মোঃ বনি
সোনার হরিণ চাকরির পেছনে সময় নষ্ট না করে এগ্রো ফার্মে মনোনিবেশ করে সফলতার খোঁজ পেলেন বি. এস. সি. (সিভিল ইঞ্জিনিয়ার) পাশ করা আমর বিন মারুফ জিতু। সল্পসময়ে তিনি এগ্রো ফার্মে সফলতা পেয়েছেন।
জানা যায়, ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার কাপাশহাটীয়া ইউনিয়নের শিতলী গ্রামের রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আব্দুল ওয়াহেদ এর ছেলে, জিতু ২০১৪ সালে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা থেকে বি. এস. সি. (সিভিল ইঞ্জিনিয়ার) পাশ করেন। লেখাপড়া করে চাকরি করতে হবে এমন ইচ্ছা ছিলো না তার। সময় নষ্ট না করে উদ্যোক্তা হওয়ার চিন্তা করেন এবং সিদ্ধান্ত নেন এগ্রো ফার্মে সাফল্য অর্জনের। কিছু বুঝে উঠার আগেই তাই প্রথমে ২০১৪ সালে ডেইরী ফার্মের মধ্যে যাত্রা শুরু করেন।
এরপর ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠা করেন হাই সেক্স লেয়ার প্রজেক্টের জোয়ার্দ্দার এগ্রো ফার্ম। পরবর্তীতে নাহার এগ্রো লিমিটেডের সেভার ব্রাউন লেয়ার মুরগী পালন করেন। বর্তমানে ৪০০০(চার হাজার) লেয়ার মুরগীতে প্রতিদিন ৩৫০০(পঁয়ত্রিশত) ডিম উৎপাদন করছেন ঐ উদ্দ্যোক্তা। বাবার ৮২ শতাংশ জমিতে জোয়ার্দ্দার এগ্রো তৈরী করে ব্যাপকভাবে লাভের আশা করছেন। সফল উদ্দ্যোক্তা
আমর বিন মারুফ জিতু সাংবাদিকদের জানান, এই ফার্মের মুরগী ৬ মাস পর থেকে ১৮ মাস পর্যন্ত ডিম দিয়ে থাকে। প্রতিদিন ৪ হাজার মুরগীর জন্য ২০হাজার টাকার খাবার দিতে হয়। আমি কিছু ঋণ দেনা ও নিজেস্ব অর্থায়নে কোলাহল মুক্ত, উন্মুক্ত পরিবেশে তৈরী করেছি জোয়ার্দ্দার এগ্রো ফার্ম। খুব স্বল্প মূল্যে এই ফার্মের ডিম শুধু হরিণাকুণ্ডু উপজেলাতেই সাপ্লাই হয় না, জেলা শহরের ডাকবাংলাতেও সাপ্লাই হয়। প্রতিনিয়ত উপজেলার মানুষের আমিষের চাহিদা মিটিয়ে অন্যত্রেও যোগান দিয়ে থাকি। ৩ জন বেকার যুবক অক্লান্ত পরিশ্রমে নিজের মতো করে শ্রম দিয়ে উপার্জিত অর্থ দিয়ে তাদের পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে থাকে।
ফার্মের ম্যানেজার জানান,আমি এই ফার্মে চাকরি করে আমার সংসার চলে। গ্রামে থেকেই এক বছর যাবৎ চাকরি করছি। শিতলী গ্রামের আব্দুল লতিফ জানান,জিতুর ফার্মের মুরগীর ডিম খুব মোটা হয় তাই আমি এখন আর দোকান থেকে কিনি না। ৫ নং কাপাশহাটীয়া ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের মেম্বার রতন আলী জানান, শিক্ষিত বেকার যুবক চাকরির পেছনে না ঘুরে উদ্দ্যোক্ত হলে দোষের কিছুই নাই।আমাদের এলাকায় ২টা ফার্ম আছে, তারা এখন সফল।
উপজেলার হাজী আরশাদ আলী ডিগ্রী কলেজের ছাত্র শাহরিয়ার নাফিজ বলেন,আমি লেখা পড়া শেষ করে চাকরির পেছনে না ছুটে ঊদ্যোক্তা হওয়ার ইচ্ছা আছে। যেহেতু এটা একটি ভালো উদ্যোগ বড় ভাইয়েদের এমন কর্মকাণ্ডে আমি অত্যান্ত খুশি।
উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা: উজ্জ্বল কুমার কুণ্ডু জানান, উপজেলাতে এগ্রো (মুরগী) ফার্ম মোট ৪৮ টি, তারমধ্যে রেজিষ্ট্রেশনকৃত খামার ২৭টি।রেজিষ্ট্রেশনকৃত মোটাতাজা করন গরুর খামার আছে ৩৬ টি। ডেইরী ফার্ম মোট রেজিষ্ট্রেশনকৃত ১৬ টি, আর অনিবন্ধিত ৮৮ টি। মোট খামার ১০৪ টি খামার আছে। এ ছাড়াও ক্ষুদ্র পরিসরে একটি বা দুইটি গরু নিয়ে গড়ে উঠেছে অসংখ্য খামার।সু-চিকিৎসা নিশ্চিত সহ আমাদের কার্যালয় থেকে খামারীদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হয়। তাছাড়াও খামারগুলোতে নিয়মিত পরিদর্শনপূর্বক নানা ধরনের সরকারি সহায়তা প্রদান করা হয়ে থাকে বলেও জানান ঐ কর্মকর্তা।

