জাবির আহম্মেদ জিহাদ
ইসলামপুর (জামালপুর) প্রতিনিধি

১০ অক্টোবর—মানবতার প্রতি গভীর মমতা আর বিজ্ঞানচর্চায় নিবেদিত তরুণ প্রতিভা জাবির আহম্মেদ জিহাদের জীবনের এক বিশেষ দিন। তিনি আজ কুড়িতে পা দিলেন। ২০০৫ সালের এই দিনে জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বৌশেরগড় গ্রামে যমুনা নদীর তীরে তাঁর জন্ম হয়। পিতা মো. উসমান গণী এবং মাতা বেগম জরিনা–এর আদরের সন্তান জাবির ছোটবেলা থেকেই সাহিত্য, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিচর্চায় দেখিয়েছেন অসাধারণ আগ্রহ।

বর্তমানে তিনি অনার্সের দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত এবং অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস’-এর তরুণ রিপোর্টার হিসেবে কর্মরত আছেন। সে “দৈনিক বাংলাদেশ আমার” পোর্টালের অস্থায়ী প্রতিনিধিো। ২০২২ সালে সাংবাদিকতার মাধ্যমে যাত্রা শুরু করলেও, অল্প সময়েই তাঁর কাজ ও লেখনী তরুণ প্রজন্মের অনুপ্রেরণায় পরিণত হয়েছে।

জাবির আহম্মেদ জিহাদ শুধু সাংবাদিকই নন, তিনি একজন উদীয়মান কবি ও লেখক। ছড়া, কবিতা, গল্প ও সায়েন্স ফিকশন–এ তাঁর অবাধ বিচরণ তাঁকে সৃজনশীল তরুণদের মাঝে আলাদা করে তুলেছে। ইতোমধ্যে তাঁর শতাধিক লেখা বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকা, সাহিত্যপত্রিকা এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত হয়েছে। স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রকাশিত যৌথ কাব্যগ্রন্থ ‘অন্তরবৃত্তে স্বাধীনতা’-তে তাঁর কবিতা “স্বাধীনতা” স্থান পেয়ে তরুণ কবি হিসেবে তিনি বিশেষ স্বীকৃতি অর্জন করেন।

জাবিরের প্রথম প্রকাশিত লেখা ছিল শিশু-কিশোর মাসিক পত্রিকা ‘নতুন কিশোর কণ্ঠ’-এর ২০১৯ সালের আগস্ট সংখ্যায়, যেখানে তিনি অনুশীলন বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেছিলেন। সেই সাফল্যই তাঁকে সাহিত্যের পথে আরও দৃঢ় করে তোলে।

শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত বৌশেরগড় গ্রামটি আজ যমুনার ভাঙনে বিলীন, তবু জাবিরের হৃদয়ে তা চিরজীবন্ত। তাঁর অনেক লেখায় ফিরে আসে সেই হারানো গ্রাম, শৈশবের সেই মাটি, নদী আর স্মৃতির মায়া।

বিজ্ঞান ও সাহিত্যচর্চার প্রতি জাবিরের গভীর অনুরাগ তাঁকে ভবিষ্যতের এক আলোকিত চিন্তাবিদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে—এমনটাই বিশ্বাস তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষীদের। সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তা পৌঁছে দিতে তিনি লেখাকে মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছেন, বিশেষত সায়েন্স ফিকশন তাঁর সবচেয়ে প্রিয় ক্ষেত্র, যেখানে তিনি নিয়মিত নতুন ভাবনা নিয়ে কাজ করছেন।

কুড়িতে এসে জাবির আহম্মেদ জিহাদ নতুন উদ্যমে সৃজনশীলতার পথে এগিয়ে চলেছেন। তাঁর প্রতি রইল শুভেচ্ছা ও শুভকামনা—যেন তাঁর চিন্তা, বিজ্ঞানমনস্কতা ও সাহিত্যপ্রেম আগামী প্রজন্মের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে ওঠে।