
কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা মিঠামইন,ইটনা অষ্টগ্রামে বোরো ধান কাটা প্রায় শেষের পথে। কৃষি অধিদপ্তরের তথ্য মতে, ৯৫ % ধান কাটা হয়ে গেছে এখন শুধু নারী শ্রমিকরা কৃষকের ধানের খলায় ধান সিদ্ধ করে,ধান শুকিয়ে চাউল করা সহ ধানের জমি থেকে ডাটা সংগ্রহের কাজ এ সময়ে করে থাকে।কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, পানি দেরিতে আসলে আগাম জাতের ধানের জমিতে ডেমি ধান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এসকল ডিমি ধান একর প্রতি ১৫/২০ মণ হয়ে থাকে।ডেমি ধান হাওর থেকে এক শ্রেণীর গরীব নারী শ্রমিকরা কৃষকের জমি থেকে কেটে নিয়ে ধান চুড়ে খাবারের উপযোগী করে। অনেক সময় দেখা যায়। এসকল শ্রমিকরা চাউল তৈরি করে বাজারেও বিক্রি করছে।কোনো কোনো জায়গায় জমির মালিক কে অর্ধেক ধান দিতে হয়।মিঠামইন হাওরের বিভিন্ন গ্রামের বাড়ির উঠানে অথবা ধানের খলায় নারী শ্রমিকদের সারা রাত ব্যাপী ধান সিদ্ধ করতে দেখা যায়। এসকল শ্রমিকরা অন্যের বাড়িতে সারা রাত ধান সিদ্ধ করে একজন নারী শ্রমিক ৫০০ টাকা পান।আবার সিদ্ধ ধান খলায় শুকিয়ে চাউল করার উপযোগী করে দিলে একজন নারী শ্রমিককে ৮০০ টাকা মজুরী দেওয়া হয়। কোনো কোনো কৃষক সারা বছরের লাকড়ি সংগ্রহের জন্য জমি থেকে ডাটা কেটে নিয়ে আসার জন্য প্রতি নারী শ্রমিককে প্রতিদিন ৪০০ টাকা মজুরী দেন।
এছাড়াও গরীব দিন মজুর নারীও পুরুষ শ্রমিকরা হাওর থেকে কৃষকের জমিতে ফেলে রাখা খেড় ও ডাটা সংগ্রহ করে সারা বছরে জ্বালানির মজুত করতে দেখা গেছে। হাওরের অস্থায়ী কৃষকরা তাদের হাজার হাজার মণ ধানের খেড় জমিতে ফেলে রেখে চলে যায় প্রতি বছর।তখন এসকল নারী শ্রমিকরা খের মাথায় করে আটি বেঁধে নিজ নিজ বাড়িতে নিয়ে আসে।এসকল খেড় গো খাদ্যের জন্য রাখা হয়।অনেক কৃষক তাদের কাছ থেকে খের মণ হিসাবে কিনে নেয়। ১ মণ খেড়ের মূল্য ৪ থেকে ৫ শত টাকা হয়ে থাকে।এসকল খেড় ও গরুর দেশীয় ভাষায় যাকে বলা হয় গোবর মিশিয়ে জ্বালানি তৈরি করে নারী শ্রমিকরা।১ শত গোবরের তৈরি জ্বালানির মূল্য ১০০০ টাকা।কৃষকের বাড়িতে নারী শ্রমিকরা জ্বালানি তৈরি করতে গেলে মজুরি হিসাবে একজন নারী ৫০ টি জ্বালানি তৈরি করলে অর্ধেক পায়।এভাবে হাওরের নারী শ্রমিকদের জীবন চলে। এসকল কাজের জন্য নারী শ্রমিকরা পারদর্শী।
অনেক জায়গায় দেখা গেছে, ধান রোপণ ও ধান কথাটার সময় নারী শ্রমিকরা হাওরে কাজ করছে। বিশেষ করে অষ্টগ্রামের চন্ডী পুর, শান্তি পুর, শাপান্ত বাজুরী এলাকার বেশির ভাগ হিন্দু মহিলা হাওরে এসে এসকল কাজ করে থাকে।অষ্টগ্রাম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অভিজিৎ পন্ডিত বলেন, পুরুষের পাশাপাশি নারীরা পিছিয়ে নেই।হাওরে ধান তোলা থেকে ধানের গোলায় নেওয়া পর্যন্ত পৌঁছে দিতে নারীদের শ্রম বেশি। তারা ধান সিদ্ধ করে শুকিয়ে চাউল তৈরির উপযোগী করতে নারী শ্রমিকদের ভূমিকা রয়েছে। এখন হাওরে নারীরা জ্বালানি সংগ্রহে জমিতে নীচু অংশের ডাটাও খেড় সংগ্রহ করছে। হাওরে এখন শুধু ডাটা পড়ে রয়েছে। এসকল ডাটা সংগ্রহ করে সারা বছরের জ্বালানি মজুত করছে।
সম্পাদক- আবদুর রহমান
০১৩০৩১১২৬৭৬
Web:https://bangladeshamar.com/ Email: doinikbangladeshamar@gmail.com
Address: F-8, KA-90,JHK WINDCEL, KURIL KAZI BARI,VATARA,DHAKA-1229.
Copyright © 2026 বাংলাদেশ আমার. All rights reserved.