নিউজ ডেস্ক
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে ‘এক শহিদ, এক বৃক্ষ’ কর্মসূচির আওতায় আজ শনিবার সারাদেশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ কর্মসূচিতে জেলায় যতজন শহিদ হয়েছেন ততগুলো গাছ রোপণ করা হয়।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় জুলাই অভ্যুত্থানে শহিদদের আত্মত্যাগকে সম্মান জানিয়ে ‘এক শহিদ, এক বৃক্ষ’ শীর্ষক এ কর্মসূচি গ্রহণ করে। জুলাই পুনর্জাগরণ অনুষ্ঠানমালার অংশ হিসেবে ৬৪টি জেলায় সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে বন অধিদপ্তর সারাদেশে বৃক্ষরোপণ করে।
চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মো. মোহসীন উদ্দিন ‘এক শহিদ, এক বৃক্ষ’ কর্মসূচির আওতায় চাঁদপুরে জুলাই শহিদদের কবরের পাশে সোনালু গাছ রোপণ করেন। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলার আট উপজেলার ৩১ জন শহিদের কবরের পাশে ৩১টি গাছের চারা রোপণ করা হয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের স্মরণে নোয়াখালী জেলা প্রশাসক খন্দকার ইসতিয়াক আহমেদ আজ দুপুরে সোনাপুর ডিগ্রী কলেজ প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এই কর্মসূচিতে জেলার ২৬জন শহিদের স্মরণে ২৬টি বৃক্ষরোপণ করা হয়।
সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদদের স্মরণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন। জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের যৌথ ব্যবস্থাপনায় জেলার ১৩ শহিদের নামে ১৩টি সোনালু প্রজাতির বৃক্ষ রোপণ করা হয়।
নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ‘এক শহিদ, এক বৃক্ষ’ স্লোগানে জুলাই অভ্যুত্থানের শহিদদের আত্মত্যাগকে সম্মান জানিয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন। জেলার হাজীগঞ্জে অবস্থিত দেশের প্রথম ‘জুলাই শহিদ স্মৃতিস্তম্ভ’ প্রাঙ্গণে ২১ টি বকুল ফুলের গাছ রোপণ করা হয়।
কুড়িগ্রামে আজ সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে বৃক্ষ রোপণের মধ্যে দিয়ে ‘এক শহিদ, এক বৃক্ষ’ কর্মসূচি’অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক নুসরাত সুলতানা।
এ সময় কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান, শহীদ পরিবারের সদস্যবৃন্দ সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
নেত্রকোণা জেলা শহরের জেলা প্রশাসক বনানী বিশ্বাসের উপস্থিতিতে বিএডিসি ফার্মের রাস্তায় জেলার ১৭ জন শহিদের স্মরণে ১৭ টি ফলজ,বনজ ও ওষুধি গাছ রোপণ করা হয়।
বনানী বিশ্বাস বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেত্রকোণা জেলার ১৭ জন শহিদের স্মরণে ১৭ টি গাছ রোপণ করা হয়েছে । প্রত্যেকটি গাছের সাথে শহিদদের নামাঙ্কিত ফলক থাকবে।
এসময় নেত্রকোণা জেলা পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ, শহিদ পরিবারের সদস্য সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মাগুরায় জেলা প্রশাসক মো. অহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে জুলাই শহিদদের স্মরণে সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে জেলার ১০ জন শহিদের স্মরণে ১০টি বৃক্ষরোপণ করা হয়। এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাগুরার পুলিশ সুপার মিনা মাহমুদা ।
লক্ষ্মীপুরে সদর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে জেলা প্রশাসক রাজীব কুমার সরকার শহীদ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বৃক্ষরোপণ করেন। এসময় জুলাই শহীদদের নামে গাছ গুলোর নামকরন করা হয়।
‘এক শহিদ এক বৃক্ষ’কর্মসূচির আওতায় ফেনী সদর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে দুইজন শহীদের স্মরণে দুইটি গাছের চারা রোপণ করা হয়। এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইসমাইল হোসেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে পঞ্চগড়ের পাঁচ শহিদ স্মরণে জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের যৌথ আয়োজনে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সুমন চন্দ্র দাশ ‘এক শহীদ এক বৃক্ষ’ কর্মসূচির আওতায় শহিদের নামে পাঁচটি গাছের চারা রোপণ করেন।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সুমন চন্দ্র দাশ বলেন, এই কর্মসূচির মাধ্যমে শহিদদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষার বার্তাও ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। শহিদের নামের সঙ্গে গাছগুলো যতদিন থাকবে, ততদিন বেঁচে থাকবে তাদের গল্প, তাদের আদর্শ।
এছাড়াও চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, ময়মনসিংহ, সিলেট, খাগড়াছড়ি, ভোলা , সুনামগঞ্জ, টাঙ্গাইল, বগুড়া, লালমনিরহাট, জামালপুরসহ দেশের আটটি বিভাগের সব জেলায় ‘এক শহিদ এক বৃক্ষ’ কর্মসূচির আওতায় একযোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

