নিউজ ডেস্ক
নরসিংদী সদর উপজেলা কাঁঠালিয়া ইউনিয়ন ৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মতিন মোল্লার বিরুদ্ধে একজন শিশুকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। শিশুটি মতিন মোল্লার বাড়ির পাশেই একটি ব্রাক স্কুলের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
এলাকাবাসীর তথ্য মতে, মতিন মোল্লার বাড়ীর পিছনে একটি গাছে ভিমরুল এর বাসা রয়েছে।
এতে শিক্ষার্থীরা স্কুলে এসে ঢিল মারে। ঘটনার দিন কে বা কারা ঢিল মারলে তিনি ছুটে এসে কয়েকজন শিক্ষার্থীকেকে জিজ্ঞেস করেন এবং তাদের মধ্যে প্রথম শ্রেণিতে পড়ুয়া সোহাগীকে স্কুলে ঢুকে কিল ঘুষি ও হাতে থাকা মোড়া দিয়ে পিঠে আঘাত করে। ফলে সে তৎক্ষণাৎ পরে যায়। সকলে তাকে আগলে বাসায় নিয়ে যায়।
এব্যাপারে স্কুলের শিক্ষক আসমা বেগম বলেন, আমি স্কুলে ছিলাম না। এসে শুনি মতিন মোল্লা আমার স্কুলের শিক্ষার্থী সোহাগীকে মেরেছে; চড়-থাপ্পড় দিয়েছে। তার গালে আঘাতের চিহ্ন ছিল থাপ্পড়ের। এটা নিয়ে তার সাথে আমার তর্ক হয়েছে।
এলাকায় মতিন মোল্লার কয়েকজন শুভাকাঙ্ক্ষী সাংবাদিক দেখে তার জন্য সুপারিশ করতে থাকেন।
একজন বৃদ্ধা বলেন, তাকে স্কুলের ভিতরে এসে মেরেছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সোহাগীকে জিজ্ঞেস করা হলে সে বলতে থাকে, ‘ আমাকে মতিন যে হেয় ৩ টা কিল দিসে। পিঠে থাপ্পড় দিছে আর মোড়া দিয়ে বারি দিছে।
অভিযুক্ত মতিন মোল্লাকে জিজ্ঞেস করলে সে জানায় তাকে তিনি মারেননি। শুধুমাত্র ধমক দিয়েছেন। অথচ শিশু আইন-২০১৩ অধ্যাদেশে বর্ণিত আছে,কোন ব্যক্তি যদি তাহার হেফাজতে, দায়িত্বে বা পরিচর্যায় থাকা কোন শিশুকে আঘাত, উৎপীড়ন, অবহেলা, বর্জন, অরক্ষিত অবস্থায় পরিত্যাগ ব্যক্তিগত পরিচর্যার কাজে ব্যবহার বা অশালীনভাবে প্রদর্শন করে এবং এইরূপভাবে আঘাত, উৎপীড়ন, অবহেলা, বর্জন, পরিত্যাগ ব্যক্তিগত পরিচর্যা বা প্রদর্শনের ফলে উক্ত শিশুর অহেতুক দুর্ভোগ সৃষ্টি হয় বা স্বাস্থ্যের এইরূপ ক্ষতি হয়, যাহাতে সংশ্লিষ্ট শিশুর দৃষ্টিশক্তি বা শ্রবণশক্তি নষ্ট হয়, শরীরের কোন অঙ্গ বা ইন্দ্রিয়ের ক্ষতি হয় বা কোন মানসিক বিকৃতি ঘটে, তাহা হইলে তিনি এই আইনের অধীন অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে এবং উক্ত অপরাধের জন্য তিনি অনধিক ৫ (পাঁচ) বৎসর কারাদণ্ড অথবা অনধিক ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।’
শিশু নির্যাতনের আইন এত কঠোর হওয়ার পরও তারা নাকি সামাজিকভাবে ফয়সালা করে ফেলছে। এটা নিয়ে যাতে সংবাদ প্রকাশ না হয় সে জন্য তিনি সাংবাদিকদের সাথে লিয়াজো করতে চান। কিন্তু গণমাধ্যম কর্মীরা এই ব্যাপারে আপোষ করেননি।
তাহলে এই মতিন মোল্লারা সমাজে যা করছে। আইনের প্রয়োগ হলে কখনো শিশু নির্যাতনের শিকার হবেনা।

