বিজয় কর রতন
কিশোরগঞ্জের হাওর অধ্যুষিত অষ্টগ্রাম উপজেলার কলমা ইউনিয়নের বিল মাকসা মৌজার নদীর প্রবেশদ্বার পলি পড়ে ভরাট হয়ে যাওয়ায় কৃষি কাজে মারাত্মক ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। এর ফলে প্রায় ৬ হাজার একর আবাদি জমিতে আসন্ন রবি মৌসুমে বোরো বীজতলা ও অন্যান্য রবি ফসল চাষ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, নদীর প্রবেশমুখ ভরাট হয়ে থাকায় জমির পানি স্বাভাবিকভাবে অপসারণ হচ্ছে না। এতে জলাবদ্ধতা দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে এবং জমি চাষাবাদের উপযোগী হয়ে উঠতে দেরি হচ্ছে।
শুধু তাই নয়, শুকনো মৌসুমে নদীর স্বাভাবিক পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় সেচ সংকট দেখা দেয়, ফলে প্রতি বছর কৃষকদের উৎপাদন ব্যাহত হয়। তারা জানান, নদী খননের মাধ্যমে পলি অপসারণ ও পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করা গেলে জলাবদ্ধতা ও সেচ সংকট—দুটো সমস্যাই সমাধান সম্ভব।
এ বিষয়ে স্থানীয় কৃষক ও জনপ্রতিনিধিরা অষ্টগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিতভাবে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন।
ইউএনও মোছাঃ দিলশাদ জাহান বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিয়ে উল্লেখিত স্মারক নং ০৫.৪১.৪৮০২.০০০.০০.০০০.২৪-৬৪ মূলে নির্বাহী প্রকৌশলী, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো), কিশোরগঞ্জকে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রেরণ করেছেন।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কিশোরগঞ্জ জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেন বলেন, “আমরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছি। খুব শিগগিরই সরেজমিনে তদন্ত করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রতিবেদন পাঠানো হবে।”স্থানীয় কৃষক সমাজ দ্রুত নদী খনন ও পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন, যাতে আসন্ন রবি মৌসুমে ফসল উৎপাদনে কোনো বাধা না পড়ে।

