ওমর ফারুক
বার্তা সম্পাদক

সদর উপজেলার মাধবদী ও নুরালাপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ঘুষ–দুর্নীতি যেন প্রতিদিনের ঘটনা। সেবাগ্রহীতারা বলছেন, অফিসের কর্মকর্তা–কর্মচারীদের ‘খুশি’ না করলে তাদের ফাইল বছরের পর বছর ধরে পড়ে থাকে।

মাধবদী বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. আয়নাল হক বলেন,“আমি নায়েব মোর্শেদের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করেই প্রায় অর্ধ কোটি টাকার জমি আমার ছেলে সোহানের নামে কিনে নামজারি করি। কিন্তু অবাক হয়ে দেখি, একই জমি পরবর্তীতে অন্য একজনের নামে পুনরায় খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে কথা বললে ভূমি কর্মকর্তা মো. মোর্শেদ আলম কৌশলে আর্থিক সুবিধা দাবি করেন।”

এমন অভিযোগ শুধু একজনের নয়, প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ হচ্ছেন প্রতারণা ও হয়রানির শিকার। সেবাগ্রহীতাদের দাবি, ওই কর্মকর্তা ও তার সহযোগীরা প্রতিদিনই  টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন ঘুষের মাধ্যমে।

এ বিষয়ে সাংবাদিকরা ভূমি কর্মকর্তা মো. মোর্শেদ আলমের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন,

“কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া আমি ক্যামেরার সামনে কিছু বলতে পারব না। যা কিছু করি, তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই করি।”

সরকারি বিধি অনুযায়ী নামজারির সর্বমোট ফি নির্ধারিত ১,১৭০ টাকা। কিন্তু মাধবদী ও নুরালাপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে আদায় করা হচ্ছে ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। এর মধ্যে ‘কেস ফাইলিং’ ও ‘ডিসিআর’ বাবদ অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষকে প্রতিটি কাজে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ।

ভুক্তভোগী আয়নাল হক জানিয়েছেন, তিনি ইতোমধ্যে নরসিংদী জেলা প্রশাসক ও সদর ভূমি অফিসে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে অভিযোগ দেওয়ার দেড় মাস পার হলেও এখনও এর কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।

এই ধীরগতির প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। অভিযোগ করা হয়েছে ১৮ আগস্ট, কিন্তু আজও তার তদন্ত বা সমাধানের উদ্যোগ দেখা যায়নি। তাহলে কি অভিযোগের ফাইলও চাপা পড়ে যাবে অফিসের ধুলো জমা কেবিনেটে?

নরসিংদী সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সিনথিয়া হোসেন বলেন,“জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ গেছে। তিনি যেভাবে নির্দেশনা দেবেন, আমরা সেভাবে ব্যবস্থা নেব। এখনো আমার কাছে কোনো নির্দেশনা আসেনি; নির্দেশনা এলেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, ভূমি অফিসগুলোতে গড়ে ওঠা দালালচক্র ও ঘুষ বাণিজ্যের এই সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে প্রশাসনের জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন। অন্যথায় সরকারি সেবার মুখচ্ছবি আরও কলঙ্কিত হবে এবং সাধারণ মানুষের আস্থা একেবারেই হারিয়ে যাবে।