নিউজ ডেস্ক

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিতর্কিত পোস্ট কেন্দ্র করে উপজেলা খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার নিয়োগ স্থগিত করেছে প্রশাসন। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। তাদের দাবি, শতভাগ স্বচ্ছতা ও নিয়ম মেনে ডিলার নিয়োগ হয়েছে। এক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি। তাই দ্রুত নিয়োগ পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন তারা।


জানা গেছে, রায়পুরা উপজেলার ২৪টি ইউনিয়নের জন্য খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোশাররফ হোসেন সাগর তার ব্যক্তিগত ফেসবুকে লেখেন, “রায়পুরা উপজেলার যেসব নেতা ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকার বিনিময়ে খাদ্যের ডিলারশিপ লাইসেন্স বিক্রি করেছেন, তাদের মুখোশ শিগগির উন্মোচন করা হবে।”


এই পোস্টের পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় কয়েকটি পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। বিষয়টি আলোচিত-সমালোচিত হলে গত ১১ জুন (বুধবার) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদ রানা ডিলার নিয়োগ আপাতত স্থগিতের ঘোষণা দেন। শতভাগ স্বচ্ছতা ও নিয়ম মেনে ডিলার নিয়োগ করা হয়েছে।


এ বিষয়ে রায়পুরা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান খোকন বলেন, উপজেলা যুবদলের ওই নেতা বিকারগ্রস্ত। তার পছন্দের লোক নিয়োগ না পাওয়ায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই অপপ্রচার চালিয়েছে। আমি কারও কাছ থেকে এক পয়সাও নিইনি। যদি প্রমাণ হয়, আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব। বিএনপির ভাবমর্তিক্ষুন্ন করতে আওয়ামী দুষরা বিভিন্ন ভাবে ষড়যন্ত্র করেছেন।


তিনি আরও বলেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক প্রকল্প। এখানে দলের অনেক নেতৃবৃন্দের সমন্বয় করে স্বচ্ছ নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে।


রায়পুরা উপজেলা যুবদলের আহবায়ক আলফাজ উদ্দিন মিঠু বলেন, ডিলার নিয়োগের বিষয়টি সম্পূর্ণ অফিসিয়াল কাজ । আমার জানামতে, নিয়োগের আগে বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেক নেতৃবৃন্দের সাথে পরামর্শ করে উপজলা নিবর্াহী অফিসার নিয়োগ দিয়েছেন। অভিযোগটি ভিত্তিহীন। দলের নেতার্কমীদের বিরোদ্ধে অপ্রচার করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে কোন ষড়যন্ত্র করা হলে কঠোর হাতে দমন করা হবে।


নিয়োগপ্রাপ্ত একাধিক ডিলার বলেন, তারা সরকারি সকল নিয়ম মেনে আবেদনপত্র জমা দিয়ে তারা নিয়োগ পেয়েছেন। একজন ডিলার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সব কিছু যাচাই-বাছাই করে আমাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এখন একটি ফেসবুক পোস্টের কারণে যদি নিয়োগ বাতিল হয়, সেটা অন্যায়। ডিলার নিয়োগ বহাল রাখার জন্য জোর দাবী করা হয়। ডিলার নিয়োগ নিয়ে তালবাহান করা চলবে না।


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা বলেন, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে আমরা স্থানীয় সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে আলোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমেই চূড়ান্ত করেছি। তবে সংবাদ প্রকাশের পর পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়োগ আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।


স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা একযোগে দাবি জানিয়েছেন, যথাযথ প্রক্রিয়ায় নিয়োগপ্রাপ্ত ডিলারদের অবিলম্বে পুনর্বহাল করতে হবে। অপপ্রচারের ভিত্তিতে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি স্থগিত হওয়া সঠিক হবে না। বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরোদ্ধে আওয়ামী অপশক্তি কারীদেরকে চিন্থিত করে আইনী ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য জোর দাবি করা হয়। ডিলারে নিয়োগ দ্রুতব হাল রাখার জন্য প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি।