
কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চল অষ্টগ্রামে ডিগ্রি পরিক্ষা দিয়ে ফেরার পথে মাঝ নদীতে আটকে পড়ে ৮০ শিক্ষার্থী। সোমবার (১৩ অক্টোবর) গভীর রাতে কুলিয়ারচর কেন্দ্র থেকে ফেরার পথে এ ঘটনাটি ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, নৌ পুলিশ ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীদের যৌথ অভিযানে ৭ ঘণ্টা পর শিক্ষার্থীদের নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পরীক্ষার্থীদের বহনকারী বড় একটি নৌকায় ছিল প্রায় ৮০ জন শিক্ষার্থী, যাদের মধ্যে অধিকাংশই ছাত্রী। তাদের সঙ্গে ছিল কয়েকজন শিশু। রাত গভীর হলে নৌকাটি দিক হারিয়ে অষ্টগ্রাম ও কুলিয়ারচরের মাঝামাঝি একটি চরে আটকে পড়ে। আতঙ্কিত শিক্ষার্থীরা ৯৯৯ ও অষ্টগ্রাম থানা পুলিশের সহায়তা চাইলে দ্রুত অভিযান শুরু হয়।
অষ্টগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রুহুল আমিনের নেতৃত্বে থানা পুলিশ, অষ্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিস এবং দুবাজাইল নৌ পুলিশ টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর নৌকাটি খুঁজে বের করে। পরে সবাইকে নিরাপদে তীরে আনা হয়। ওসি রুহুল আমিন বলেন, খবর পাওয়ার সাথে সাথে ৮টি স্পিডবোড নিয়ে অভিযান শুরু করি। প্রায় ২ ঘণ্টা অনুসন্ধানের পর নৌকাটি খুঁজে পাওয়া যায়। ভাগ্য ভালো, কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি।
উদ্ধার অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন অষ্টগ্রাম উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম শাহিন, উপজেলা ছাত্রদল সভাপতি তিতুমীর হোসেন সোহেল এবং রোটারি ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি তাকবির আহমেদ। এ ছাড়া স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরাও বোডে করে বিশুদ্ধ পানি ও বিস্কুট নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিক্ষার্থীদের সহায়তা করেন।
রোটারি ডিগ্রি কলেজের ছাত্রী শারমিন আক্তার বলেন, নৌকায় ছোট বাচ্চা ছিল, কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। আমরা ভীষণ আতঙ্কিত ছিলাম। সময়মতো উদ্ধার না পেলে বড় বিপদ হতে পারত।
আরেক পরীক্ষার্থী রাব্বি মিয়া জানান, “প্রতিবারই এই ঝুঁকির মধ্যে দিয়ে আমাদের যাত্রা করতে হয়। ডিগ্রি পরীক্ষার কেন্দ্র যদি অষ্টগ্রামে স্থায়ীভাবে নির্ধারণ করা না হয়, ভবিষ্যতে আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”
একজন অভিভাবক রোকেয়া বেগম বলেন, আমার মেয়ের সঙ্গে ৫ মাসের নাতি ছিল। সারারাত চোখের পানি থামেনি। এই পথ এখন আমাদের জন্য আতঙ্কের। শিক্ষার্থীরা দাবি করেছেন ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম উপজেলার ডিগ্রি পরীক্ষার কেন্দ্র স্থানীয়ভাবে অষ্টগ্রামে স্থায়ীভাবে নির্ধারণ করার। যাতে ঝুঁকিপূর্ণ নদীপথে আর যাতায়াত করতে না হয়।
ঘটনার পর হাওর এলাকায় শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। প্রতি বছর এভাবে শিক্ষার্থীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পরীক্ষা দিতে যাওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন নাগরিকরা।
সম্পাদক- আবদুর রহমান
০১৩০৩১১২৬৭৬
Web:https://bangladeshamar.com/ Email: doinikbangladeshamar@gmail.com
Address: F-8, KA-90,JHK WINDCEL, KURIL KAZI BARI,VATARA,DHAKA-1229.
Copyright © 2026 বাংলাদেশ আমার. All rights reserved.