বিজয় কর রতন
মিঠামইন (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার ঢাকী ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের দিনমজুর মুছা মিয়ার মেয়ে মারিয়া (৯)। স্থানীয় গোবিন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বাবার সঙ্গে বাড়ির অদূরে একটি দোকানে যায় চিপ্স কেনার জন্য।

মেয়েকে চিপ্স কিনে দিয়ে বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে বাবা মুছা মিয়া হাঁটেন স্থানীয় বাজারের পথে। রাত ৯টার দিকেও মেয়েটি বাড়ি না ফিরলে শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। কিন্তু কোথাও তার কোনো খোঁজ মিলছিল না। শিশুটির খোঁজে মসজিদ থেকে গ্রামজুড়ে ও বাজারে মাইকিং করা হয়।

রাত যতই বাড়ে, উদ্বেগ বাড়ে পরিবারে। রাত ১১টার দিকে মারিয়াকে না পাওয়ার বিষয়টি জানানো হয় মিঠামইন থানা পুলিশকে। এরও একঘণ্টা পর রাত ১২টার দিকে গ্রামেরই একটি পুকুরের পাড়ে গ্রামবাসীর নজরে পড়ে শিশুটির ক্ষত-বিক্ষত নিথর দেহ। গলায়, পেটে ও হাতে উপর্যুপরি আঘাতের চিহ্ন।

স্বজনদের কান্নার রোল পড়ে যায়। রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে তাদের কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে গোবিন্দপুর গ্রাম। শিশুটিকে এমন নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনা হতবাক করে গ্রামবাসীকে। এ ঘটনার মাত্র মাসচারেক আগে শিশুটির দাদা হোসেন আলী (৬৫) হত্যাকান্ডের শিকার হন।

দাদার খুনের চার মাসের মধ্যে নাতীর খুনের ঘটনায় মুষড়ে পড়েন বাবা মুছা মিয়া। মুছা মিয়ার ছোট ভাই ইসহাক মিয়া জানান, তাদের পরিবারের সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজনের কিছু জায়গা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধের দুই থেকে আড়াই মাস পর তার বাবা হোসেন আলী খুন হন। গত ৭ই ডিসেম্বর তার বাবা হোসেন আলী বাড়ির পশ্চিম পাশে মেশিন দিয়ে পুকুর শুকানোর কাজ করছিলেন।

এ সময় প্রতিপক্ষের লোকজন হামলা চালিয়ে পিটিয়ে তাকে হত্যা করে। এ ঘটনায় তার বড় ভাই মুছা মিয়া বাদী হয়ে ১৪ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করলেও মরম আলী, তার ছেলে ইকবাল ও স্বপন মেম্বার এই তিন আসামি হাইকোর্ট থেকে বর্তমানে জামিনে রয়েছে। মামলা দায়েরের পর থেকে আসামিপক্ষ তাদের নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছে।

হুমকি দেয়ার ভিডিও-ও তার কাছে রয়েছে। এ রকম পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার রাতে তার ভাতিজি ফাহিমা হত্যাকান্ডের শিকার হলো। ইসহাক মিয়া তদন্ত করে তার ভাতিজির হত্যাকারীদের চিহ্নিত ও গ্রেপ্তারের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে মিঠামইন থানার ওসি মো. শফিউল আলম জানান, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে শিশু মারিয়ার হত্যাকান্ডের ঘটনাটি ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরপরও পুলিশ বিষয়টি নিবিড়ভাবে তদন্ত করছে। তদন্তের মাধ্যমে এ ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে জানিয়ে ওসি মো. শফিউল আলম বলেন, শুক্রবার শিশুটির লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। মারিয়া হত্যা কান্ডের মামলার প্রস্তুতি চলছে।