নিউজ ডেস্ক
আগুনে সবকিছু পুড়ে নিঃস্ব হয়ে গেল নরসিংদী সদর উপজেলাধীন নজরপুর ইউনিয়নের বুঁদিয়ামারার ডেকোরেটর ব্যাবসায়ী মো. রাসেল মিয়া।
এলাকাবাসী ও পরিবারের সূত্রে জানা যায়, রাসেল মিয়া প্রথমে ডেকোরেটর ব্যবসার শ্রমিক হিসাবে কাজ করতেন। পরবর্তীতে আসতে আসতে নিজেই ব্যবসা দাড় করান। দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে এই ব্যাবসার সাথে তিনি জড়িত। সকলের সাথে ভাল ব্যবহার ও সততার সাথে ব্যবসা করার কারণে সকল ধরণের ডেকোরেটর এর কাজ এলাকাবাসী তাকে দিয়েই করাতো। ফলে তার ব্যবসা বড় হয়ে যায়। ঈদে তেমন কাজ না থাকায় সে সকল মালামাল গোডাউনে সংরক্ষণ করে রাখে।

৯ জুন মধ্যরাতের পর কে বা কারা তার ডেকোরেটরের মালামাল রাখা গোডাউনে আগুন লাগিয়ে দেয়। ফলে তার পুরো গোডাউন জ্বলে-পুড়ে অঙ্গারে পরিনত হয়। এতে তার প্রায় ২৫ লক্ষ টাকার মত ক্ষয়ক্ষতি হয়। ফলে সে একেবারেই নিঃস্ব-সর্বশান্ত হয়ে গেছে।
গোডাউনে পাশের মসজিদের সাবেক খতিব মুফতি আবদুল ওয়াদুদ বলেন, ‘ রাসেল ছেলেটি অনেক ভাল। আগুনের যে ধরণ তাতে বুঝা যায়, এটা পরিকল্পিত লাগানো।
আরেক প্রতিবেশী জানান, ‘ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের লোকেরা সকালে এসে মিটার নিয়ে গেছে এবং জানিয়েছে, এটা শকট সার্কিট হয়নি বা বিদ্যুৎ এর কারণে আগুন লাগেনি।’
অন্য প্রতিবেশী বলেন, ‘মা ঘুম হতে উঠছে নামাজের জন্য। এখানে সব সময় হালকা ফর্সা থাকে। কিন্তু এখানে প্রচুর ফর্সা থাকায় মা উকি দিয়ে দেখেন, গোডাউনে আগুন লেগেছে। মা চিৎকার করে আমাকে ডেকে তুলেন। আমি দৌড়ে গিয়ে ওদের জানাই।’

অন্য একজন প্রতিবেশী জানান, আগুন দেখে ফায়ার সার্ভিসে খবর দিলে তারা প্রায় আধাঘন্টা চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। কিন্তু ততক্ষণে আগুনে সব ছাই।’
ক্ষতিগ্রস্ত রাসেল মিয়া জানান, আমি রাতের প্রথম দিকেই গোডাউনে মালামাল রেখে বাসায় চলে যাই। পরে শেষ রাতে আমাকে ঘুম হতে জাগিয়ে জানানো হয়, আমার গোডাউনে আগুন জ্বলছে। আমি এসে দেখি পুড়ে সব ছারখার। ফারার সার্ভিসকে জানালে তারা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ততক্ষণে আমার কোন কিছুই বাকি নেই। কে বা কারা লাগিয়েছে আমি জানিনা। কীভাবে লাগছে তাও জানিনা। যেভাবেই লাগুক আমি তদন্তের মাধ্যমে সুরাহা চাই।’

উপস্থিত সকলেই চায় এটা একটি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য বের হয়ে আসুক। রাসেলের জীবিকা নির্বাহের একমাত্র মাধ্যম ছিল এই ডেকোরেটর ব্যবসা। আগুনে সব পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ায় সে এখন পথের ফকীর। তার পরিবারের জীবিকা নির্বাহের মত আর কিছু নেই।
এখন ৭ জনের এই সংসার কীভাবে পরিচালনা করবে তা নিয়ে সেসহ পুরো পরিবার চিন্তিত। তার পরিবার পরিচালনায় এখন সে দিশেহারা।

