মোঃ হাছনাইন
তজুমদ্দিন (ভোলা) প্রতিনিধি

ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার কামারপট্টি রোড এলাকায় চাঁদার দাবিতে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে গণধর্ষণের একটি মর্মান্তিক ঘটনার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী শানু বেগম জানান, তার স্বামী রবিউলের ২য় স্ত্রী রোববার (২৯ জুন ২০২৫) কৌশলে রবিউলকে ফোন করে তজুমদ্দিন বাজার সংলগ্ন কামারপট্টি রোডের একটি বাসায় ডেকে নেয়। সেখানে পৌঁছানোর পর রবিউলকে আটক করে উপজেলা শ্রমিকদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফরিদ, উপজেলা যুবদল নেতা আলাউদ্দিন ও ছাত্রদল নেতা রাসেল,সজীবসহ ৫-৬ জন মিলে চার লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।

চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে অভিযুক্তরা রবিউলের ওপর বেধড়ক মারধর করে শারীরিকভাবে গুরুতর জখম করে। ঘটনার সময় রবিউল স্ত্রীর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করলে শানু বেগম দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। সেখানে এসে তিনি দেখতে পান, তার স্বামীকে নির্মমভাবে প্রহার করা হচ্ছে। স্বামীকে বাঁচাতে গেলে অভিযুক্তরা শানু বেগমের গায়ের ওপর দিয়েই রবিউলকে আরও মারধর করে। একপর্যায়ে তারা ১০ হাজার টাকা দিতে রাজি হলেও, তা না মেনে আবারও হামলা শুরু করে। পরে রবিউলকে জোরপূর্বক একটি দোকানে নিয়ে গিয়ে চা খাওয়ানোর নামে অবস্থান করায়।

এই সুযোগে ফরিদ, আলাউদ্দিন, রাসেল, সজীবসহ কয়েকজন সহযোগী বাসায় থেকে যায় এবং ৪-৫ জন পাহারায় রেখে শানু বেগমকে মুখ চেপে ধরে পর্যায়ক্রমে ধর্ষণ করে। শানু বেগম জানান, কান্নাকাটি করে, পায়ে ধরে বারবার অনুরোধ করলেও বর্বর নির্যাতন থেকে রক্ষা পাননি।

তজুমদ্দিন থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ফিরোজ আলম জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলার কাজ চলমান রয়েছে এবং তদন্ত শেষে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় প্রধান আসামিসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে একজনকেও গ্রেফতার করা হয় নাই। এ জাতীয় নৃশংস ঘটনায় প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে সচেতন এলাকাবাসী।