফ হোসেন হতে ওয়াকফ নিয়ে প্রায় ৬ বছর আগে বায়তুল মামুর নামে জামে মসজিদ নির্মাণ করে সেখানেই নামাজ আদায় করে আসছিলেন। বর্তমানে মসজিদ নির্মাণ করায় মক্তবে আর নামাজ আদায় করার প্রয়োজন পরেনা বিধায় এলাকাবাসী মকতব হিসাবেই ব্যবহার করে আসছিল।


মকতবখানার পাশেই প্রতিবেশি আকরাম হোসেন ও আনোয়ার হোসেন পিতা আব্দুল বারেক ভুল-বিভ্রান্তমূলক তথ্য দিয়ে অনলাইন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করে দাবী করে এখানে মসজিদ ছিল এবং মসজিদ কে বা কারা তালাবদ্ধ করে রেখেছে! নামাজ পড়তে দেয়না।


এই ভুল-বানোয়াট, মিথ্যা ও বিভ্রান্তমূলক সংবাদ প্রকাশ করায় সামাজিক নেতৃত্ববৃন্দ, মসজিদ কমিটি ও এলাকার সুধী সমাজ প্রতিবাদ করে সংবাদ সম্মেলন করেন।


এসময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে বক্তব্যে তারা বলেন, তারা যাকে মসজিদ বলে দাবী করছে তা কাগজে কলমে মূলত ফোরকানিয়া মাদ্রাসা৷ প্রতিপক্ষের পিতা বারেক মিয়া মাদ্রাসার নামে এই জায়গাটুকু ওয়াকফ করে দিয়েছেন ২০০০ সালে। পরবর্তীতে জায়গার অভাবে এখানে নামাজ আদায় করলেও ২০১৪ সালের দিকে সামাজিকভাবে সিদ্ধান্ত হয় তারা মাদ্রাসায় নামাজ পড়বো না।


আমাদের একটি জামে মসজিদ প্রয়োজন। তারপর বারেক মিয়া সন্তানসহ সমাজের সবাই মিলে অনেক চেষ্টা করেও সেখানে মসজিদের জায়গার ব্যবস্থা করতে পারেনি। পরবর্তীতে সমাজের সকল পরিবার মিলে শরীফ সরকারকে বিষয়টি জানালে উনি ২০১৬ সালে ৮.২৫ শতাংশ জায়গা মসজিদের নামে ওয়াকফ করে দেন। সামাজিকভাবে সবাই এই মসজিদেই নামাজ পড়ে আসছে।

কিন্তু আকরাম গং এর মা, বারেক মিয়ার স্ত্রী ২০২০ সালে মাদ্রাসার পেছনে ২ শতাংশ জমি মসজিদের নামে ওয়াকফ করেন-যা এখনো পতিত জমি। দলীলে সুস্পষ্টভাবে চৌহদ্দিতে লেখা আছে পূর্ব পাশে মক্তব। কিন্তু তারা পতিত দুই শতাংশ জমি কে মসজিদ দাবী করে বাবার দেয়া ওয়াকফকৃত মাদ্রাসাকে দখল করে আছে।


যা হয়রানিমূক। এই ভুলভাবে বানোয়াট মিথ্যা, বিভ্রান্ত ও হয়রানিমূলক তথ্য প্রচার করে সত্যকে গোপন করে সমাজে বিশৃঙ্খলা তৈরি করা হচ্ছে।”


উল্লেখ, অনলাইন সংবাদে প্রচার করা হয়, ‘ মসজিদে তালা মেরে রাখা হয়েছে। তারা দাবী করেন, এটাতো মসজিদ নয় ফোরকানিয়া মক্তব। মসজিদের ইমাম মক্তব পড়িয়ে তালাবদ্ধ করে আসেন নিরাপত্তার সার্থে। কারো সাথে শত্রুতার জেরে নয়।
সংবাদ সম্মেলনে এমন বিভ্রান্তমূলক তথ্য প্রচার না করে সত্য কথা ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পরিবশনের দাবী করেন তারা।