আহসানুল হক নয়ন
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশবান্ধব একটি প্রাকৃতিক জলাশয় ধ্বংসের মুখে। শহরের জেলা ঈদগাহ মাঠের দক্ষিণ পাশে, দারুগা বাড়ির পেছনে অবস্থিত উত্তর মৌড়াইল পুকুরপাড় এলাকার শতবর্ষী একটি পুকুর বর্তমানে প্রভাবশালী এক ব্যক্তির দখলে চলে গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মৃত নুরুল হকের পুত্র শামছুল হক ছোটন দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে আসছেন। সম্প্রতি তিনি দিনরাত প্রকাশ্যে ট্রাক্টর ও ছোট ট্রাক ব্যবহার করে পুকুরটিতে বালু ভরাট করছেন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাঁশের ব্যান দিয়ে চারপাশ ঘিরে রেখে বালু ফেলে পুকুরটি ধীরে ধীরে ভরাট করা হচ্ছে।

 আইন আছে, প্রয়োগ নেইঃ বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ এবং জলাধার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, প্রাকৃতিক জলাশয় ভরাট করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবুও দিনের আলো ও রাতের অন্ধকারে প্রকাশ্যেই চলছে এ কর্মকাণ্ড। 

অভিযুক্ত শামছুল হক ছোটনের দাবি, তিনি নাকি সরকারি নিয়ম অনুযায়ী এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি নিয়েই ভরাট করছেন। তবে, এ পর্যন্ত তার কাছে কোনো বৈধ কাগজপত্র বা অনুমতিপত্র পাওয়া যায়নি। কিন্তু তার বাদি তার কাছে সকল কাগজপত্র রয়েছে।

এলাকার বাসিন্দারা জানান, পুকুরটি বহু বছর ধরে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রেখে এসেছে। কিন্তু বর্তমানে তারা কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। একজন বয়স্ক বাসিন্দা বলেন —“এই পুকুরটা বাপ-দাদার সময় থেকে আছে। এখন যদি ভরাট হয়, ভবিষ্যতে আমাদের এলাকা পানিতে থইথই করবে।” “ছোটনের ভয়েই তো কেউ মুখ খুলতে পারে না। প্রশাসন চাইলে এই অন্যায় এখনই বন্ধ করতে পারে।”

অবিলম্বে পরিবেশ সচেতন মহল ও স্থানীয় নাগরিকরা এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেন, “পুকুর একবার ভরাট হয়ে গেলে তা আর ফিরে পাওয়া যাবে না। পরিবেশের ক্ষতি হবে স্থায়ীভাবে।”

তরী বাংলাদেশ আহবায়ক শামীম আহমেদ জানান, পরিবেশ আইনে পুকুর ভরাটের সুযোগ নেই। মসজিদ-মন্দিরের নামে পুকুর ভরাট একটি কৌশল মাত্র। আমরা অতীতেও দেখেছি পুকুর ভরাট করতে না পেরে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নামে খানিক ভরাট করে পরে আস্তে আস্তে পরিকল্পিত ভাবপ পুরো পুকুরটি ভরাট করে যা পরিবেশ আইনের পরিপন্থী। প্রাকৃতিক পরিবেশ সুরক্ষায় শহরের সরকারি-বেসরকারি সবগুলো পুকুর তালিকাবদ্ধ করে গেজেট আকারে প্রকাশ করা উচিৎ।

এদিকে স্থানীয় প্রশাসনের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় প্রশ্ন উঠছে—প্রশাসন নিরব কেন?