বিজয় কর রতন
মিঠামইন (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি


কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে দুই সাংবাদিক অপমানজনক আচরণের শিকার হয়েছেন।

বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকালে শারদীয় দুর্গাপূজার দায়িত্ব বণ্টন সংক্রান্ত বিষয়ে উপজেলা আনসার ভিডিপি কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।


ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা হলেন দৈনিক ইনকিলাব প্রতিনিধি মো. নাদিরুজ্জামান আজমল ও দৈনিক সকালের সময় প্রতিনিধি মাহবুব আলম। তাদের অভিযোগ, উপজেলা আনসার ভিডিপি প্রশিক্ষক মো. রমজান মিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, “আমরা বাথরুমে থাকব, বউ নিয়ে থাকব, তার মধ্যে সাংবাদিক আসবে কেন? কটিয়াদিতে সাংবাদিক পিঠাইয়া আইছি।”
তার এই বক্তব্যে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্বে বাধা ও সরকারি অফিসকেই ব্যক্তিগত বেডরুম বানানোর কুরুচিপূর্ণ ইঙ্গিত মেলে বলে জানান সাংবাদিকরা।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রমজান মিয়া কটিয়াদিতে দায়িত্বে থাকাকালীন সময়েও নানা অনিয়ম ও বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন।

এমনকি তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন, কটিয়াদিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলার একটি ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা ছিল।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে উপজেলা আনসার ভিডিডিপি প্রশিক্ষক রমজান মিয়া এ প্রতিনিধিকে জানান, সাংবাদিকদের সাথে আমার একটি ঝামেলা হয়েছিল, যা বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায়ও এসেছিল। এজন্যই আজকে আমি হাওরে জেল খাটতে এসেছি।


অভিযোগ প্রসঙ্গে জেলা আনসার ভিডিপি কমান্ড্যান্ট আশরাফুল হক জানান, তিনি বিষয়টি জানেন তবে ব্যস্ততার কারণে পদক্ষেপ নিতে পারেননি।

অপরদিকে উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা বুলবুলি আক্তার প্রশিক্ষকের বক্তব্যটি দুঃখজনক বলে জানান।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দিলশাদ জাহান বলেন, “আপনারা লিখিত অভিযোগ দিন, আমি বিষয়টি আনসার ভিডিপি কর্তৃপক্ষকে জানাব। এখানে আমি সরাসরি কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারব না।”


ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, ঘটনাটির ভিডিও ফুটেজ তাদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। স্থানীয়রা পরিস্থিতি সামাল দিলেও সাংবাদিক মহল এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

সচেতন মহলের মতে, একজন সরকারি দায়িত্বশীল কর্মকর্তার মুখে এ ধরনের বক্তব্য শুধু অশোভনই নয়, বরং গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তার জন্য ভয়াবহ হুমকির ইঙ্গিত বহন করে। তারা দ্রæত তদন্ত সাপেক্ষে দায়ী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।