
সিলেট জেলার দক্ষিণ সুরমা উপজেলার মোগলা বাজার ইউনিয়নের মৃত শফিকুল বারীর তৃতীয় ছেলে শাহ মো: রুম্মানুল হক এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সরকারের আমলে রং পাল্টিয়ে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে রেলওয়ের জায়গাতে অবৈধভাবে দেওয়াল নির্মাণ, রাস্তা তৈরি করা ও পঞ্চায়েত কমিটির লোকজনসহ নিরীহ মানুষকে বিভিন্নভাবে হয়রানী করার প্রতিবাদে এলাকাবাসীসহ ক্ষতীগ্রস্থরা সংবাদ সম্মেলন করেন। ২১ এপ্রিল রোববার বিকালে একটি অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে এলাকাবাসীসহ ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের লোকজন লিখিতভাবে জানান, সিলেট জেলার দক্ষিণ সুরমা উপজেলার মোগলা বাজার ইউনিয়নের মৃত শফিকুল বারীর তৃতীয় ছেলে শাহ মো: রুম্মানুল হক সামাজিক কোন ধরণের নিয়মের তোয়াক্কা করে না। সে একজন মামলাবাজ ও পল্টিবাজ রাজনীতিবিদ। এতদিন আওয়ামিলীগ করলেও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পর এখন সে জামায়াতের রাজনীতির সাথে জড়িত এবং জামায়াতের পরিচয় দিয়ে বেড়ায়। এলাকায় তার দাপটে নিরীহ মানুষ অতিষ্ঠ। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে অন্যের জমি দখল করছে সে।
এলাকার হারুন মিয়ার ছেলে মো. মারুফ সদ্য সে রেলওয়ের জমিতে (তার দাদী হুরে আরা বেগম লিজকৃত জায়গায়) মাছ চাষ করছে। এই জমিতে যাতে মারুফ মিয়া মাছ চাষ করতে না পারে সে জন্য সে রেলওয়ের জায়গায় অবৈধভাবে ইটের দেয়াল নির্মাণ করে এবং অবৈধভাবে রেলওয়ের জায়গায় রাস্তা নির্মাণ করে তার মাছ চাষে বাঁধার সৃষ্টি করছে। টাকার জোরে এবং অবৈধ ক্ষমতার দাপটে সে সামাজিক-অনলাইন গণমাধ্যমে মারুফ এবং তার চাচাদের নামে বিভিন্ন মিথ্যা তথ্য প্রচার করছে, সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার পায়তারা করছেন। রুম্মানের দুই ভাই শাহ মিজানুল হক ও শাহ এনামুল হক লন্ডনে থেকে তাকে দিয়ে এইসব করাতে সহযোগীতা করেন তারা দুজনের ইন্দনে এ সব কাজ করতে সাহস পাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে মোগলা বাজার ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আলী বলেন,' শাহ মো. রুম্মানের অত্যাচারে ব আমরা জর্জরিত । শাহ মো. রুম্মানুল হক আমাদের জেল খাটাতে চেয়েছিল কিন্তু পারেনি। সে রেলওয়ের জায়গায় রাস্তা বানিয়ে দেয়াল দিয়েছে। এলাকার মানুষ বাঁধা দিছে। সে মানেনি।'
মোগলা বাজার ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার আবদুল হাই নিলু বলেন, 'হুরে আরা বেগম জায়গা লিজ আনছে। কিন্তু শাহ মো. রুম্মানুল হক জোরপুর্বক তাদের লিজকৃত জায়গার উপর দিয়ে রাস্তা নিছে। আবার রেলওয়ের জায়গায় দেয়াল দিয়েছে। সে কারো কথা শুনেনা।
মসজিদের সভাপতি ও গ্রাম পঞ্চায়েতের মুরুব্বি মো. মাসুদ মিয়া বলেন,' আমি আমার গ্রামের মসজিদের সাবেক সভাপতি এবং পঞ্চায়েতেরও সদস্য। আমাদের পঞ্চায়েতকে বার বার অনেক অপমান করেছে। পঞ্চায়েতের নামে মামলাও করেছে শাহ মো. রুম্মানুল হক।'
ক্ষতিগ্রস্ত হারুন মিয়ার ছেলে মো: মারুফ বলেন, শাহ মো. রুম্মানুল হক বিভিন্ন সরকারের আমলে রং পাল্টিয়ে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে রেলওয়ের জায়গাতে অবৈধভাবে দেওয়াল নির্মাণ, রাস্তা নির্মাণ,পঞ্চায়েত কমিটির লোকজনসহ নিরীহ মানুষকে বিভিন্নভাবে হয়রানী ও তাদের বিরুদ্ধে অপ্রচার করছেন।
রুম্মানের দুই ভাই শাহ মিজানুল হক ও শাহ এনামুল হক লন্ডনে থেকে তাকে দিয়ে এইসব করাতে সহযোগীতা করেন তাদের দুজনের ইন্দনে এ সব কাজ করতে সাহস পাচ্ছে।
সে আরো বলেন, আমার দাদি হুরে আরা বেগমের নামে লিজ নেয়া প্রায় ৩.৫ বিঘা জায়গায় মাছ চাষ করছি। গতকিছুদিন আগে জোর পূর্বক আমাদের লিজকৃত জায়গায় রাস্তা এবং দেয়াল তৈরি করেন শাহ মো. রুম্মানুল হক।
এখন যাতে মাছ চাষ করতে না পারি তাই সে দেয়াল তৈরি করে রেখেছে। এতে আমার প্রচুর সমস্যা হচ্ছে। আমি রেলের কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।
এ ব্যাপারে তদন্ত কর্মকতা এসে অভিযোগের ঘটনার সত্যতা পেয়েছে। কিন্তু কোন প্রতিকার পাইনি।পূর্বে মো. নাহিদ আহমদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ কর্তৃক শাহ মো. রুম্মানুল হকের বিরুদ্ধে স্থানীয় থানায় এফ আই আর করার জন্য বলা হয়েছিল। দুর্ভাগ্যবশত সে বিষয়ে কোনো অগ্রগতি নেই।
আমার(মারুফ) চাচাদের সাথে জমি সংক্রান্ত মামলায় আদালত কর্তৃক তদন্ত কমিশন আসার পর সে তদন্ত কমিশন কে অসহযোগিতা করেছে, পরবর্তীতে কমিশনের কর্মকর্তার সামনে আমাকে হামলা করে আমার মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে যায় এলাকাবাসীর মাধ্যমে মোবাইল ফেরত চেয়ে ব্যর্থ হয়ে থানার ওসির মাধ্যমে চাওয়া হলেও এখনো মোবাইল ফেরত দেয়নি। এ বিষয়ে আদালতে মামলা চলমান এবং থানায় তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এমতাবস্থায় গত ১২ এপ্রিল শাহ মো.রুম্মনুল হক সিলেট প্রেস ক্লাবে আমাদেরকে হয়রানী করার জন্য সংবাদ সম্মেলন করে যা আদালতের বিচার কাজ এবং থানার তদন্ত প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করতে পারে, সুস্পষ্টভাবে এটা আদালত অবমাননার শামিল।
সে আমাদেরকে বিভিন্নভাবে হয়রানী করছে, প্রাণ নাশের হুমকি-ধমকি ও ভয়-ভীতি দেখাচ্ছে। আমরা খুবই শংকায় আছি। এ সব ঘটনায় সংবাদ সম্মেলনে এলাকাবাসী শাহ মো. রুম্মানুল হকের বিরুদ্ধে যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জোর দাবী করেন।
সম্পাদক- আবদুর রহমান
০১৩০৩১১২৬৭৬
Web:https://bangladeshamar.com/ Email: doinikbangladeshamar@gmail.com
Address: F-8, KA-90,JHK WINDCEL, KURIL KAZI BARI,VATARA,DHAKA-1229.
Copyright © 2026 বাংলাদেশ আমার. All rights reserved.