নিউজ ডেস্ক

শনিবার (৮ মার্চ) বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘ঢাকার এক নতুন ভোর: গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ-মার্কিন সম্পর্কের গতিশীলতা নেভিগেট করা’ শীর্ষক আলোচনায় ড্যানিলোভিচ বলেন জুলাই-আগস্ট আন্দোলনটি সম্পূর্ণরূপে স্বদেশেই সৃষ্ট হয়েছিল, এই গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব কেবল বাংলাদেশের জনগণের। তাদের আন্দোলনের মুখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতাচ্যুত হয়েছেন।

তিনি বলেন, এতে (অভ্যুত্থান) এমন কিছু ছিল যা বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করেছিল। এটি বাংলাদেশে উত্থিত হয় এবং বাংলাদেশেই সফল হয়। পূর্ববর্তী স্বৈরশাসনের অবসান এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার এই চতুর্থ সুযোগের জন্য কেবল বাংলাদেশের জনগণই কৃতিত্বের দাবিদার।

সিজিএসের নির্বাহী পরিচালক জিল্লুর রহমানের সঞ্চালনায় আলোচনায় বাংলাদেশে সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম বি. মাইলামও অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও বাংলাদেশে বিভিন্ন বিদেশী মিশনের কূটনীতিক, রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, ব্যবসায়ী নেতা, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের সদস্য, সাংবাদিক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

পরবর্তী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে, ড্যানিলোভিচ বলেন, সিদ্ধান্তটি কেবল বাংলাদেশের জনগণের উপর নির্ভরশীল। এটি এমন একটি প্রশ্ন যার উত্তর বাংলাদেশের জনগণকে দিতে হবে। আমি স্বীকার করি, আমার কাছে, এটিই বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে কঠিন প্রশ্ন।

জবাবদিহিতার বিষয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনে অংশগ্রহণই জবাবদিহিতার একমাত্র পরিমাপ নয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রক্রিয়া এবং ব্যক্তিদের জবাবদিহি করার জন্য আইনি ব্যবস্থাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ড্যানিলোভিচ মার্কিন পররাষ্ট্র নীতির অতীতের ত্রুটি স্বীকার করে বলেন, বিশেষ করে ২০০৭-০৮ সালে বাংলাদেশের ওয়ান-ইলেভেন রাজনৈতিক সংকটের সময় মার্কিন সরকার প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের উপর যথেষ্ট মনোযোগ দেয়নি। তবে বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জনগণের সমর্থনে অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিচ্ছে।

রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম বি. মাইলাম এবং ড্যানিলোভিচ বাংলাদেশে গণতন্ত্রের প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি নিয়ে আলোচনা করেন এবং এদেশের গণতান্ত্রিক উন্নয়নকে সমর্থন দিতে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব এবং নীতিগত পদ্ধতির গুরুত্বের উপর জোর দিয়েছেন।