
মোঃ মুক্তাদির হোসেন
পবিত্র মাহে রমজান এর প্রায় শেষের দিকে, আজ ২৬ শে রমজান, দিবগত রাতে লাইলাতুলকদর, আমাদের আখেরি জামানার প্রিয় নবী,হযরত মুহাম্মদ ( সা:) বলেছেন লাইলাতুলকদর রাতে পবিত্র কোরআন নাজিল হয়েছিল। তাই এই মহান্বিত রাতের ইবাদতের গুরুত্ব অনেক বেশি, এবং এই রাতে ইবাদত কবুল হয়।
আজ পবিত্র লাইলাতুল কদর বা শবে -কদর। বাদ মাগরীব থেকে শুরু হবে শবে -কদরের রজনী। যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্য পরিবেশে সারা দেশে পবিত্র শবে কদর পালিত হবে।মহান আল্লাহতা‘ লাইলাতুল কদরের রাতকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছেন। হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও এ রাতের ইবাদত উত্তম।
এ রাতে আল্লাহর অশেষ রহমত ও নেয়ামত,বরকত আল্লাহ নিজ হাতে তাঁর বান্ধা,ববান্ধীদের রিজিক বণ্টন করেন। পবিত্র এই রাতে ইবাদত-বন্দেগীর মাধ্যমে আমরা মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পারি। অর্জন করতে পারি তাঁর অসীম রহমত, নাজাত, বরকত ও মাগফেরাত।
পবিত্র শবেকদরের রাতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা আল্লাহর নৈকট্য ও রহমত লাভের আশায় ইবাদত বন্দেগীর মাধ্যমে কাটিয়ে দিবেন সেহেরী খাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত।শবে কদর উপলক্ষে পবিত্র কোরআনে একটি সূরা নাজিল হয়েছে তাঁর নাম সূরা কদ্দর,( ইন্না আন জানলা ফি লাইলাতুলকদরে ওমা ইন্না ফি লাইলাতুলকদরে) লাইলাতুলকদরের রাতে অনকে সালা তুল তাজবী নামাজ আদায় করতে দেখা যায়, হাদিস শরিফে আল্লাহ্ রাসুল সাহাবিদের বলেছেন লাইলাতুলকদর রাতে যে হতভাগ্য নিজের পাপ মোচন করতে পারে না, তার থেকে হতভাগ্য মানুষ আর হয় না, তাই আসুন আমরা আমাদের বাবা, মা, আত্মীয় স্বজন,পাড়া প্রতিবেশীদের জন্য মহান আল্লাহর কাছে খাস করে মুনাজাত এর মাধ্যমে দোয়া কামনা করবো,সাথে কবর বাসীদের জন্যে ও দোয়া কামনা করবো কেয়ামত পর্যন্ত যেন কবেরে আযাব দূর করে হাউজে কাউসার এর পানি প্রাণ করে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করতে পারেন। মুসলমানদের জীবনে একবার হলে ও সালাতুল তজব্বীর একবার পড়তে হয়।
পবিত্র রমজান মাসে লাইলাতুল কদরে পবিত্র কোরআন নাজিল হয়েছিল। তাই মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা দিবাগত রাতে বিভন্ন মহল্লায় মসজিদসহ বাসা-বাড়িতে এবাদত বন্দেগীতে মশগুল থাকবেন ধর্ম প্রান মুসলমানরা। এ রাতে মুসলিম গণ নফল নামাজ আদায়, পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, জিকির-আজকার ও মৃত ব্যাক্তিদের জন্য দোয়া কামনা করবেন।
পবিত্র শবে কদর উপলক্ষে শুক্রবার সরকারী ছুটি থাকায় সরকারী ছুটি একটা কম পরলো,নয়তো বা সরকারী ছুটি ঘোষনা করা হতো।এ উপলক্ষে আজ জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম, মহাখালীস্থ মসজিদে গাউছুল আজমসহ দেশের সব মসজিদে রাতব্যাপী ওয়াজ মাহফিল, ধর্মীয় বয়ান ও আখেরি মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে। দেশের সব মসজিদেই খতমে তারাবির সমাপ্ত হবে,তারাবী নামাজের পর থেকে ওয়াজ, দোয়া ও বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন থাকবে সাথে থাকবে তবারকের সুব্যাবস্থা,সারা মুসলিম জাতির জন্য বিশেষ করে বাংলাদেশের মুসলিম জাতির জন্য বিশেষ দোয়া কামনা করা হবে।