মোঃ হাছনাইন
ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় বেড়িবাঁধ ভেঙে দুর্যোগের আশঙ্কা বাড়ছে। পুরাতন সুইজ গেইট ভেঙে নতুন গেইট নির্মাণের কাজ চললেও এখনো পর্যন্ত বিকল্প শক্তিশালী বেড়িবাঁধ নির্মিত হয়নি। এতে সামান্য জোয়ারেই পানি ঢুকে পড়ছে জনবসতিপূর্ণ এলাকায়।
২৭ মে ২০২৫, বুধবার, বিকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়ের পূর্ণ প্রভাব না পড়তেই হালকা ও ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধের উপর দিয়ে পানি প্রবেশ করে। এ ঘটনায় উদ্বেগে রয়েছে তজুমদ্দিনের উপকূলবর্তী এলাকাবাসী।
সুইজ গেইট এলাকার বাসিন্দা মো. সোহেল বলেন,
“জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেড়েছে। দমকা হাওয়ায় নিম্নমানের বেড়িবাঁধ ভেঙে পড়তে শুরু করেছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পুরো তজুমদ্দিনই পানিতে তলিয়ে যাবে।”
বাসিন্দা মো. লোকমান হোসেন আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন,
“এইভাবে থাকলে যেকোনো সময় ঘূর্ণিঝড় বা জোয়ারের পানিতে তজুমদ্দিন শহর তলিয়ে যেতে পারে। আমরা খুব আতঙ্কে আছি।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শুভ দেবনাথ বলেন,
“পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। তারা মাঠে কাজ শুরু করেছে।”
উপজেলা সেকশন অফিসার তানভীর আহমেদ জানান,
“নদীর পানি বাড়ার সাথে সাথে অতিরিক্ত জনবল দিয়ে কাজ চলছে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।”
ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আশফাউদ দৌলা বলেন,”খবর পাওয়ার সাথে সাথেই আমি সরেজমিনে উপস্থিত হই। ঝুঁকিমুক্ত টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণে জিওরোল, ব্লক, ও মাটি ব্যবহার করে কাজ চলমান রয়েছে। যতক্ষণ পর্যন্ত পুরোপুরি নিরাপদ না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত কাজ চলবে।”
তজুমদ্দিনের বর্তমান বেড়িবাঁধ পরিস্থিতি জনসাধারণের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপই পারে এই দুর্যোগ থেকে এলাকাবাসীকে বাঁচাতে।

