
আজ ৩৬ জুলাই (৫ আগস্ট) মঙ্গলবার দেশে প্রথমবারের মতো জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস পালিত হচ্ছে। দিবসটিতে গণ-অভ্যুত্থানের সব পক্ষের উপস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস আজ বিকেল ৫টায় রাজধানীর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করবেন।
বাংলাদেশ টেলিভিশন অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করবে বলে জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেস উইং।
গত বছর এই দিনে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এরপর ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা করে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। পরে সরকার ৫ আগস্টকে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ ঘোষণা করে। দিবসটি উপলক্ষে আজ সাধারণ ছুটি থাকবে। দিবসটি উপলক্ষে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পৃথক বাণী দিয়েছেন।
৫ আগস্টকে বাংলাদেশের ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় দিন উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল একটি বৈষম্যহীন, দুর্নীতি ও স্বৈরাচারমুক্ত নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করে রাষ্ট্রকে জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নে রাষ্ট্রযন্ত্রের সব খাতে ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করেছে।’
রাজনৈতিক দল ও অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা চলমান রয়েছে জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘টেকসই রাজনৈতিক সমাধানের পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের কাছে রাষ্ট্রের সব ক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে অন্তর্বর্তী সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।’
তিনি আরও বলেন, ‘পতিত স্বৈরাচার ও তার স্বার্থলোভী গোষ্ঠী এখনো দেশকে ব্যর্থ করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। দল-মত-নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এই ষড়যন্ত্রকে মোকাবেলা করতে হবে। সবাই মিলে আমরা এমন এক বাংলাদেশ গড়ে তুলি, যেখানে আর কোনো স্বৈরাচারের ঠাঁই হবে না।’
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁর বাণীতে বলেন, ‘বৈষম্যমূলক ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা বিলোপ করে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, জনগণের ক্ষমতায়ন এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে সুনিশ্চিত করাই ছিল জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য। একটি সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ফ্যাসিবাদের মূলোৎপাটন করে জুলাইয়ের চেতনার পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে।’
জুলাই ঘোষণাপত্র, দিনভর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও অন্যান্য কর্মসূচি: আজ বিকেল ৫টায় সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, জুলাই শহীদ পরিবারের প্রতিনিধি ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের উপস্থিতিতে রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় ঐতিহাসিক জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করবেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
এর পাশপাশি মানিক মিয়া এভিনিউয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সহযোগিতায় এসব অনুষ্ঠান বাস্তবায়ন করা হবে।
সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মানিক মিয়া এভিনিউয়ে অনুষ্ঠান শুরু হবে আজ সকাল ১১টায়। গান পরিবেশন করবেন সংগীতশিল্পী ফারজানা ওয়াহিদ সায়ান, এলিটা করিম এবং ব্যান্ডদল শূন্য, সোলস, আর্টসেল, ওয়ারফেজসহ বিভিন্ন শিল্পী ও গানের দল। সন্ধ্যায় থাকবে স্পেশাল ড্রোন ড্রামা।
মানিক মিয়া এভিনিউয়ে ‘৩৬ জুলাই’ উদযাপন ছাড়াও দেশের ৬৪ জেলায় সকাল ৯টায় ‘জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে’ পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। পাশাপাশি দেশের প্রতিটি ধর্মীয় উপাসনালয়ে মোনাজাত ও প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে। বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ‘বিজয় মিছিল’ নিয়ে মানিক মিয়া এভিনিউয়ে এসে সম্মিলিত হবেন।
দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের সব সার্কেল অফিস নিজ নিজ অধিক্ষেত্রে রাস্তার পাশে বা নিজস্ব জায়গায়, ট্রাফিক ইন্টারসেকশনে বনজ, ফলদ ও ঔষধি গাছ রোপণ করবে।
ধর্মীয় উপাসনালয়ে মোনাজাত ও প্রার্থনার আয়োজন : গণ-অভ্যুত্থান দিবস যথাযথ মর্যাদায় পালনের লক্ষে দেশের প্রতিটি ধর্মীয় উপাসনালয়ে মোনাজাত ও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে আজ। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের রুহের মাগফিরাত এবং আহতদের সুস্থতা কামনায় সকাল ১১টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে কোরআন খতম এবং বাদ জোহর দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া দেশের সব মসজিদে দোয়া ও মোনাজাত আয়োজনের জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে মসজিদের খতিব, ইমাম ও মসজিদ কমিটিসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সম্পাদক- আবদুর রহমান
০১৩০৩১১২৬৭৬
Web:https://bangladeshamar.com/ Email: doinikbangladeshamar@gmail.com
Address: F-8, KA-90,JHK WINDCEL, KURIL KAZI BARI,VATARA,DHAKA-1229.
Copyright © 2026 বাংলাদেশ আমার. All rights reserved.