মোঃ আশিকুর রহমান
আজমিরীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

আজমিরীগঞ্জে আবারও দোকানে নগদ টাকা সহ লক্ষাধিক টাকার মালামাল চুরির ঘটনা ঘটেছে। প্রতিনিয়ত চোরের উৎপাতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন আজমিরীগঞ্জ  উপজেলার বাসিন্দারা।

প্রতি রাতেই উপজেলার কোথাও না কোথাও ঘরে, দোকানে গরুসহ বিভিন্ন চুরির ঘটনা ঘটছে। লাগামহীন চুরির ঘটনায় দিশাহারা হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।নেই কোনো প্রতিকার। চোরের উৎপাতে অতিষ্ঠ খোদ প্রশাসনও।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ১লা সেপ্টেম্বর শিবপাশা গ্রামের সবুজগঞ্জ বাজার সংলগ্ন খলাবাড়ির কাওছার চৌধুরীর স্টেশনারি দোকানে একদল চোর আজ ভোররাতে দোকানের পিছনের দরজা কেটে প্রবেশ করে৷ এসময় দোকানের  প্রায় লক্ষাধিক টাকা মালামাল চুরি করে এবং জনতার হাতে এক চোর আটক ও হয়।

পুনরায় আজ ৪ ই সেপ্টেম্বর রোজ বৃহস্পতিবার উপজেলার জলসুখা ইউনিয়নের নোয়াগড় গ্রামের বাজারের ফুরকান মিয়ার ছেলে ফাহিম মিয়ার দোকানের চালের উপরের টিন কেটে দোকানের ভিতর থেকে প্রায় নগদ ৪০ হাজার টাকা ও লক্ষাধিক টাকার মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়। 

ফাহিম মিয়ার সঙ্গে মুঠোফোন আলাপ করলে তিনি জানান ফজরের নামাজের পর  ফাহিমের বাবা দোকানের দরজা খোলা দেখে ভিতরে গিয়ে দেখেন দোকানের মেঝেতে কিছু মালামাল পরে রয়েছে। তারপর ফাহিম খবর পেয়ে এসে দেখে নগদ ৪০ হাজার টাকা ও লক্ষাধিক মালামাল চুরি  হয়েছে, এই বিষয় নিয়ে  আজমিরীগঞ্জ থানায় অবগত করার পর বিট অফিসার তদন্ত করেন।

এই বিষয় নিয়ে জলসুখা ইউনিয়ন বিট অফিসার এস আই জিয়াউল করিম এর সঙ্গে মুঠোফোন আলাপ করলে তিনি জানান,  চুরি বিষয়ে তারা আমাকে মুঠোফোনে সকালে জানিয়ে ছিল, শুনে দোকানে এসে কিছু আলামত পেয়েছি, উপরের টিন কাটা রয়েছে। তবে এবিষয়ে থানায় কোন অভিযোগ করা হয় নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নোয়াগড়  গ্রামের এক  জানান,  এলাকার চিহ্নিত চোর-বাটপার আর মাদকসেবীদের সঙ্গেই পুলিশের দহরম-মহরম সম্পর্ক। টহল কিংবা চুরির তদন্তে এসে চোরের সঙ্গেই চা খায় পুলিশ। ফলে প্রশাসনের প্রতি আস্থা হারাচ্ছে মানুষ।

এই বিষয়ে আজমিরীগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ ওসি শফিকুল ইসলাম সঙ্গে মুঠোফোন আলাপ করলে তিনি বলেন কোন কোন জায়গা থেকে সংবাদ পেলেন, এখন পর্যন্ত কোন আমার কাছে কোন সংবাদ আসেনা। নোয়াগড় বাজারের দোকানের চুরির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এস আই  জিয়াউল করিমের সঙ্গে আলোচনা করে জানাব।